প্রচ্ছদ প্রবাস *অনুনয় বিনয় করেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেলেন না বিতর্কিতরা*

*অনুনয় বিনয় করেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেলেন না বিতর্কিতরা*

2466
*অনুনয় বিনয় করেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেলেন না বিতর্কিতরা*

*এক সপ্তাহ নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের মধ্যে এবার সবচেয়ে আলোচিত এবং আলোকিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন বৈঠক ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সময় দিতে হয়েছে। নানা সংগঠনের সংবর্ধনা গ্রহণ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দম ফেলার ফুরসত ছিল না তার। কিন্তু এই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি চেয়েছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিতে। কিন্তু শেখ হাসিনা পর্যন্ত তারা পৌঁছতে পারেননি।*

*অবশ্য তারা শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কারো কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাদেরকে শেখ হাসিনার সঙ্গে এক মিনিটের সাক্ষাৎকারের জন্য অনুনয় বিনয় করেছিলেন। কিন্তু যাদের সঙ্গে এদের সাক্ষাৎ হয়েছিল তারা কেউই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বার্তা পৌঁছে দেননি বা দেওয়ার সাহস পাননি।*
*যারা শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ এবং প্রিয়া সাহা। এরা ৩জনই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এখন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে নিউইয়র্কেই অবস্থান করছেন।*

*সেখানে তিনি একটি বাড়ি কিনেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায় দেন এবং এই রায়ের পেছনে তার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি একটি জুডিশিয়াল কু’য়ের মাধ্যমে সরকার হটানোর ষড়যন্ত্রের অন্যতম হোতা ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতি এবং নৈতিক স্থলনের অভিযোগ আসে তখন তিনি চিকিৎসার জন্য প্রথমে অস্ট্রেলিয়া ও পরে সিঙ্গাপুরে যান। সিঙ্গাপুর থেকে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। পদত্যাগ করার পর থেকে এই বিচারপতি নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে বসে তিনি একটি বইও লিখেছেন। বইটিতে সরকারের বিরুদ্ধে একগাদা মিথ্যে অভিযোগ এনেছেন।*

*কিন্তু এসব বই পুস্তক লিখেও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন রকম সহানুভূতি আদায় করতে পারেনি। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ভারতের কাছেও সরকার বিরোধী নানা রকম নালিশ করেছিলেন। তাতেও তিনি সুবিধা করতে পারেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি রাজনৈতিক লাভের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনটি এখন পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। যেকোন সময় এটি নাকচ হয়ে যেতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এই অবস্থায় এবার প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ সংকটের সুযোগ খুঁজছিলেন সিনহা। যেন প্রধানমন্ত্রীর হাত পা ধরে হলেও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন।*

*সিনহা তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যেতে পারলেই তিনি ক্ষমা পাবেন। তিনি আবার দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।*
*মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন প্রিয়া সাহা। সেখানে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে বেশ কিছু মনগড়া অবাস্তব অভিযোগ করেছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নীপিড়ন নির্যাতন হচ্ছে এমন সব অভিযোগ করে তিনি বিতর্কের সৃষ্ট করেছেন।*

*যদিও এই সমস্ত বক্তব্য যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে দিয়েছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লন্ডনে তার চোখের চিকিৎসার জন্য। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়ে দেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্যের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ না করে প্রিয়া সাহা আমেরিকাতেই অবস্থান করছেন।*
*জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যখন নিউইয়র্ক সফর করেন তখন তিনি নিউইয়র্কেই ছিলেন। কিন্তু তিনি চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি তারও।*

*দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। মঈন ইউ আহমেদ অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও সরকারের বিরুদ্ধে তার কোন বক্তব্য বা অবস্থান নেই। বরং তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের জন্য সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততার জন্য সেই সুযোগটি তার পাননি।*
*তবে নিউইয়র্কে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের দু:সময়ের কাণ্ডারি বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।*