প্রচ্ছদ স্পটলাইট *ক্যাসিনোর টাকা বন্ধ, অর্থকষ্টে তারেক*

*ক্যাসিনোর টাকা বন্ধ, অর্থকষ্টে তারেক*

178
*ক্যাসিনোর টাকা বন্ধ, অর্থকষ্টে তারেক*

*বাংলাদেশের শুদ্ধি অভিযানের ঢেউ লেগেছে লন্ডনে। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এখন অর্থসংকটে ভুগছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে যারা ক্যাসিনো, টেন্ডার এবং অনলাইন ক্যাসিনো বাণিজ্য করেছে তারা সবাই নিয়মিত তারেককে টাকা পাঠাতেন। এই টাকাতেই তারেক নিয়মিত চলতো। এখন ক্যাসিনো সম্রাজ্য লণ্ডভণ্ড এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাফিয়াদের গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তারেক অর্থকষ্টে ভুগছে।*

*গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে যে, এ পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযানে যারা আটক হয়েছে তাদের অন্তত ৩ জন তারেককে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। এদের মধ্যে ছিলেন মোহামেডান ক্লাবে ডায়রেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। যিনি একসময় মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর ক্যাডার ছিলেন। খালেদা জিয়ার বডিগার্ড ছিলেন। তিনি লন্ডনে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারেক জিয়াকে লন্ডনে তিনি একটি বিএমডব্লু গাড়িও উপহার দিয়েছিলেন। প্রতিমাসে লোকমান হোসেন ভুঁইয়া তারেক জিয়াকে কতটাকা দিতেন সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিতর্ক আছে। গোয়েন্দাদের ধারণা বাংলাদেশি টাকার ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা তারেক জিয়াকে দেওয়া হত।*

*লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বাংলাদেশে প্রথম ক্যাসিনো সামগ্রী আনা শুরু করেন। তারেকের প্রতিষ্ঠান হোয়াইট ব্লু কনসাল্টিং ফার্মের মাধ্যমেই এই ক্যাসিনোগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে। লোকমান হোসেন ভুঁইয়ার পরামর্শেই ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ হোসেন ভুঁইয়াসহ বিভিন্ন যুবলীগ নেতৃবৃন্দ মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা শুরু করেছিল। এ সমস্ত রমরমা ব্যবসার একটি বড় অংশ পেতেন লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। সেখান থেকে একটি বড় অংকের টাকা তিনি তারেককে পাঠাতেন।*

*শুদ্ধি অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে টেন্ডার মাফিয়া জি কে শামীম। একময় যুবদলের নেতা ছিলেন এই জি কে শামীম। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানিয়েছেন, তিনি প্রতিমাসে তারেককে ১ কোটি টাকা দিতেন। তারেককে যে টাকা পাঠাতেন এ ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ এখন গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারেকের এই টাকা প্রাপ্তিও বন্ধ হয়ে গেছে।*
*শুদ্ধি অভিযানে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানও আটক হয়েছেন। সেলিম প্রধানের হিসাবপত্র জব্দ করে দেখা গেছে যে, সেলিম প্রধান প্রতিমাসে এক থেকে দেড় কোটি টাকা লন্ডনে পাঠাতেন। অনলাইন ক্যাসিনোর যে বাণিজ্য, এই বাণিজ্যে সেলিম প্রধানের অন্যতম পার্টনার ছিলেন তারেক জিয়া।*

*উল্লেখ্য যে, সেলিম প্রধান ছিলেন গিয়াসউদ্দীন আল মামুনের বন্ধু। সেই সূত্রে তারেক জিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রতিমাসেই এই অনলাইন ক্যাসিনোর যে টাকা, সেই টাকার একটা অংশ লন্ডনে পৌঁছে যেত। তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, এই টাকা যে তারেক জিয়ার কাছে যেত সে ব্যাপারে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে।*

*শুধু তাই নয়, শুদ্ধি অভিযানের ঢেউয়ে অন্য যারাও বাংলাদেশ থেকে তারেককে অর্থ পাঠাতেন। সেই অর্থ পাঠানো আপাতত বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে যারা হুন্ডির ব্যাবসায়ীরা এখন অনেক সতর্ক অবস্থায় আছেন। কারণ অধিকাংশ হুন্ডির ব্যবসায়ীরাই গোয়েন্দা নজড়দারীতে চলে এসেছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে তারেকের কাছে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ যেত তা দিয়ে তারেক বিত্ত বৈভবে জীবন কাটাতো তাতে টান পড়েছে। এখন নতুন কেউ অর্থ দিচ্ছে না। একইসঙ্গে লন্ডনে তারেকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ টাকার উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে। এই অবস্থায় তারেক জিয়া অর্থকষ্টে ভুগছেন বলে লন্ডন থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।*

*একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েকদিনে তারেক জিয়া বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করেছেন। কারা আটক হচ্ছেন, কারা আটক হয়েছেন এই সমস্ত ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।*
*গোয়েন্দা তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে যে অপরাধ জগৎ তার সঙ্গে তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বহু আগে থেকে। এই অপরাধ জগৎ থেকে তারেক জিয়া প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণে অর্থ পেতেন। শুদ্ধি অভিযানের ফলে তারেক জিয়ার সেই অর্থপ্রাপ্তি বন্ধ হয়ে গেছে।*