প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী আবদুল হাই ধরা পড়বেন?*

*সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী আবদুল হাই ধরা পড়বেন?*

157
*সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী আবদুল হাই ধরা পড়বেন?*

*ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যের পরদিনই ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ধরা পড়লেন। এখন খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এবার বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু ধরা পড়বেন কবে?*
*বেসিক ব্যাংক সরকারি খাতের একসময়ের সবচেয়ে ভালো ব্যাংক ছিল। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত নিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন শেখ আবদুল হাই। এর চেয়ে বড় জুয়া আর কী আছে। আর এ কারণেই হয়তো ক্যাসিনো-কাণ্ডের মূল হোতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের নামের সঙ্গে শেখ আবদুল হাইয়ের প্রসঙ্গটিও চলে এসেছে। পরে ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে পদত্যাগও করেছিলেন।*

*শেখ ফজলে নূর তাপস বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যসচিব ও সাংসদ। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে কিছু প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর একটি হচ্ছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কেন এখন পর্যন্ত সম্রাটকে আটক করা হয়নি?’ আরেকটি হচ্ছে, ‘বেসিক ব্যাংককে ডুবিয়েছেন আবদুল হাই বাচ্চু। আজ পর্যন্ত কেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেনি, তাঁকে আটক করেনি?’*

*ক্যাসিনো-কাণ্ডের শুরুতে যাঁদের ধরা হলো, তাঁদের কেউ আগে বিএনপি করতেন, কেউ অন্য দল। নানা স্বার্থে পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। সম্রাট অবশ্য দলেরই নেতা। কিন্তু আবদুল হাই তো কখনোই দলের কেউ ছিলেন না। তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। এরশাদ আমলে বাগেরহাট-মোল্লাহাট থেকে একবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাহলে তাঁর শক্তির উৎস কী? সম্ভবত এর উত্তর দুদক দিতে পারবে। কারণ, কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে শেখ আবদুল হাইয়ের কোনো দোষ খুঁজে পেল না তারা, তা কেবল দুদকেরই জানা।*

*এরপর বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতি নিয়ে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে বলা ছিল, ‘ব্যাংকের ঋণশৃঙ্খলা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে দেয়। ৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না।’*
*ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালের ২৯ মে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করে। তারপরও সরকার আবদুল হাইকে অপসারণ না ২০১৪ সালের ৬ জুলাই তাঁকে পদত্যাগের সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকেই বহাল তবিয়তে আছেন শেখ আবদুল হাই।*

*সে সময়ে অর্থমন্ত্রী ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি শেখ আবদুল হাইকে নিয়ে কথা বলা শুরু করেন ২০১৫ সাল থেকে। ওই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী হল-মার্ক কেলেঙ্কারি ও বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি নিয়ে বলেছিলেন, ‘জালিয়াতদের ধরতে বাধা নিজের দলের লোক।’ একই বছরের ৮ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেননা, ব্যাংকটিতে হরিলুট হয়েছে। আর এর পেছনে ছিলেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই।*