প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন *ছাত্রশিবির যেভাবে গি’লে ফেলে’ছে ছাত্রলীগকে*

*ছাত্রশিবির যেভাবে গি’লে ফেলে’ছে ছাত্রলীগকে*

14021
*যেভাবে ছাত্রলীগকে গিলে ফেলেছে ছাত্রশিবির*

*২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষ’মতায় আসার পর দলটির প্রধান মাথা ব্যা’থার কারণ হয়েছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ এই সময় একাধিক স’হিংসতা, সন্ত্রা’সসহ নানা অভি’যোগে জ’ড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বারবার ছাত্রলীগের পদ’স্থলনে উ’দ্বেগ ও ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন। এরপর আওয়ামী লীগে একাধিক কমিটি হয়েছে ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনু’সন্ধানের জন্য। প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব টিম দিয়ে অ’নুসন্ধান চা’লিয়েছে।*

*একাধিক গো’য়েন্দাসংস্থা ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিয়ে পর্যা’লোচনা করেছে। ছাত্রলীগের ব্যাপারে এই সমস্ত অনু’সন্ধান এবং রি’পোর্ট পর্যালো’চনা করে দেখা যায় ছাত্রলীগকে গিলে ফেলেছে ছাত্র শিবির। বিশেষ করে যুদ্ধা’পরাধীদের বিচার কা’র্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র শিবিরের কার্যক্র’মগুলো আস্তে আস্তে স্তি’মিত হয়ে যায়। এই সময় ছাত্র শিবির এবং ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগে অনু’প্রবেশ করে। অনুস’ন্ধানে দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাননে ২০১২ এর পর থেকে ছাত্র শিবিরের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রলীগে যোগদান করে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, ছাত্রশিবিরের পরিচয় গোপন রেখে নতুন শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ হিসাবে যোগদান করানো হয়েছে।*

*উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দ’লেই মা’রা গেছেন ৩৯ জন। ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ গেছে ১৫ জনের। যে ৩৯ জন ছাত্রলীগের অভ্য’ন্তরীণ কোন্দ’লে মা’রা গেছে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে এগুলোর পেছনে ছিল ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা। ছাত্রলীগের হাতে প্রা’ণ হারি’য়েছেন যে ১৫ জন, সেই হ’ত্যকাণ্ডর সঙ্গে যারা জড়ি’ত ছিলেন তারা কেউই ছাত্রলীগের প্রকৃত নে’তাকর্মী নন। তারা বিভিন্ন সময় ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে প্রবেশ করে এ ধরণের অপ’কর্মগুলো ঘটি’য়েছেন।*

*২০০৯ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দ’লের স্বীকার হন ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবুল কালাম আজাদ। তাকে ছাদ থেকে ফে’লে দিয়ে হ’ত্যা করা হয়। পরে এ নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ছাত্রশিবির থেকে আসা কিছু লোকজন এই ঘট’নাটি ঘ’টিয়েছে।*
*২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নসরুল্লাহ নাসিমকে হ’ত্যাকাণ্ডের পিছনেও ছাত্রশিবির থেকে আসা ছাত্রলীগ কর্মীদের ভূমিকা ছিল বলে একাধিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ছাত্রলীগের বিগত কমিটি গঠিত হওয়ার পর ছাত্রলীগের এই অনুপ্র’বেশকারীদের নিয়ে উ’দ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এই সময় দলের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আনু্ষ্ঠানিকভাবে এটাও বলেছিলেন যে, ছাত্রলীগের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছাত্রশিবির প্রবেশ করেছে।*

*অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, যুদ্ধা’পরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর ছাত্রশিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কর্মীদেরকে ছাত্রলীগে প্রেরণ করেন এবং নিজেদের সংগঠন গুটিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে থেকে বিভিন্ন অ’পকর্ম করার জন্য দলীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে জামাত-শিবিরের যারা নে’তাকর্মী, তারা তাদের সন্তানদের বা পরিচিত ছাত্রশিবিরদের ছাত্রলীগে অ’নুপ্রবেশ ঘটায়। এসমস্ত শিক্ষার্থীদের মূল কাজ হলো যে ছাত্রলীগ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থেকে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম পরিচালনা করা। আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেছেন যে কাউকে মে’রে ফেলা, র’গ কা’টার মতো বিষয়গুলো সারাদেশে ছিল ছাত্রশিবিরের সংস্কৃতি। এগুলো ছাত্রলীগের সংস্কৃতি নয়। কাজেই এ ধরনের সংস্কৃতি ছাত্রলীগে আমদানি হওয়াটা একটি বি’স্ময়কর ব্যাপার।*

*আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন যে, ছাত্রলীগের বিগত কমিটিতে প্রথম ছাত্রশিবিরের অনু’প্রবেশের ঘট’নাটি ব্যাপকভাবে আ’লোচিত হয়েছিল। শোভন রাব্বানীর যখন কমিটি হয় তখন এদেরকে বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা এতো শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেছিল যে তাদেরকে বা’দ দেওয়া সম্ভবপর হয়নি। এখনো ছাত্রশিবিরের একটি বড় অংশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দলের নেতৃত্বে আছে বলে অভি’যোগ পাওয়া গেছে।*
*শুধু ছাত্রশিবির নয়, ছাত্রদলেরও একটা বড় অংশের প্রবেশ ঘটে ২০১৪-১৫ সালে। এরাও ছাত্রলীগের মধ্যে প্রবেশ করে বিভিন্ন রকম অপ’কর্ম ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, ছাত্রলীগের শিবিরকরণের যে পরি’কল্পিত নী’লনকশা, সেটা যদি ভে’স্তে দেওয়া না হয় তাহলে ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।*

*ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, ক্ষুব্ধ ভিসিও*
*‘আবরারের অনা’কাঙ্খিত মৃ’ত্যু’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা চিৎ’কার করে ওঠে। সন্ধ্যা ৬টার পর নিজ কার্যা’লয় থেকে বের হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়ে’ট) উপা’চার্য (ভি’সি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি দাবি মেনে নেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া মানা সময় সাপেক্ষ বলে তিনি জানান। তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। উত্তে’জিত শিক্ষার্থীরা নানা প্রশ্ন করছিলেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন ছিল হত্যা’কাণ্ডের পর কেন উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বলেন, আমি ছিলাম। আমার সারাদিন কাজ করতে হয়েছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে। এই দাবি পেয়েছি। এই দা’বি নিয়ে কাজ করবো। রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছি। বিদেশে আছেন শিক্ষামন্ত্রী তার সঙ্গে কথা বলেছি। একটু আগেও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।’*

*ভিসি গুটিকয়েকজনের সঙ্গে বসার আহ্বান করলে তা প্রত্যা’খ্যান করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ভ’ন্ড বলে স্লো’গান দেয়। ক্ষু’ব্ধ হয়ে ভিসি চলে যান রুমে। আবার তালা মেরে দেয়া হয়ছে৷ শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা কেউ ক্যা’ম্পাস ছেড়ে যাবে না রাতে। যেকোনো মূল্যে ভিসিকে তাদের কথায় একমত হতে হবেই। তবে উপাচার্য নীতিগতভাবে একমত হলেও কবে দা’বি মেনে নিবেন তা বলেননি।*

*এর আগে শিক্ষার্থীরা বলেছিল, ভিসি তালাবদ্ধ থাকবে ততক্ষণ, যতক্ষণ না দাবি পূরণ হয়। যাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার। এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শিক্ষার্থীরা।*
*শুধু ছাত্রলীগ না, ক্যাম্পাস থেকে সকল ছাত্র সংগঠন নি’ষিদ্ধ চায় তারা। আন্দোলন চলবে। এর মধ্যে সকল দা’বি পুরণ না হলে ১৪ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করার হু’মকি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।*
*আর আজ থেকে ক্লাস, প্রশাসনিক সকল কাজ স্থ’গিত করেছে।*