প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *যুবলীগ নেতা খালেদ ৩২ নম্বরে হামলায় জড়িত*

*যুবলীগ নেতা খালেদ ৩২ নম্বরে হামলায় জড়িত*

438
*৩২ নম্বর বাড়িতে ফ্রীডম পার্টির হামলায় ক্যাসিনো খালেদ জড়িত ছিলেন*

*খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ১৯৮৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ছিলেন।* *ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার সময় সশরীরেই উপস্থিত ছিলেন তিনি।* *তার যোগসূত্র তৎকালীন ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে।* *ওই হামলা মামলাসহ আরও অনেক আলোচিত হত্যা মামলার আসামি হয়েও কখনই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি তাকে।* *তার বাবা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ছিলেন একজন প্রভাবশালী আইনজীবী।* *তিনি ছেলেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন প্রতিবারই।*

*এরপর আবার ভোল পাল্টে, অর্থ আর ক্ষমতার জোরে বাগিয়ে নেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও।* *মালিক হন অঢেল সম্পদের।* *তবে শেষ রক্ষা হয়নি অবশেষে।* *রাজধানীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের হাতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আটক হন তিনি।* *অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফ্রিডম পার্টির হামলায় অংশ নিয়েছিলেন খালেদ।* *এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় হাবিলদার জহিরুল হক বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা করেন।*

*দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।* *এ মামলায় মানিক-মুরাদসহ ফ্রিডম পার্টির ১১ জনের সাজা হলেও বেঁচে যান খালেদ।* *যদিও ওই ঘটনার পর অস্তিত্ব পায়নি মর্মে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।* *পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে মামলাটি পুনরায় তদন্ত শুরু করে সিআইডি।* *১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার খালেক উজ্জামান ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।* *এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।*

*সিআইডির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ১১ নম্বর পৃষ্ঠায় দেখা যায়- আসামি তালিকায় খালেদ অলিভি নামে একজনের নাম আছে।* *যাকে ১৯৯১ সালে সূত্রাপুর থানার একটি মামলার রেফারেন্সে মৃত দেখানো হয়েছে।* *প্রতিবেদনে উল্লিখিত মৃত ৩ আসামির মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হলেও খালেদ অলিভি ও অন্যজন ঠিক কীভাবে মারা গেল তা বলা হয়নি।* *সূত্রাপুর থানাতেও নেই খালেদের মৃত্যু সংক্রান্ত নথি।* *১৯৯৪ সালে শাহজাহানপুর কলোনির আলোচিত পলাশ হত্যা মামলায় আসামির তালিকাতেও পাওয়া যায় খালেদের নাম।* *কিন্তু সেখানে মেলেনি পিতার নাম ও ঠিকানা।* *এখানেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন খালেদ।*

*একাধিক মামলায় শাহজাহানপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার মানিকের সঙ্গে খালেদ নামটিও এসেছে।* *আর সে সময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী মানিকের ছায়াতেই সন্ত্রাসী হিসেবে বেড়ে ওঠেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।* *তার এক বিশ্বস্ত কর্মচারী মোহাম্মদ আলী জানান, বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলার ঘটনায় খালেদ জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানেন।* *একদিন খালেদের বাবা তাকে বলেছিলেন- তিনি আইনজীবী হয়েছিলেন বলেই ছেলের ওইসব মামলা গায়েব করতে পেরেছিলেন।* *জানা যায়, শুধু ওই দুই মামলাতেই নয়, আরও অনেক মামলায় খালেদের নাম এলেও তাকে কখনই বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।* *তার বাবা ছিলেন বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।* *১৯৯১ সালে সূত্রাপুর থানায় করা মামলায় নিহত ব্যক্তি অলিভির নামের আগে খালেদ জুড়ে দেওয়া হয়।* *ফলে ১৯৮৯ সালের মামলার আসামি খালেদের অস্তিত্ব সুকৌশলে মুছে ফেলা হয়।*

*যা ঘটেছিল সেই রাতে: ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন।* *আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখন দোতলার কক্ষে অবস্থান করছেন।* *ভবনের বারান্দা, নিচতলার বিভিন্ন কামরা, বারান্দা, বাগানে অসংখ্য নেতা-কর্মী।* *কেউ ঘুমিয়ে আছেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক আলাপে ব্যস্ত।* *হঠাৎ বোমার বিকট শব্দ। বঙ্গবন্ধু ভবনের মূল ফটকের সামনেই ধোঁয়ার কুণ্ডলী।* *এরপরই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ।* *ভবনের সামনে ১৫/২০ জন অস্ত্রধারী।* *বঙ্গবন্ধু ভবনের নিরাপত্তারক্ষীরাও প্রাণপণ যুদ্ধ শুরু করে।* *নিরাপত্তারক্ষী হাবিলদার জহিরুল হক ও কনস্টেবল জাকির হোসেন সেই হামলা প্রতিহত করে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যাকে।*