প্রচ্ছদ রাজনীতি *যখন একজন দক্ষ সংগঠক ও জনদরদী নেতা সম্রাট*

*যখন একজন দক্ষ সংগঠক ও জনদরদী নেতা সম্রাট*

367
*যখন একজন দক্ষ সংগঠক ও জনদরদী নেতা সম্রাট*

*যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও দুদিন আগে। শুদ্ধি অভিযানের শুরুতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এরপর গ্রেপ্তার হন জি কে শামীম। তারপর গ্রেপ্তার হন রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শফিকুল আলম ফিরোজসহ অনেকে। সেসময় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এই গ্রেপ্তার, শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে উৎসাহিত করেছিল। তারা এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল।*

*কিন্তু সম্রাটের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ তৃণমূলের কর্মী সম্রাটের গ্রেপ্তারে দুঃখিত এবং হতাশ। সম্রাটের সম্বন্ধে যে সমস্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, তার বিপরীত চিত্র আছে বলে একাধিক আওয়ামী লীগের কর্মী জানিয়েছেন।*
*৫৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, সম্রাট ৫৬ নং ওয়ার্ডের (যেখানে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত) আওয়ামী লীগ এবং এর যতো অঙ্গসংগঠন রয়েছে, তার সকল নেতৃবৃন্দকে মাসিক টাকা দিতেন। সেই টাকা দিয়েই ঐ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা চলতো বলে একাধিক নেতা চলতো বলে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।*

*আওয়ামী লীগের একজন তৃণমূলের কর্মী বলেন যে, দলের অধিকাংশ নেতাই গত দশ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কর্মীদের খোঁজখবর নেন না, কর্মীদের কোনো সাহায্য সহযোগিতা করেন না। সেখানে সম্রাট ছিলেন একেবারে বিরল এবং ব্যতিক্রম। সম্রাট কি করে টাকা উপার্জন করতো সেটার চেয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সম্রাট নিয়মিত দলের বিভিন্ন স্তরের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অর্থসহায়তা করতো। অনেকের সংসারও চলতো সম্রাটের টাকায়। এখন সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ায় এই সমস্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।*

*আওয়ামী লীগের আরও বিভিন্ন সূত্র বলছে, শুধু ৫৬ নং ওয়ার্ডই নয়, সম্রাট আস্তে আস্তে ঢাকা মহানগরের নেতৃত্ব গ্রহণের দিকে এগোচ্ছিল। এজন্য সে ঢাকা মহানগরীর শুধু যুবলীগ নয়, বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিতেন, পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, তাদের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সহায়তা দিতেন।*

*আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা স্বীকার করেছেন যে, ঢাকা মহানগরীতে এখন সম্রাটের সাংগঠনিক দক্ষতাই সবচেয়ে বেশি ছিল। ঢাকায় যত জনসভা, আওয়ামী লীগ বা অন্য অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকায় কোনো জনসভা, সমাবেশ করতে গেলে সম্রাটের সহায়তা নিতে হতো। সম্রাটের নিজস্ব একটি গ্রুপ ছিল যারা বিভিন্ন জনসভায় কর্মীদেরকে নিয়ে আসতে পারতো।*

*বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্রাটের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নয়, সম্রাট বিভিন্ন দুস্থ এবং বিপদাপন্ন মানুষদের সহযোগিতা করতেন বলে বিভিন্ন স্থানীয় নেতাকর্মী জানিয়েছেন। সম্রাট প্রতিমাসে অন্তত ১ হাজার ব্যক্তির চিকিৎসার খরচ দিতেন বলে আওয়ামী লীগের একজন স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন। প্রতিদিন রাতে সম্রাট কাকরাইলে রাজমনি সিনেমা হলের কাছে প্রায় ১ হাজার দারিদ্রপীড়িত লোককে রাতের খাবার খাওয়াতেন বলেও একজন নেতা নিশ্চিত করেছেন।*

*তবে সম্রাটের এসব জনকল্যাণকামী এবং কর্মীবান্ধব কর্মসূচিকে আমলে নিতে চায় না আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন যে, লুটের টাকায় এসব মানবতা করার দরকার নেই। সবাই জানে যে সম্রাটের টাকার উৎস কি। কিন্তু এর জবাবে আওয়ামী লীগের একজন তৃণমূলের নেতা বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদে এই ১০ বছরে আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাই ফুলেফেঁপে উঠেছেন। কেউ দলের কর্মীদের কোনো খোঁজ নেননি। ঢাকা মহানগরীর সম্রাটই একমাত্র দলের কর্মীদের খোঁজখবর নিতো এবং বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়াতো। কিন্তু সম্রাটের এই সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা আড়ালে পড়ে গেছে তার ক্যাসিনো বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির কারণে।*

*আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন যে, ভালো সংগঠক হওয়ার জন্য চাঁদাবাজি করতে হয় না, ক্যাসিনো চালাতে হয় না। ভালো সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকলে কর্মীরা এমনি নেতার প্রতি অনুগত হয়। কিন্তু সম্রাট যেটা করেছে, সেটা রাজনীতিকে আরও কলুষিত করেছে, দুর্বৃত্তায়নকে আরও প্রাতিষ্ঠানিকরূপ দিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যেটাই বলুক না কেন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাদের মধ্যে ফিসফাস, আলোচনা এবং দীর্ঘশ্বাসই শোনা যায়।*