প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “ক্লা’বপাড়ায় ৫০ গড’ফাদার: বি’পুল অর্থ বিদেশে পা’চার”

“ক্লা’বপাড়ায় ৫০ গড’ফাদার: বি’পুল অর্থ বিদেশে পা’চার”

1335

*পঞ্চাশ মাফি’য়ার নিয়’ন্ত্রণে ঢাকার ক্লা’বপাড়া। আর এই মাফি’য়াদের অধিকাংশই ক্ষম’তাসীন দলের প্রভাব’শালী নে’তা। এই মাফি’য়ারাই রাজধানীর বিভিন্ন ক্লা’বে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো বসিয়েছেন ক্যা’সিনো। আর এই ক্যা’সিনো থেকে তারা হা’তিয়ে নিয়েছেন বিপু’ল পরিমাণ অর্থ। হয়েছেন বি’ত্ত-বৈ’ভবের মালিক। এরই মধ্যে তারা মো’টা অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন কৌ’শলে বিদেশে পা’চার করেছেন।

*বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ক্রী’ড়া ক্লা’বের পরিবেশকে ব’দলে দিয়ে করেছেন অপরা’ধের আ’খড়া। রাত গ’ভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেসব ক্লা’বে আনা’গোনা বাড়তে থাকে অপ’রাধজগতের মাফি’য়া, ধনীর দুলা’ল ও সুন্দরী রম’ণীদের। এই মাফি’য়ারা শা’সক দলের হলেও কেউ কেউ একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়ি’ত ছিলেন। সরকার পরি’বর্তনের পর এরা ভো’ল পা’ল্টেছেন। ক্ষম’তাসীন দলে যোগদান শুধুই নয়, বাগি’য়ে নিয়েছেন প’দপদবিও।

*পুলিশ ক’র্মকর্তারা বলছেন, এসব ক্লা’বে দীর্ঘকাল ধরেই জু’য়ার চ’র্চা ছিল। কিন্তু অনু’মোদনহীন ক্যা’সিনো কীভাবে হলো তার সুনি’র্দিষ্ট কোনো ত’থ্য পাওয়া যায় না। তবে ক্লা’বগুলোর সঙ্গে জ’ড়িত কয়েকজন কর্মক’র্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাহ’নী-মোহামে’ডানসহ অন্য প্রায় সব ক্লা’বেই জু’য়ার প্রচ’লন ছিল আশির দশক থেকেই। সেটি করা হতো মূলত ক্লা’বের পরি’চালন ব্য’য় নি’র্বাহের জন্য। তখন ক্লা’বের সংগঠকরা রাজনীতিতে খুব একটা স’ক্রিয় ছিলেন না বরং ক্লা’বগুলোর মধ্যে তী’ব্র প্রতি’যোগিতা ছিল।

*ফলে খেলাধুলাতেও ক্লা’বগুলো বেশ ভালো করেছিল। তখন মূলত ও’য়ান-টে’ন নামে একটি জু’য়া হতো, যেটি হা’উজি নামে পরি’চিত। সপ্তাহে কয়েক দিন হতো। ক্লা’বের বার্ষিক দা’তাদের বাইরের বড় আয় আসত এই হা’উজি থেকেই। জানা গেছে, জু’য়া হিসেবে তখন ক্লা’বগুলোতে হা’উজি, ওয়া’ন-টে’ন, রা’মিসহ কিছু খেলা চা’লু ছিল। আর বো’র্ড বা জায়গা ভাড়া দিয়ে অর্থ আয় হতো ক্লা’বের।

*বিদেশের মতো বি’শাল বড় ফ্লো’রে হাজার রকমের জু’য়া খেলার য’ন্ত্রপাতির সমা’হার না হলেও স্ল’ট মে’শিন কমবেশি সব ক্লা’বে পৌঁছে গেছে গত পাঁচ-ছয় বছরে। মা’দকদ্রব্য নিয়’ন্ত্রণ অ’ধিদফতরের এক কর্ম’কর্তা বলেন, তিনি সেগুনবাগিচা এলাকায় অবৈ’ধ মা’দক সেব’নের খবর পেয়ে একটি অভি’যান চালা’ন বছর দুয়েক আগে। অভি’যানে ক্যা’সিনোর অস্তি’ত্ব পান। পরে সেটি ব’ন্ধও হয়ে যায় বলে জানান তিনি। সেগুনবাগিচায় এটি ব’ন্ধ হলেও পরবর্তী সময়ে মতিঝিল, কলাবাগান, তেজগাঁও এবং এলিফ্যান্ট রোডে জম’জমাট হয়ে ওঠে কয়েকটি ক্যা’সিনো।

*তবে নগরীতে ক্যা’সিনোর ধারণা কলাবাগান থেকে শুরু হলেও এর নির্ভর’যোগ্য আরেকটি জায়গা হয়ে দাঁড়ায় তেজগাঁওয়ের ফু’ওয়াং ক্লা’ব। মূলত তাইও’য়ানিদের একটি দল ২০০০ সালের দিকে এখানে পানশা’লা-কাম-রে’স্তোরাঁ চা’লু করে। পরে তাদের বিদায়ের পর বাংলাদেশি একজন সাবেক সে’না কর্মক’র্তার হাত ধরে চা’লু হয় ক্যা’সিনো। এর মধ্যে বর্তমান সরকার ক্ষ’মতায় আসার পর মতিঝিলের ক্লা’বগুলোর নি’য়ন্ত্রণ যায় যুবলীগের কয়েকজন নে’তার হাতে, যারা পরবর্তী সময়ে নিজেদের মা’ফিয়া হিসেবে তৈরি করেন।

*জানা গেছে, এক প্রভাব’শালী যুবনে’তার নিয়ন্ত্র’ণে চলা ক্যা’সিনো থেকে শুধু চাঁ’দা তো’লার কাজ করে একসময় কাকরাইলের বিপাশা হো’টেলের ব’য়ের কাজ করা জাকির হোসেন ও গুলিস্তানের হ’কার আরমান এখন কোটি কোটি টাকার মা’লিক। নতুন মডে’লের হ্যারি’য়ার গাড়ি দা’পিয়ে চাঁ’দা তোলেন আরমান। দুটি ক্যা’সিনোর মালি’কানাও রয়েছে তার। কোন ক্যা’সিনোর চাঁ’দার পরিমাণ কত হবে চরম ক্ষ’মতাধর এক যুবলীগ নে’তার সঙ্গে বসে ঠিক করে দিতেন আরমান। আর জাকির চাঁ’দা তো’লার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় মাসো’হারা পৌঁছে দেওয়ার দা’য়িত্ব পা’লন করতেন। সিঙ্গাপুরে অভি’জাত ক্যা’সিনো মে’রিনা বে’তে গিয়ে তারা জু’য়াও খেলেন একসঙ্গে।

*ওই যুবলীগ নে’তার নিয়’ন্ত্রণেই মূলত ঢাকার বিভিন্ন ক্লা’ব ও ভ’বনে বিদেশের আ’দলে অবৈ’ধ ক্যা’সিনো গড়ে উঠতে থাকে। আর এ খাত থেকে প্রতিদিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আই’নশৃঙ্খলা রক্ষা’কারী বাহি’নীর নাম করে মোটা অ’ঙ্কের টাকা চাঁ’দা তুলতে থাকেন ওই যু’বনেতা। একসময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক প্রভা’বশালী নেতাও পা’ল্লা দিয়ে ক্যা’সিনো খোলার চে’ষ্টা করেন। একটি ক্লা’বে তিনি তা খোলেনও। যুবলীগ নে’তা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া টে’ন্ডারবাজির পাশাপাশি ঢু’কে পড়েন ক্যা’সিনো জ’গতে। শুরুতে এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ওই যুবনে’তা ও খালেদের মধ্যে শীতল যু’দ্ধও চলছিল।

*ঢাকায় যাদের ক্যা’সিনো ব্যবসা: গোয়ে’ন্দা প্রতি’বেদন ও জু’য়াড়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় ক্যা’সিনোর বি’স্তার ঘটা’ন নেপালি নাগরিক দীনেশ ও রাজকুমার। প্রভাব’শালী এক যুবলীগ নে’তার তত্ত্বাবধানে এরা একের পর এক ক্যা’সিনো খুলে শত শত কোটি টাকা হা’তিয়ে দেশে পা’চার করেন।

*ভিক্টো’রিয়া ক্লা’ব: ২০১৫ সালে ভিক্টো’রিয়া ক্লা’বে ক্যা’সিনো খোলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অ’বৈধ এ ব্যবসা শুরু করেন নেপালের ক্যা’সিনো ব্যবসায়ী দীনেশ ও রাজকুমার। তাদের সহ’যোগী হিসেবে কাজ করেন বিনোদ মানালি। নেপাল ও ভারতের গোয়ায় তাদের মালি’কানায় ক্যা’সিনো ব্যবসা রয়েছে। চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই বাবা নামের এক নেপালি নাগরিকের কাছে ক্যা’সিনোটি বিক্রি করে দেন তারা। তখন থেকে বাবা ও তার ম্যানেজার হেমন্ত মিলে ক্যা’সিনোটি চালাতে থাকেন। ক্লা’বের সভাপতি কাজল ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন। প্রতিদিন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভা’ড়া নেন তারা। আর ওই যুবনে’তাকে চাঁ’দা দিতে হয় দিনে ৪ লাখ টাকা। তার সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমান ও খোরশেদ প্রতিদিন গিয়ে চাঁ’দার টাকা নিয়ে আসেন। ক্লাবের সিসি টিভি ক্যামেরা পরী’ক্ষা করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লি’ষ্টরা।

*কলাবাগান ক্লা’ব: ঢাকার নামকরা জুয়া’ড়ি শফিকুল আলম সেন্টু ২০১৬ সালে কলা’বাগান ক্লা’বে ক্যা’সিনো খোলেন নেপালি নাগরিক দীনেশ, রাজকুমার ও অজয় পাকরালের সঙ্গে। এখান থেকে প্রতিদিন ২ লাখ টাকা করে চাঁ’দা নিতেন এক প্রভাব’শালী যুবনে’তা। এখান থেকেও চাঁ’দা তুলতেন আরমান। অভিযোগ আছে, চাঁ’দার অঙ্কে বনি’বনা না হওয়ায় আই’নশৃঙ্খলা রক্ষা’কারী বা’হিনী দিয়ে ওই ক্লা’ব ব’ন্ধ করে দেন যুবলীগ দক্ষিণের এক প্রভাবশালী নে’তা। অনেক দেন’দরবার করেও যা আর চালু করতে পারেননি সেন্টু। তবে ক্লা’বের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে কালা ফিরোজের নির্দে’শনায় চা’লু হয় হাউ’জি ও জু’য়া।

*উত্তরার ক্যা’সিনো: দীনেশ ও রাজকুমারের অংশীদারিত্বে উত্তরায় এপিবিএন অফিসের উ’ল্টো পাশে একটি ভব’ন ভা’ড়া করে চালু করা হয় আরেকটি ক্যা’সিনো। তাদের পার্ট’নার হন তছলিম নামের এক স্থানীয় যুবলীগ নে’তা। এরপর ওই এলাকায় প্রভাব’শারী যুবনে’তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় যুবলীগ নেতা’দের মাধ্যমে আরও কয়েকটি ক্যা’সিনো গড়ে তোলেন তারা, যার প্রতিটি থেকে দিনে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁ’দা তুলতেন আরমান।

*সৈ’নিক ক্লা’ব: মালিবাগ-মৌচাক প্রধান সড়কের পাশের একটি ভ’বনে সৈনিক ক্লা’ব। অবস’রপ্রাপ্ত সৈ’নিকদের নামে এই ক্লা’ব চলে। আর এটি নির্ধারিত টাকায় ভা’ড়া নিয়ে ক্যা’সিনো খোলেন যুবলীগ নে’তা জসিম উদ্দিন ও এ টি এম গোলাম কিবরিয়া। তাদের অংশীদার নেপালি নাগরিক প্রদীপ। এই ক্লাব থেকে প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা চাঁ’দা পান ওই যুবনে’তা।

*ঢাকা গোল্ডে’ন ক্লা’ব: বনানীর আহমেদ টাওয়ারের ২২ তলায় ঢাকা গোল্ডে’ন ক্লা’ব খোলেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ী আওয়াল পাটোয়ারী ও আবুল কাশেম। ক্লা’বটি চা’লুর কিছুদিনের মধ্যেই কৗশ’লে আই’নশৃঙ্খলা রক্ষা’কারী বা’হিনী দিয়ে ব’ন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বেড়ে যায় এক যুবনে’তার মাসো’হারার অঙ্ক। ওই সময় যুবলীগ নে’তা আরমান জোর করে ক্লা’বটির মালিকানায় ঢু’কে পড়েন। নেপালি নাগরিক অজয় পাকরালের তত্ত্বাবধানে চলত ক্যা’সিনোটি। এখান থেকেও ওই যুবনে’তার জন্য প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা চাঁ’দা তুলতেন আরমান।

*ওয়া’ন্ডারার্স ক্লা’ব: এই ক্লা’বে ক্যা’সিনো খোলেন নেপালি নাগরিক হিলমি। তার এ-দেশীয় অংশীদার মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নে’তা মোবাশ্বের। মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসারের সরাসরি তত্ত্বা’বধানে চলে এই ক্যাসি’নো। এখান থেকে প্রতিদিন এক যুবলীগ নে’তাকে দিতে হয় ৫ লাখ টাকা।
ব্রা’দার্স ইউ’নিয়ন: মহিউদ্দীন মহির ইশারা ছাড়া ঐহি’ত্যবাহী ক্রী’ড়া সং’গঠন ব্রা’দার্স ইউনি’য়নের পাতাও নড়ে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে জন’শ্রুতি রয়েছে। সন্ধ্যার পরই এই ক্লা’বে চলে জু’য়া আর হা’উজি।

*দিল’কুশা ক্লা’ব: এই ক্লা’বের মালিক নেপালি নাগরিক দীনেশ, রাজকুমার ও ছোট রাজকুমার। ভারতীয় আরও দুজন অংশীদার থাকলেও তাদের নাম জানা যায়নি। এই ক্যাসি’নো থেকে এক যুবনে’তার চাঁ’দা প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা। আরমানের নিজের চাঁ’দা ১ লাখ। ক্লা’বটি চালু করতে ওই যুবনে’তাকে অগ্রিম দিতে হয় ৪০ লাখ টাকা। আর আরমান অগ্রিম নেন ১০ লাখ। আরমানের ছোট ভাই ই’য়ংমেন্স ক্লা’বে অভি’যানকালে ধ’রা পড়’লে তাকে এক বছরের সা’জা দেন র‌্যা’বের ভ্রাম্য’মাণ আদালত।

*আরা’মবাগ ক্লা’ব: স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের তত্ত্বাবধানে একসময়ের ফুটপাত হ’কার মতিঝিল থানা যুবলীগের বর্তমান নে’তা জামালের মালি’কানায় ক্যা’সিনো খোলা হয় আরামবাগ ক্লা’বে। মমিনুল হক সাঈদ তার অলিখিত অংশী’দার। আছে নেপালি অংশী’দারও। এই ক্যা’সিনো থেকে প্রতিদিন তিন লাখ টাকা দেওয়া হয় দক্ষিণ যুবলীগের এক প্রভা’বশালী নে’তাকে।

*ফু’ওয়াং ক্লা’ব: তেজগাঁও লি’ঙ্ক রোডের ফু’ওয়াং ক্লা’বে একসময় ম’দ বি’ক্রির পাশাপাশি নিয়’মিত বসত ডি’জে গানের আসর। কক্ষে কক্ষে চলত নাচ-গান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান দ্বিতীয় মে’য়াদে ক্লা’ব মালিক নূরুল ইসলামের সঙ্গে তেজগাঁও জো’নের এক পুলিশ কর্ম’কর্তার ঝা’মেলার কারণে অভি’যান চালিয়ে ব’ন্ধ করে দেওয়া হয় ডি’জে আয়োজন। এরপর ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সমঝো’তার মাধ্যমে ক্লা’বের দোতলার হল’রুমে বসানো হয় ক্যা’সিনো। নেপালি সুন্দরী তরুণী ও তরুণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জাঁক’জমকভাবে খোলা হয় ক্যা’সিনোটি। ক্লা’বটির একক মালিক নূরুল ইসলাম পুর’স্কারঘোষিত এক শী’র্ষ সন্ত্রা’সীর আত্মীয় হওয়ায় এই ক্লা’বে যুবলীগ নে’তার চাঁ’দার পরিমাণ কম। দিনে ২ লাখ টাকা।

*মোহামেডান ক্লা’ব: একসময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়ি’ত থাকার কারণে ১৯৯৪ সাল থেকে মোহামেডান ক্লা’বের সঙ্গে যু’ক্ত হন লোকমান হোসেন। ব’নে যান ক্লা’বের সাধারণ সম্পাদক। ২০১১ সালে ঐতিহ্য’বাহী ক্লা’বটি লিমি’টেড কো’ম্পানিতে রূপা’ন্তরিত হওয়ার পর সভাপতি পদ থেকে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু সরে গেলেও থেকে যান লোকমান। ভোট’বিহীন অবস্থায় দুই বছরের জন্য তিনি সদস্যসচিব নির্বাচিত হলেও এখনো তিনি স্বপ’দে বহা’ল রয়েছেন। খেলোয়াড়দের কল্যাণ এবং ক্লাবের মানোন্ন’য়নের কথা বলে তিনি ক্যা’সিনো ব’সান একক সি’দ্ধান্তে।

*যদিও এখান থেকে অ’র্জিত কোনো টাকা তিনি ক্লা’বের মানোন্ন’য়নে ব্যয় করেন না। ক্লা’বে কিংব’দন্তি ফুটবলার বাদল রায় অভি’যোগ করে বলেন, লোকমান অবশ্যই ক্যা’সিনো থেকে বিশেষ সু’বিধা পাচ্ছেন বলে তিনি কক্ষ ভা’ড়া দিয়েছেন। শুধু লোকমান নন, তার অনুসা’রীরাও এ থেকে মোটা অ’ঙ্কের অর্থ পাচ্ছেন। বাদল রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মোহা’মেডানের উন্নয়নের কথা বলেছেন। অথচ লোকমান তা মানছেন না। আমরা চাই লোকমানের অপ’সারণ। তা না হলে এই ক্লা’ব ধ্বং’স হয়ে যাবে।’ বাদল রায় বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম লোকমান বলেছেন, রাজনৈতিক চা’পে তিনি ক্যা’সিনোর জন্য কক্ষ ভা’ড়া দিয়েছেন। আমি তা বিশ্বাস করি না। যদি রাজনৈতিক চা’পই হতো, বিএনপির লোক হয়ে আওয়ামী লীগ আমলে তিনি বি’সিবির পরিচালক প’দে আছেন কীভাবে?’

*জানা গেছে, বনানীর ঢাকা গোল্ডে’ন ক্লা’বের মালিক ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও মতিঝিলের স্থানীয় যুবলীগ লীগ নে’তা ইমরানের মালিকানায় মোহামেডান ক্লা’বে চলছিল ক্যাসি’নো। এর নেপালি অংশীদার কৃষ্ণা। রাজধানীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক ক্যা’সিনোটিতে এরই মধ্যে অভি’যান চালানো হয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন আরমানের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা চাঁ’দা পেতেন দক্ষিণ যুবলীগের ওই নে’তা।

*মুক্তিযোদ্ধা ক্লা’ব: বিএনপির সময় ইব্রাহীমপুরের আবুল হোসেন লিটন ও তার স্ত্রী সুফিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্লা’বে জু’য়া ও হাউ’জি চালালেও ২০০৯ সালে তা নিজের দখ’লে নিয়ে নেন দক্ষিণ যুবলীগের এক প্রভাব’শালী নে’তা। তার চাচা হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আলী হোসেনকে সামনে রেখে এই ক্লা’বে ক্যা’সিনো চালু করেন। নেপালের দীনেশ ও রাজকুমার তার ব্যবসায়িক অংশীদার। আলী হোসেনের নামে ক্যা’সিনোটি চললেও এর মূল মা’লিক ওই যুবলীগ নে’তা। কিন্তু কাগজে-কলমে তার নাম নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লি’ষ্টরা।

*ইয়ং’মেন্স ক্লা’ব: চারদিকে জু’য়ার টাকা উ’ড়তে দেখে লো’ভে পড়েন যুবলীগের আরেক নে’তা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে চেয়ারম্যান করে প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ংমে’ন্স ক্লা’ব। ফুটবল, ক্রিকেটের উন্নয়নের কথা বলে ক্লা’বটি প্রতিষ্ঠার পর অত্যা’ধুনিক সরঞ্জা’ম এনে নিজেই চা’লু করেন ক্যা’সিনো। কমলাপুর আই’সিডির কিছু কর্ম’কর্তাকে ম্যানেজ করে চীন থেকে আম’দানি করা অত্যা’ধুনিক সরঞ্জা’ম এনে বসা’ন তার ক্যাসি’নোতে। এখান থেকেও ৪ লাখ টাকা চাঁ’দা নিতেন যুবলীগ দক্ষিণের এক প্রভা’বশালী নে’তা।

*অ্যাজা’ক্স ক্লা’ব: এলিফ্যা’ন্ট রো’ডের অ্যা’জাক্স ক্লা’ব চালু হয় যুবলীগ নেতা আরমান, তছলিম ও খোরশেদের তত্ত্বাবধানে। নেপালি নাগরিক ছোট রাজকুমারকে দিয়ে ক্যাসি’নোটি চা’লু করেন তারা। এই ক্যা’সিনো থেকে প্রতিদিন দক্ষিণের যুবলীগের পরাক্র’মশালী নে’তার পকে’টে যেত ৩ লাখ টাকা।

*ইস্কা’টন সবুজ সং’ঘ: একসময়ের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লা’বে খেলার ব’দলে চলে জু’য়া আর হাউ’জি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর পর্যন্ত সপ্তাহের সাত দিনই চলে জু’য়ার ব্যবসা। মনো’রঞ্জনের জন্য ব্যবস্থা রা’খা হয় নানা ধরনের নেশা’জাতীয় দ্রব্যের। একসময় শী’র্ষ সন্ত্রা’সী তক’মা পাওয়া এক ব্যক্তি ক্লাব’টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন মাদারীপুরের সারোয়ার ও জামালের মাধ্যমে। তবে একজন সংসদ সদস্য ও যুবলীগের এক নে’তাকে মোটা অঙ্কের মাসো’হারা দিয়ে আসছেন তিনি।

*জানা গেছে, গুলশান এলাকায় একাধিক বা’র ও ক্লা’বের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কালা নাসিরের বন্ধু তালাল রিজভী নামের একজন। জাতীয় পার্টির একজন প্রভা’বশালী নে’তার প্রত্যক্ষ মদ’দে তালাল রিজভীর ইশা’রায় ওই ক্লা’বগুলোতে কয়েক দিন আগ পর্যন্ত চলত নানা ধরনের অপ’কর্ম। অন্যদিকে ২০ নম্বর ওয়া’র্ডের যুবলীগ নে’তা কাউ’ন্সিলর ফরিদ উদ্দীন রতন তার এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্পো’র্টস ক্লা’বে হাউ’জি ও জু’য়ার মদ’দদাতা।