প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “শামীমকে ঘি’রেই শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জিসান ও খালেদের দ্ব’ন্দ্ব”

“শামীমকে ঘি’রেই শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জিসান ও খালেদের দ্ব’ন্দ্ব”

361

*ঠিকা’দারি, টেন্ডা’রবাজি, চাঁ’দাবাজিসহ নানা অ’বৈধ কর্ম’কাণ্ড করে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীম এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক। বিএনপি নে’তা মির্জা আব্বাসের ঘনি’ষ্ঠ ক্যা’ডার।

*পরবর্তীকালে টাকার জো’রে জিকে শামীম যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প’দ বাগিয়ে নেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও হন। গ’ণপূর্ত অধি’দপ্তর, রাজ’উক, শিক্ষা ভবনে অবস্থিত শিক্ষা প্রকৌ’শল অধি’দপ্তর (ই’ইডি), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধি’দপ্তর (মা’উশি) ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি সরকারি দ’প্তরের ঠিকা’দারদের কাছে আত’ঙ্কের নাম ছিল জিকে শামীম। তাকে বা’দ দিয়ে কোনো কাজের টে’ন্ডার অন্য ঠি’কাদার নিতে পারতেন না। চলতেন সব সময় অস্ত্র’ধারী দে’হরক্ষী নিয়ে। জি’কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ায় সরকারি ওইসব দ’প্তরের ঠিকা’দারদের মধ্যে এখন আনন্দের ব’ন্যা বইছে।

*এক সময় শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জি’সানের পক্ষে জি’কে শামীম টেন্ডা’রবাজি করতেন। দুই থেকে আড়াই বছর আগে জি’কে শামীমকে ক’ব্জা করেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কয়েক প্রভাব’শালী নে’তা। এরপর থেকে জি’কে শামীম দীর্ঘদিনের ঘ’নিষ্ঠ জিসা’নকে বা’দ দিয়ে তাদের পক্ষে ঠিকাদা’রি-টেন্ডা’রবাজি-চাঁ’দাবাজি করতে থাকেন। এ নিয়ে জি’সানের সঙ্গে চর’ম দ্ব’ন্দ্ব শুরু হয় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। এর জে’র ধরে জি’সানের বিরু’দ্ধে মতিঝিল, প’ল্টন ও রমনা থানা এলাকায় দুই বছর আগে পোস্টা’রিং হয়। এ দা’য়িত্ব পা’লন করেন জি’কে শামীম। তার নি’য়ন্ত্রণে আছে বি’শাল অ’স্ত্রভাণ্ডার। যেসব অ’স্ত্র মাঝেমধ্যেই টেন্ডা’রবাজিতে ব্যব’হার হতো বলে সং’শ্লিষ্ট সরকারি দ’প্তরের একাধিক ঠি’কাদার জানিয়েছেন।

*একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কয়েক প্রভা’বশালী নে’তা চাঁ’দাবাজি-টেন্ডা’রবাজির জন্য বি’শাল সন্ত্রা’সী বা’হিনী গড়ে তোলেন কয়েক বছর আগে। অ’বৈধ উপায়ে এ গ্রু’পের কোটি কোটি টাকা অর্জনের এক রকম মে’শিন ছিলেন জি’কে শামীম। বিভিন্ন সরকারি দপ্ত’রের কে’নাকাটা, ভৌ’ত অব’কাঠামো নির্মা’ণসহ নানা প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার কাজ ক’ব্জা করতে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি’কে শামীম শুধু অ’স্ত্রধারী ক্যা’ডারই পা’লতেন না, সরকারি ওই সব দপ্ত’রের কর্ম’কর্তা-কর্মচা’রীদের সঙ্গে সি’ন্ডিকেট করতেন। বি’নিময়ে তারাও পেতেন কমি’শন।

*গণ’পূর্ত অ’ধিদপ্তর (পিডব্লি’উডি), আবদুল গণি রোডের খাদ্য ভ’বন, বিদ্যু’ৎ ভ’বন, শিক্ষা ভ’বন, রেল ভব’ন, মতিঝিল বিআই’ডব্লিউটিসি ভ’বন, রাজধানী উন্ন’য়ন কর্তৃ’পক্ষ (রাজ’উক), ক্রীড়া পরিষদ ভব’নসহ সরকারি বিভিন্ন সং’স্থার বড় বড় প্রক’ল্পের কাজ খালেদ-জি’কে শামীম সিন্ডি’কেট পেত। এ ছাড়া ওই সব দপ্ত’রের কোটি কোটি টাকার কে’নাকাটার কাজও তাদের নিয়ন্ত্র’ণে ছিল। সরকারি ওইসব দপ্ত’রের আন্ত’র্জাতিক দর’পত্রের কাজ যেসব প্রতিষ্ঠান পেত, তাদের কাছ থেকেও জি’কে শামীম-খালেদ সিন্ডি’কেট ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমি’শন আ’দায় করত। তাদের ক’মিশন না দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়া ছিল দু’রূহ ব্যা’পার। এ সি’ন্ডিকেটে মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক প্রভাব’শালী নে’তাও যু’ক্ত হতেন। জি’কে শামীমের অস্ত্র’ধারী গ্রু’পে অন্তত ৬০ জনের মতো ক্যা’ডার রয়েছে। যাদের প্রত্যেকের হাতেই অবৈ’ধ অ’স্ত্র। এ ক্যা’ডাররা জি’কে শামীমকে এস’কর্ট দিয়ে যে কোনো গন্ত’ব্যে নিয়ে যেত।

*জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বাসিন্দা জি’কে শামীমের বাবা আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন স্থানীয় হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার তিন ছেলের মধ্যে জি’কে শামীম মেজো। হাইস্কুল পার হওয়ার পরই জি’কে শামীম ঢাকার বাসাবো-সবুজবাগ এলাকায় চলে আসেন। মতিঝিল এ’জিবি কলো’নিতেও ছিলেন অনেক দিন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ’৯১ সালে ক্ষম’তাসীন হয়। বিএনপির ক্ষ’মতার শেষদিকে জি’কে শামীম একজন ক্ষুদ্র ঠিকা’দার হিসেবে যাত্রা করেন। তখন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যু’ক্ত ছিলেন। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষম’তায় আসার পর তিনি ঠি’কাদারি ব্যবসা করতে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালি’কাভুক্ত হন।

*২০০১ সালে বিএনপি নেতৃ’ত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষ’মতাসীন হওয়ার পর যুবদলের রাজনীতি শুরু করেন। পরে ৪ নম্বর ওয়া’র্ড যুবদলের সঙ্গে নিজেকে যু’ক্ত করেন। এ সময় মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের সঙ্গে জি’কে শামীমের ঘনি’ষ্ঠ স’ম্পর্ক গ’ড়ে ওঠে। তারপর থেকেই গ’ণপূর্ত ভ’বনের ঠিকা’দারি ব্যবসা চাঙ্গা’ করে তো’লেন। টাকার জো’রে ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদকের প’দও বা’গিয়ে নেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে গ’ণপূর্ত বিভাগের ঠি’কাদারি কাজের একচ্ছ’ত্র নি’য়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। তত্ত্বা’বধায়ক সরকারের আমলে জি’কে শামীম ভো’ল পা’ল্টানো শুরু করেন।

*২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বা’ধীন মহাজোট সরকার ক্ষম’তাসীন হওয়ার পর জি’কে শামীম আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যু’ক্ত করেন। তখন এই যুবলীগ নেতা শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জি’সানের সঙ্গে যৌ’থভাবে গ’ণপূর্ত’সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্ত’রের ঠি’কাদারি-টেন্ডা’রবাজি নি’য়ন্ত্রণে নেন। পরবর্তীকালে জিসানকে ছে’ড়ে যোগ দেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া সিন্ডি’কেটে। বর্তমানে রাজধানীতে জি’কে শামীমের ৫০০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকা’দারি-টেন্ডা’রবাজি করে বিপু’ল স’ম্পদ গড়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার রয়েছে আলি’শান বাড়ি-একাধিক ফ্ল্যা’ট। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকশ বি’ঘা জমির মালিক জি’কে শামীম।

*যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু গতকাল শুক্রবার বলেন, এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি’কে শামীমের যুবলীগে কোনো প’দ নেই। তিনি নিজেই নিজেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায়বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। যুবদলের সাবেক সহসম্পাদক জি’কে শামীম বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও।