প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *জাতির পিতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করছেন শেখ হাসিনা*

*জাতির পিতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করছেন শেখ হাসিনা*

92
*জাতির পিতার যুদ্ধ শেষ করছেন শেখ হাসিনা*

*১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘ব্ল্যাক মার্কেটিং কারা করে? যাদের পেটের মধ্যে দুই কলম বিদ্যা হয়েছে, তারাই ব্ল্যাক মার্কেটিং করে। স্মাগলিং কারা করে? যারা বেশি লেখাপড়া করেছে তারাই বেশি করে। হাইজ্যাকিং কারা করে? যারা বেশি লেখাপড়া শিখছে তারাই করে। ইন্টারন্যাশনাল স্মাগলিং তারাই করে। বিদেশে টাকা রাখে তারাই। আমরা যারা শিক্ষিত, আমরা যারা বুদ্ধিমান, ওষুধের মধ্যে ভেজাল দিয়ে বিষাক্ত করে মানুষকে খাওয়াই তারাই। নিশ্চয়ই গ্রামের লোক এসব পারে না, নিশ্চয়ই আমাদের কৃষক ভাইরা পারে না। নিশ্চয়ই আমার শ্রমিক ভাইরা পারে না।’*

*জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর দুর্নীতি, কালোবাজারি, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। শুধু এই বক্তৃতা নয়, এরকম একাধিক বক্তৃতায় তিনি দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারি এবং জনগণের প্রতিপক্ষদেরকে সতর্ক করেছিলেন।*
বাহাত্তরের ৯ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের জনসভায় জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে চাল নিয়ে আসি, আমি গ্রামে গ্রামে পাঠাই, আর চোরা কারবারী সে মাল চুরি করে খায়। ইচ্ছে হয়, ওদের পেটের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে আমি কালোবাজারির পয়সা বের করে আনি।’*

*বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম বর্ষপূর্তিতে দেওয়া বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমি মজুতদার, চোরাকারবারি ও গুজববিলাসীদের হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, তারা যেন নিরন্ন মানুষের মুখের রুটি নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’*
জাতির পিতা দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি, কালোবাজারি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করতে পারেন নি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তুলে নেয় দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীরা।*
জাতির পিতার স্বপ্নপূরণের শেষ যুদ্ধে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই জাতির পিতার স্বপ্নের পথেই হাঁটছেন।*

*বাংলাদেশ আজ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির সূবর্ণ সোপানে দাঁড়িয়ে তখন প্রধানমন্ত্রী অনুভব করতে পেরেছেন যে, এই উন্নয়ন বিলীন হয়ে যাবে, যদি দুর্নীতি বন্ধ করা না যায়। এই উন্নয়ন সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে না যদি দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান করা না যায়। এজন্য জাতির পিতার যে শেষ যুদ্ধ, অর্থাৎ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন তিনি সেই যুদ্ধটাকে চূড়ান্ত পরিনতির দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন শেখ হাসিনা। আর এজন্যই তিনি দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন দলের ভেতরেই।*

*জাতির পিতা যেমনটি বলেছিলেন যে, ‘ইচ্ছে হয়, ওদের পেটের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে আমি কালোবাজারির পয়সা বের করে আনি।’ এটা জাতির পিতার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সত্যি সত্যি তথাকথিত আওয়ামী লীগারদের পেটের ভেতর থেকে কালো টাকা বের করে আনছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বাড়িতে এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এই টাকাগুলো নিশ্চয়ই জনগণের টাকা। শেখ হাসিনা এই টাকাগুলো উদ্ধার করছেন। শুধু আওয়ামী লীগ না, সাধারণ মানুষও প্রত্যাশা করছেন এই যুদ্ধে শেখ হাসিনা জয়ী হবেন। জাতির পিতার অন্যান্য স্বপ্নগুলো যেমন শেখ হাসিনা পূরণ করেছেন, তেমনি এই স্বপ্নটাও পূরণ করবেন।*