প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *’পাগলা মিজান’ উ’লঙ্গ হয়ে পুলিশের হাতে ধ’রা দিয়েছিলেন*

*’পাগলা মিজান’ উ’লঙ্গ হয়ে পুলিশের হাতে ধ’রা দিয়েছিলেন*

135
*উলঙ্গ হয়ে পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছিলেন 'পাগলা মিজান'*

*ঢাকা উত্তর সিটি ক’র্পোরেশনের (ডি’এনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান। তাকে আজ ভারতের পা’লিয়ে যাওয়ার আগে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এই কাউন্সিলরের মূল নাম হাবিবুর রহমান। আর ডাক নাম মিজান। তবে এই দুটি নাম ছাপিয়ে তাকে ‘পাগলা মিজান’ হিসেবেই সবাই চেনে। তার এই নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি ঘ’টনা।*
*মোহাম্মদপুরের প্রায় সবাই এই ওয়ার্ড কাউ’ন্সিলরকে চেনেন ‘পাগলা মিজান’ হিসেবে। কথিত আছে, কয়েক দশক আগে একবার পুলিশের তা’ড়া খে’য়ে পুকুরে নেমেছিলেন মিজান। পরে গ্রেফতার এড়াতে পরনের পোশাক খু’লে রেখে তিনি পুকুর থেকে উঠে আসেন, সেই থেকে তার ওই নাম।*

*অভি’যোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হ’ত্যার উদ্দেশে তার বাসায় হা’মলা করেছিল যারা, সেই দলেরও একজন তিনি। অথচ সময়ের স্রোতে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। ভোল পাল্টে গেছে তার, পা’ল্টে গেছে নামটি পর্যন্ত।*
*তিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা; রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গড়ে তুলেছেন অপ’রাধ সাম্রাজ্য। মা’দক কারবার থেকে শুরু করে খু’ন-খা’রাবি পর্যন্ত নানা অপ’রাধমূলক কাণ্ডে তার নাম উঠে এসেছে বারবার।*

*সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মিজান ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুর এলাকায় শুরু করেন চাঁ’দাবাজি, ছি’নতাই। ছিন’তাইকারী হিসেবেই ১৯৭৪/৭৫ সালে তার বিশেষ পরিচিতি আসে। ১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি খামারবাড়ী খেজুরবাগান এলাকায় ছি’নতাই করার সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে লালমাটিয়ায় মসজিদের পাশে পুকুরে নেমে পড়েন।*
*পুলিশ তাকে বারবার নির্দেশ দিলেও তিনি পুকুর থেকে ওঠেননি। ৪-৫ ঘণ্টা পর তিনি পরনের কাপড় ছাড়াই উঠে আসেন। এমন আচরণে পুলিশ তাকে পা’গল বলে ছেড়ে দেয়। তখন থেকেই এলাকায় তার নাম ছড়িয়ে পড়ে পা’গলা মিজান নামে।*

*চলমান আই’ন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সন্ত্রা’সবিরোধী সাঁ’ড়াশি অভিযানের শুরুতে একাধিক খু’নের মাম’লা কাঁধে নিয়েও কিছুদিন তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান। তার নামে মোহাম্মদপুর থানায় ১৯৯৬ সালে ইউনূস হ’ত্যা, ২০১৬ সালে সাভার থানায় জো’ড়া হ’ত্যা মামলা রয়েছে। গত সপ্তাহে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক দল সন্ত্রা’সী একটি রিয়েল এস্টেটের ছয় কর্মীকে গু’লি এবং আরও ১৪ জনকে কু’পিয়ে জ’খম করে।*
*এ সময় সন্ত্রা’সীরা জুয়েল নামের একজনকে হ’ত্যা করে লা’শ তুরাগে ফেলে দেয়। এ হ’ত্যাকাণ্ডেও হাবিবুর রহমান মিজানের নাম উঠে এসেছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যা’ম্পে পুলিশের সঙ্গে ক্যা’ম্পবাসীর সংঘ’র্ষের নেপথ্যেও উঠে এসেছে তার নাম।*

*জানা গেছে, মিজান ক্যাম্পের বিদ্যুৎ লাইন থেকে ক্যাম্প-লাগোয়া কাঁচাবাজার ও মাছের বাজারের তিন শতাধিক দোকানে অবৈ’ধ সংযোগ দিয়ে মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করতেন। এ কারণেই বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে ক্যা’ম্পবাসীর ঝামেলার সূত্রপাত।*
*মা’দক কারবার থেকে শুরু করে খু’নখারাবি পর্যন্ত নানা অ’পরাধে বারবার উঠে এসেছে এই মিজানের নাম। কয়েকবার জেলে গেলেও অল্প সময়েই ফের বেরিয়ে এসে ‘হাল ধরেছেন’ নিজের অপ’রাধ সাম্রাজ্যের। ই’য়াবা ব্যবসা করেও কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার বিরু’দ্ধে ক্যা’সিনো ব্যবসায় জড়িত থাকারও অভি’যোগ রয়েছে।*