প্রচ্ছদ রাজনীতি *আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ঝরে পড়ছেন অর্ধেকের বেশি সদস্য*

*আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ঝরে পড়ছেন অর্ধেকের বেশি সদস্য*

449
*আ'লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ঝরে পড়ছেন অর্ধেকের বেশি সদস্য*

*আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কাউন্সিলের যাবতীয় প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। কাউন্সিলের আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সুস্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন, বিতর্কিত এবং অনুপ্রবেশকারী কাউকে দলে রাখা হবে না। স্থানীয় পর্যায়ের যেমন শুদ্ধি অভিযান চলছে, তেমনি কেন্দ্রীয় কমিটিতেও শুদ্ধি অভিযান চলছে।*

*একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি নিজস্ব টিম কেন্দ্রীয় কমিটিতে কারা থাকতে পারে না পারে, সে ব্যাপারে কাজ করছে। এর মধ্যে তারা কিছু খসড়া তালিকাও তৈরি করেছে। এই তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় অর্ধেকের বেশি সদস্য আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন। তবে এটি অবশ্য চূড়ান্ত করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী বছর থেকে মুজিববর্ষ। এজন্য এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরেকবার দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। যদিও এবার তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালনে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আস্তে আস্তে অবসরের পথে পা বাড়াতে চাইছেন। কিন্তু মুজিববর্ষের কারণেই হয়ত শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়তে পারবেন না।*
*ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়ত ওবায়দুল কাদেরই দ্বিতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বহাল থাকবেন। তবে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বহাল থাকলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।*

*জানা যাচ্ছে যে, বার্ধক্যজনিত কারণে এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যের অর্ধেকের বেশি এবার বাদ পড়তে পারেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শ্রী পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, শ্রী রমেশচন্দ্র সেনের মতো প্রবীণরা প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ পড়তে পারেন। আবার বিতর্কের কারণেও কিছু প্রেসিডিয়াম সদস্য বাদ পড়তে পারেন।*
*আওয়ামী লীগকে নতুন নেতৃত্বের জন্য তৈরি করতে প্রেসিডিয়ামেও অপেক্ষাকৃত নতুন এবং তারুণ্যের প্রাধান্য দেখা যেতে পারে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীতে প্রধানমন্ত্রীর একক এখতিয়ার। এই উপদেষ্টা মণ্ডলী নিয়ে ইতিমধ্যে নানারকম আলোচনা চলছে। উপদেষ্টা মণ্ডলীতে একই মানের এবং একই উচ্চতাসম্পন্ন লোক নেই বলেও অনেকে অভিযোগ করছেন। সেই ক্ষেত্রে উপদেষ্টা মণ্ডলীকেও ঢেলে সাজাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এবার উপদেষ্টা মণ্ডলী থেকে অনেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে চান বলে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন।*
*আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের পুরো তালিকাই নতুন করে লেখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে ৪ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছেন, তারা হয় প্রেসিডিয়ামে যাবেন, নয়তো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বাদ পড়বেন।*

*এছাড়া, সম্পাদক মণ্ডলীতেও পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে অর্থ সম্পাদক হিসেবে থাকা টিপু মুনশি মন্ত্রী হওয়ায় তিনি যে বাদ পড়ছেন তা অনিবার্য। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদও থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। মন্ত্রী হওয়ার কারণে আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমও এবার থাকছেন না বলে নিশ্চিত। তথ্য গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেনের পদোন্নতি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একই ভাবে পদোন্নতি হতে পারে শ্রী সুজিত রায় নন্দীর।*

*এছাড়াও আরও অন্যান্য সম্পাদক মণ্ডলীর পদের ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই ভাবে সাংগঠনিক সম্পাদকেও একটা বড় ধরনের ঝাঁকুনি হবে এবারের কাউন্সিলে, এমন ধারণাই পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অপেক্ষাকৃত তরুণ, প্রাক্তন ছাত্রলীগ বা যুবলীগ থেকে আসা সৎ, নিষ্ঠাবান এবং অবিতর্কিতদের স্থান করে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।*

*সদস্যপদেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা সর্বশেষ দলের কার্যনির্বাহী বৈঠকে নতুন নেতৃত্বের তিনটি সুর্নির্দিষ্ট বৈঠকের কথা বলেছেন। প্রথমত তাদের সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দলের জন্য ত্যাগী এবং পরীক্ষিত হতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা চলবে না। দ্বিতীয়ত, আগামীদিনের নেতৃত্ব নিতে সক্ষম- এরকম তরুণ, মেধাবী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষদেরকে উৎসাহিত করা হবে। তৃতীয়ত, দল এবং সরকারকে আলাদা করা হবে। যারা সরকারে থাকবেন, তাদের দলের নেতৃত্ব থেকে পারতপক্ষে আস্তে আস্তে সরিয়ে ফেলা হবে। যেন সরকারকে দল জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে।*

*এরকম একটি চিন্তাভাবনার আলোকেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের নেতৃত্বের যাচাই বাছাইয়ের কাজটি এখন থেকেই চলছে বলে জানা গেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদটি সাধারণত ভোটের মাধ্যমে হওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে দলের কাউন্সিল যাদের দায়িত্ব দেবেন, কাউন্সিল যেভাবে মনে করবে, সেভাবেই সিদ্ধান্ত হবে। প্রতিবছরই কাউন্সিল দলের কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সভাপতিকেই প্রদান করে। এবারেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*