প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন: বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস*

*বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন: বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস*

22
*বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন: বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস*

*শ্রম আয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্যতা হ্রাস পাচ্ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি যোগ হয়েছে। নিজেদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক।*
*সোমবার (৭ অক্টোবর) সংস্থাটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট’ নামে বিশ্ব ব্যাংকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১০-২০১৬ সময়ে ৮০ লাখ বাংলাদেশী দারিদ্র থেকে বেরিয়ে এসেছে, যার বেশিরভাগই সম্ভব হয়েছে জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সৃষ্টির মাধ্যমে। তবে দারিদ্র্য কমছে তুলনামূলক কম গতিতে। তবে ২০১০ সাল থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়লেও দরিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে গতি হ্রাস পেয়েছে বলেও জানানো হয়।*

*এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া সরকারের নীতি নির্ধারক, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তির মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশের কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ অফিস।*
*এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দারিদ্র্যের মাত্রা কমছে অসমভাবে। ২০১০ সাল থেকে দেশের পূর্ব এবং পশ্চিমের বিভাগগুলোর মধ্যে দারিদ্র পরিস্থিতির প্রথাগত পার্থক্য আবার ফিরে এসেছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে এবং রাজশাহী ও খুলনায় এই হার স্থিতিশীল রয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রামে দারিদ্র্য কমেছে পরিমিতভাবে এবং বরিশাল, ঢাকা ও সিলেটে এর মাত্রা দ্রুত কমেছে।*

*বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি মূল্যায়নে বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বিগত দশকে দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু, এখনও প্রতি ৪ জনের ১ জন দারিদ্র্য সীমার মধ্যে বসবাস করছে। বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ করতে হবে। বিশেষত দারিদ্র্যের নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।”*
*এ সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুসারে টেম্বন বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের ৯০ শতাংশই গ্রামে হয়েছে। শহরে দারিদ্র্য কমেছে সীমিত হারে এবং অতিদারিদ্র্য জনকগোষ্ঠীর মধ্যে শহরবাসীদের অংশ একই রয়ে গেছে। ফলে জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচনের গতি ধীর হয়েছে।*

*দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখা খাতগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করোতে গিয়ে তিনি বলেন, কৃষি নয়, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য কমাতে শিল্প ও সেবা খাত বেশি অবদান রেখেছে। আলোচ্যকালে কৃষি প্রবৃদ্ধি ধীর ছিল এবং আগের চেয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে কম অবদান রেখেছে। শহর অঞ্চলে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাত বিশেষত তৈরি পোশাক খাত দারিদ্র্য কমাতে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখেছে। এদিকে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানে ধীরগতির কারণে সুবিধা পেতে পারতান এমন পরিবারের অংশ কমে এসেছে। অন্যদিকে সেবা খাতে আত্ম-কর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে, যা নগর দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে।*

*অপরদিকে এই প্রতিবেদনটির প্রতিবেদক হিসেবে এর বিশ্লেষণে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও লেখক মারিয়া ইউজেনিয়া জেননি বলেন, এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা আলোচ্য ইস্যুগুলোর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, প্রথাগত বিভিন্ন চালিকাশক্তি দারিদ্র্য বিমোচনে ভুমিকা রাখছে কিন্তু অগ্রগতি আনার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।*
*তিনি বলেন, ‘আগামী দশকের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে, বাংলাদেশ এর নিজস্ব উদ্ভাবনী নীতি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি অধিকতর পরিশীলিত ও নগরায়িত অর্থনীতিতে দারিদ্র্য মোকাবেলা করা সম্ভব, সে বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হয়েছে।’*

*আলোচ্য প্রসঙ্গে জেননি বলেন, যেহেতু দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন ক্ষেত্র যেমন শহরের দারিদ্র্য এবং এক সময়কার দেশটির পূর্ব-পশ্চিম বিভাগের অবস্থার প্রথাগত পার্থক্য ফিরে এসেছে। এই প্রতিবেদনের মূল্যায়ন অনুযায়ী তাই প্রথাগত ও নতুন উভয় প্রক্রিয়া চলমান রেখেই বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’*