প্রচ্ছদ রাজনীতি *একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগে লিপ্ত আ’লীগের নেতা-কর্মীরা*

*একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগে লিপ্ত আ’লীগের নেতা-কর্মীরা*

124
*একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগে লিপ্ত আ'লীগের নেতা-কর্মীরা*

*শুদ্ধি অভিযানের পর থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড় চলছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে গৃহবিবাদ এখন প্রকাশ্য রুপ ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের শত্রু হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগই। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া শীর্ষ নেতা কেউই অভিযোগ থেকে বাদ পড়ছেন না। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অনেকে প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা পর্যন্ত দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করছেন।*

*তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এই সমস্ত নেতারা তাদের পরিচয় প্রকাশ করছেন। তবে কেউ কেউ পরিচয় গোপন করে শুধুমত্র তথ্য উপাত্ত দিচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন ব্যক্তি বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতারাই অন্য নেতাদের দুষ্কর্মের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে সবগুলো ফিরিস্তি যে সত্যি এমন নয়। আমরা এই তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করে দেখছি। কিছু কিছু তথ্যের সত্যতা রয়েছে। অধিকাংশ তথ্য ব্যক্তিগত কোন্দল এবং ক্ষোভ থেকে উৎসারিত। আওয়ামী লীগের ভিতর যে পুঞ্জীভূত কোন্দল এবং ক্ষোভ ছিল তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এইসব চিঠি থেকে।*

*১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের পর থেকেই দেখা যায় অভিযোগের স্তুপ আসছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে এমপিদের বিরুদ্ধে। এমপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বঞ্চিত এবং কোনঠাসা নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। কিন্তু বেশি অভিযোগ আসছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের কোনঠাসা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, মোটামুটি ৫টি ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সমস্ত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:*

*১. সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভূমিদখল, পুকুরদখল, অবৈধ স্থাপনা দখলসহ নানারকম দখলদারিত্ব কায়েম করা।*
*২. টেন্ডারবাণিজ্য করা, টেন্ডারবাণিজ্যকে মদদ দেওয়া, নিজেরাও টেন্ডারবাণিজ্যে জড়িয়ে পড়া, কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ ঠিকাদারের পক্ষে কাজ করা।*
*৩. নিয়োগ দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা।*
*৪. প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা, সুর্নির্দিষ্ট অপরাধীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের জন্য থানায় তদবির করা।*

*৫. আওয়ামী লীগের কমিটি বাণিজ্য, বিভিন্ন অনুপ্রবেশকারী, অন্য দলের লোকদের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করানো এবং তাদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা।*
*আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন যে, একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া সবার বিরুদ্ধেই কিছু না কিছু অভিযোগ এসেছে। এই অভিযোগগুলো সত্যি কি মিথ্যা, সেটা বড় বিষয় নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, এর মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির মধ্যে যে এতোদিন অন্তঃকলহ চাপা ছিল, শুদ্ধি অভিযানের মা্ধ্যমে সেই অন্তঃকলহ প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে।*
*জানা গেছে, ইতিমধ্যে অন্তত ২৬ টি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা সম্মিলিত চিঠি দিয়েছেন দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তারা এলাকার স্থানীয় এমপি এবং মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে চান।*

*আবার একইভাবে অনেক অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা তথ্যপ্রমাণসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এ ধরনের অভিযোগ থাকবেই। দলের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়েও প্রতিযোগীতা থাকবেই। কাজেই শুদ্ধি অভিযান মানেই আওয়ামী লীগের সবার বিরুদ্ধেই অভিযান- এমনটি নয়। এ সমস্ত অভিযোগগুলো যথাযথ আইনি কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করবে এবং সেই প্রেক্ষিতেই যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।*
*তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে যে শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, তার আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো নেই।*