প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *ইতিহাস থেকে: বাংলাদেশের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের গডফাদাররা*

*ইতিহাস থেকে: বাংলাদেশের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের গডফাদাররা*

907
*ইতিহাস থেকে: বাংলাদেশের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের গডফাদাররা*

*সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, সেই অভিযানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ক্যাসিনো। মতিঝিলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি বাড়িতে বাড়িতেও ক্যাসিনো পাওয়া যাচ্ছে। যারা ক্যাসিনো পরিচালনা করছে তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যে, যারা আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ক্যাসিনোগুলো পরিচালনা করছে তারা শুধু পরিচালক মাত্র। তাহলে এদের গডফাদার কারা?*

*গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অনেকের কাছ থেকে আবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যে ক্যাসিনো সাম্রাজ্য রয়েছে, সেই সাম্রাজ্যের কিছু গডফাদার রয়েছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, যারা গডফাদার, যারা এর নেপথ্যে রয়েছেন, ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের মূল অর্থ যারা পাচ্ছেন, তার কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এরা সবাই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত।*

*অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে যে ক্যাসিনো সাম্রাজ্য, সেই সাম্রাজ্যের মূল গডফাদার হলেন তারেক জিয়া। এদেশে যত ক্যাসিনো এসেছে, তা সব এসেছে তারেক রহমানের হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসাল্টেন্সের মাধ্যমে। ক্যাসিনোর মাধ্যমে আয়ের মূল ধারণাটিও তারেক রহমানের।*

*আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া স্বীকার করেছেন, ক্যাসিনো দিয়ে যে আয় উপার্জন করা সম্ভব সেই ধারণাটি প্রথম তিনি পান তারেক জিয়ার কাছ থেকে। ২০১৬ তে লোকমান লন্ডনে গিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তখন তারেক রহমান সারাদেশে ক্যাসিনো ছড়িয়ে দিয়ে আয়ের একটি পথ বাতলে দেন। সেই আলোকে প্রথম মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো আসে। ক্যাসিনো পরিচালনায় এ পর্যন্ত তারেক রহমানের সঙ্গে আরও ৫ জন গডফাদারের খোঁজ পাওয়া গেছে। তারেক রহমান ছাড়াও আরেকজন অন্যতম গডফাদার হলেন লুৎফুর রহমান বাদল। এই বাদল একসময় মোসাদ্দেক আলী ফালুর ক্যাডার ছিলেন। ফালুর মাধ্যমেই তিনি আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালক হয়েছিলেন। বাদলের বিরুদ্ধে যখন মানিলন্ডারিং মামলা আসে তখন তিনি পালিয়ে নেপালে চলে যান। নেপালে তিনি এখন একটি ব্যাংকের মালিক।*

*বাংলাদেশে ক্যাসিনো সাম্রাজ্যে যত নেপালীদের আগমন, তার সবই বাদলের সরবরাহকৃত বলে জানা গেছে। বাদলের সঙ্গে চুক্তি ছাড়া কোনো নেপালী বাংলাদেশে আসেনি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে নেপালীরা যে বাংলাদেশে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য আসেন, আসার আগে তাদের একটি মোটা অংকের টাকা গ্যারান্টি দিতে হয়। এখানে যদি তার কোনো ক্ষতি হয় বা সে যদি কোনো কারণে ব্যবসা করতে না পারে তাহলে তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ কে দেবে তার নিশ্চয়তা আগে চায় নেপালের ক্যাসিনো পরিচালনাকারীরা। সেই নিশ্চয়তাপ্রদানকারী হলের লুৎফর রহমান বাদল। বাদলের সঙ্গে তারেক রহমানেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।*

*অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, বাংলাদেশে ক্যাসিনো আনা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে তারেক রহমান এবং লুৎফর রহমান বাদল গডফাদার হলেও বাংলাদেশে ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠা করা, বিভিন্ন ক্লাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কীভাবে সেটা আয়বর্ধক একটি ব্যবসায় পরিণত করা যায়, সেটার পরামর্শ দিয়েছিলেন সাদেক হোসেন খোকা এবং মোসাদ্দেক আলী ফালু। মতিঝিলের ক্লাবপাড়া সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির যারাই মতিঝিল এলাকায় রাজত্ব করেন, তাদের সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার সুসম্পর্ক রয়েছে। কারণ এই মতিঝিল এলাকায় খোকার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। সম্রাট কিংবা খালেদ, এরা সবাই সাদেক হোসেন খোকাকে নেতা মানেন। এই কারণেই সাদেক হোসেন খোকাকে কেউ কখনো স্পর্শ করতে পারেনি।*

*জানা গেছে যে, এই ক্লাবগুলোর সবই খোকার নিয়ন্ত্রণে। খোকার লোকজনই এসব ক্লাবের আসল চাবিকাঠি। তাই ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট বা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ারা যখন ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তখন সাদেক হোসেন খোকার সহায়তা ছাড়া এই ক্যাসিনো পরিচালনা করা সম্ভবপর ছিল না। খোকা এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করলেও মতিঝিল এলাকার কলকাঠিটি খোকাই নাড়েন। তাই খোকা হলো ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের অন্যতম গডফাদার।*

*মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর প্রতিনিধি হলেন লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। যার মাধ্যমে মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো, আর এটাই বাংলাদেশের প্রথম ক্যাসিনো। প্রথম ক্যাসিনো বাণিজ্যের জন্য প্রথমেই দরকার ছিল একটি বড় রকমের বিনিয়োগ। কিন্তু লোকমানের সেই বিনিয়োগ ছিল না। মোহামেডান ক্লাবের তখন তাতে ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠার মতো আর্থিক অবস্থা ছিল না। এই বিনিয়োগের টাকা জুগিয়েছিলেন দুবাইতে পলাতক বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ মোসাদ্দেক আলী ফালু।*

*এরাই হলেন ক্যাসিনো বাণিজ্যের গডফাদার। ক্যাসিনো থেকে যা বাণিজ্য হয়, বিভিন্ন খাতে সেই উপার্জিত টাকা দেওয়ার পর যে মোটা অংকের লভ্যাংশ থাকে, সেটা এরাই পান। আরও অনুসন্ধান করছেন গোয়েন্দারা। এই অনুসন্ধানের পরেই গডফাদারদের সম্পৃক্ততা এবং কর্মকাণ্ডের ব্লুপ্রিন্ট জনগণের সামনে উন্মোচন করবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।*