প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন *তবে কি আবরার হ’ত্যাকারীরা শিবিরকর্মী থেকে ছাত্রলীগ?*

*তবে কি আবরার হ’ত্যাকারীরা শিবিরকর্মী থেকে ছাত্রলীগ?*

1845
*তবে কি আবরার হত্যাকারীরা শিবিরকর্মী থেকে ছাত্রলীগ?*

*বাংলাদেশ প্র’কৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বু’য়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যাকাণ্ডে জ’ড়িত অন্তত ৩ জনের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। এদের মধ্যে রয়েছেন বুয়ে’ট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন।*
*এই ৩ জনের সঙ্গে জামায়াত এবং শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলের বাবা জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। রাসেলও কলেজ জীবনে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সময় ছাত্রশিবিরের যে অনুপ্রবেশ ঘটে সেসময়ই রাসেল ছাত্রলীগে ঢু’কে বলে একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের আত্মীয় স্বজন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত। এদের সঙ্গে শিবিরের সখ্যতা ছিল বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধির কোন পরিচয় নেই। তার কোন দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। সে যে দলেরই হোক না কেন আইন অনুযায়ী তার বি’রুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।*

*কেন নিখোঁজ বুয়েটের ভিসি?*
*আবরার ফাহাদ হ’ত্যার পর থেকেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের খোঁ’জ মিলছে না। আবরার মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও ঘটনাস্থলেই আসেননি। তিনি আবরারের নামাজে জানাযাতেও যগ দেননি। এমনকি ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।*

*গতকাল সোমবার থেকেই বুয়েটে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের শান্ত করতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার কিছু পরে ক্যাম্পাসে আসেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক (ডিএসডাব্লিউ) ড. মিজানুর রহমান। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরেন। ঘটনার জন্য তার ব্যর্থতা বিষয়ে প্রশ্ন করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। সেসময় শিক্ষার্থীরা বুয়েটের ভিসির বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মিজানুর বলেন, ‘সেটা ভিসি’কে বলতে পারেন – ভিসি আসবে কিনা এটা ওনার ব্যপার। তবে আমরা এখানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করব।’*

*এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সবার সামনেই উপাচার্যকে ফোন করেন ড. মিজানুর। কিন্তু উপাচার্য ফোন না ধরে লাইন কেটে দেন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।*
*উল্লেখ্য, গত রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ছাত্রলীগের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে আবরারের। এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল থেকেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।*