প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *কেন এখন পর্যন্ত ইসমাইল চৌধুরীকে আ’টক করা হয়নি: তাপস*

*কেন এখন পর্যন্ত ইসমাইল চৌধুরীকে আ’টক করা হয়নি: তাপস*

581
*সম্রাটকে গ্রেফতারে কারা বাধা দিচ্ছে- খুঁজে বের করতে হবে: তাপস*

*ভারত সফরে কী পেল বাংলাদেশ?*
*নরেন্দ্র মোদি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারই প্রথম দিল্লি সফর করছেন। এই সফরে অনেকগুলো কারণেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকটি ছিল গুরুত্ববহ। বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সাধারণ মানুষই এই বৈঠক শেষে কী ফল আসে তা দেখার প্রত্যাশায় ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠক শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতাই হয়ে রইলো। গতানুগতিকভাবে তিনটি প্রকল্প এবং ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ছাড়া এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।*

*এই বৈঠকের মাধ্যমে গতানুগতিকভাবেই ভারত আস্বস্ত করেছে যে, তিস্তা নদীর পানির বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। এনআরসি’র বিষয়েও ভারত একই সুরে বলেছে যে, এটা নিয়ে বাংলাদেশের আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।*

*উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারত সফর করেছিলেন। কিন্তু সে সফর ছিল উষ্ণতা এবং আন্তরিকতায় মাখা। সেই সফরে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সেই তুলনায় এবারের সফর একেবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে এবং আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। যদিও ২০১৭ সালের চেয়ে এ বছর ভারত সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশার মাত্রা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে আসামের নাগরিকপঞ্জীর বিষয়ে ভারতের সুস্পষ্ট অবস্থান কী হবে, বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাবে কিনা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান কী; এই তিনটি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই তিনটি বিষয়ের একটিতেও ভারত ইতিবাচকভাবে সাড়া দেয়নি। বরং তারা ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করার মতো সান্ত্বনাসূচক বাণী দিয়েছে।*

*ভারত সফরের কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি করা হয় ভারতে। তা সত্ত্বেও ইলিশ পেয়ে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর খোঁচায় ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়টি নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। কিন্তু মোদি-হাসিনা বৈঠকে পেঁয়াজের ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।*

*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যতবার ভারতে গেছেন, তারমধ্যে এবারই বোধয় সবচেয়ে কম অর্জন করে দেশে ফিরছেন তিনি। কারণ এর আগের প্রত্যেকটি সফরে কখনও তিনি পদ্মার পানিচুক্তি, কখনও পার্বত্য শান্তিচুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, সমুদ্রসীমা নির্ধারণসহ বহু অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করেছেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর ভারতের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যিনি অর্জন করেছেন তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*উল্লেখ্য যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর ভারত সফরে গিয়ে যা অর্জন করেছিলেন তা এখনও কেউ ম্লান করতে পারেনি। তিনি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ভারতীয় সৈন্যদলকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছিলেন। তাঁর কারণেই ২৫ বিঘা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে তিনি পারস্পারিক মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন।*

*বঙ্গবন্ধুর বিদায়ের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নানারকম টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর কেউই ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি দাওয়াগুলোকে আদায় করতে পারেনি। ৯৬ সালে দায়িত্বগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তিচুক্তি, গঙ্গার শান্তিচুক্তিসহ একাধিক অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতা করেন এবং সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যান। কিন্তু দ্বিতীয়বার নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতাগ্রহণের পর ভারত বেশি আধিপত্যবাদী এবং হিন্দুত্ববাদী হয়ে উঠছে বলে মনে করছে ভারতের ভেতরেরই বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল মহল। সেই বিবেচনায় এবার ভারত সফরটা ছিল বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।*

*বিশেষ করে ভারত সফরের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সফর থেকে অনেক কিছুই বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা হয়তো কৌশলী হয়ে এবার সফরে কোনোকিছুকেই চূড়ান্ত করেননি, বরং দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যেন টানাপোড়েন এবং অস্বস্তি তৈরি না হয়, সেটা বজায় রেখেছেন। এটা হয়তো একটা বড় অর্জন। কারণ ভারতের সাথে এখন বাংলাদেশ ছাড়া কোনো প্রতিবেশীরই সুসম্পর্ক নেই।*

*খুঁজে বের করতে হবে, সম্রাটকে গ্রেফতারে কারা বাধা দিচ্ছে: তাপস*
*বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কেন এখন পর্যন্ত সম্রাটকে (যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট) আটক করা হয়নি। কেন এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে।* *তাকে বাঁচানোর জন্য কারা ষড়যন্ত্র-পাঁয়তারা করছে? এগুলো আমাদের দেখতে হবে।* *গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।* *সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।*

*শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, বেসিক ব্যাংক ডুবিয়েছেন আবদুল হাই বাচ্চু। আজ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি।* *প্রশ্ন জাগে, মশা মারতে সিটি করপোরেশনের এই ব্যর্থতা কেন?* *মশা মারতে ওষুধ ক্রয়ের অর্থ কাদের পকেটে গেছে?* *কে বা কারা প্রকল্পের ২০ ভাগ অর্থ আগেই পকেটস্থ করে?* *কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারের পেছনে কারা এই ষড়যন্ত্রকারী, তা খুঁজে বের করতে হবে।*

*সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ দুর্নীতিগ্রস্ত খালেদা জিয়া ও তারেকের বিচার করে কার্যত দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন।* *তার এ ধারাকে অব্যাহত রেখে দুর্নীতিবাজদের বিচারে চলমান অভিযানকে সহায়তা করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।* *সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন, এতে পুরো জাতি তার পাশে রয়েছে।* *যারা সুশাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তাদেরও তিনি আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন। আমরা অবশ্যই এর প্রশংসা করি।*

*সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী প্রমুখ।*