প্রচ্ছদ আইন-আদালত “ডি’বির জিজ্ঞা’সাবাদে রাঘ’ববোয়ালদের নাম বলেছে খালেদ”

“ডি’বির জিজ্ঞা’সাবাদে রাঘ’ববোয়ালদের নাম বলেছে খালেদ”

467

*পুলিশের জে’রার মুখে যুবলীগ নে’তা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছ থেকে বেরিয়ে এসেছে রাঘ’ববোয়ালদের নাম। একে একে যখন নাম বলছিলেন তিনি, পুলিশ তা শুনে হত’বাক হচ্ছিল। দীর্ঘ তালি’কায় রয়েছে পুলিশ, প্রভা’বশালী রাজনৈতিক নে’তা, ও’য়ার্ড কা’উন্সিলর, আন্ডা’রওয়ার্ল্ডের শী’র্ষ সন্ত্রা’সী ও মি’ডিয়া জগতের কতিপয় ব্য’ক্তিত্বের নাম। খালেদ বলেছেন, এদের নিয়’মিত মো’টা অ’ঙ্কের টাকা দিয়েই তিনি ক্যা’সিনো ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। পুলিশের একটি সূ’ত্র জানায়, খালেদ অনেক অজা’না তথ্য’ই ফাঁ’স করেছেন। ক্যা’সিনো ব্যবসার পুরো নিয়’ন্ত্রণ ছিল যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার হাতে। তবে এখানকার টাকার ভাগ পেত পুলিশের সং’শ্লিষ্ট থানার ও’সি, ডি’সি, রাজনৈতিক নে’তা, ও’য়ার্ড কাউ’ন্সিলররা।

*পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি ক্যা’সিনো থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হতো। লা’ভের অংশের ভাগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে হতো। থানার ও’সির কাছে মাসিক হারে কয়েক লাখ টাকা দিতে হতো। সং’শ্লিষ্ট জো’নের পুলিশের সহকারী কমিশ’নার ও উপক’মিশনারের কাছেও মাসিক হারে টাকা পৌঁছে যেত, এমনকি যারা উপ’পরিদর্শক বা পরি’দর্শক লে’ভেলের, তাদেরও টাকা দিতে হতো। তবে তাদের পরিমাণটা ছিল কম। এ ছাড়া সং’শ্লিষ্ট ক্যা’সিনো এলাকার পুলিশের বি’ট অফি’সারও পেতেন টাকার ভা’গ।

তিনি জানান, টাকার ভাগ রাজনৈতিক নে’তার পকে’টেও যেত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে মো’টা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। কাউকে কাউকে গা’ড়ি উপ’হার দিতে হয়েছে। অনেককে দিতে হয়েছে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা দামের মোবা’ইল ফো’ন। এমন নে’তাদের তা’লিকাও হয়েছে। এরই মধ্যে খালেদ সবার তা’লিকা আই’নশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনীর কাছে দিয়েছেন।

*সূ’ত্রটি জানায়, ক্যা’সিনোর টাকার ভা’গ দেশের গ’ন্ডি পেরিয়ে বিদে’শেও চলে যেত। যেসব সন্ত্রা’সী দেশের বাইরে থাকে, তারাই মূলত এই ভাগ পেত। খালেদ জানিয়েছেন, মগবাজার টিঅ্যা’ন্ডটি কলো’নির সন্ত্রা’সী নাজির আরমান নাদিম ও শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জি’সানের হয়ে ঢাকায় কাজ করেন খালেদ। চাঁ’দাবাজি ও ক্যা’সিনোর টাকা ওমা’নের মাস’কটে থাকা সন্ত্রা’সী নাদিমের কাছে পাঠান খালেদ। সেখান থেকে জি’সানও ভাগ পান টাকার। শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জি’সান বর্তমানে ভারতের পাস’পোর্ট দিয়ে দুবাই’য়ে স্থায়ী হয়েছেন। জিসা’নের দুবা’ইয়ে চারটি গো’ল্ডের দোকান আর আল ফা’জিরা সি’টি জা’য়েদ শেখ মা’র্কেটে রয়েছে না’ইট ক্লা’ব। এসব ব্যবসায় চট্টগ্রামের অনেক ব্যবসায়ীর শেয়া’র রয়েছে। ওই সুবাদে জি’সান জার্মা’নি থেকে দুবা’ইয়ে আসা-যাওয়া করেন।

*ঢাকায় তার যেখানে যেখানে আধি’পত্য ছিল, এর সবই নিয়ন্ত্র’ণ করতেন খালেদ। খালেদ জানিয়েছেন, গ’ভীর রাতে ক্লা’বগুলোয় আসতে শুরু করে বি’ত্তবানদের গাড়ি। তাদের সঙ্গে থাকে ঢাকাই সিনেমার উঠতি না’য়িকা থেকে শুরু করে নামি’দামি ম’ডেল। এসব ম’ডেল-অভি’নেত্রী জু’য়ার আস্তা’নায় ‘এস্ক’র্ট গা’র্ল’ হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, এ ব্যবসায় জ’ড়িত রয়েছেন কেন্দ্রীয় ও মহানগরী উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের একশ্রেণির নে’তা। অবৈ’ধভাবে চালা’নো এসব জু’য়ার আ’সরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ছয় নে’তা মাঝেমধ্যে অংশগ্রহণ করেন। ক্যাসি’নো পরিচা’লনার জন্য নে’পাল, থাইল্যা’ন্ডসহ চারটি দেশ থেকে প্রশি’ক্ষিত নারী’দের আনা হয়। প্রশি’ক্ষিত জু’য়াড়ির পাশাপাশি নি’রাপত্তা প্রহ’রীও আনা হয়েছে নেপাল থেকে। ক্যা’সিনোগুলোয় প্রতি রাতেই কোটি কোটি টাকা উড়ছে।

*সূত্র জানায়, রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুলে কমপক্ষে ১৭টি ক্লা’ব নিয়’ন্ত্রণ করেন এই যুবলীগ নে’তা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লা’ব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ই’য়ংমেন্স নামের ক্লা’বটি সরাসরি তিনি পরি’চালনা করেন। প্রতিটি ক্লা’ব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লা’বে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসি’নো বসে। খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লে’গুনা ও গণ’পরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলো’নি মাঠ, মেরা’দিয়া ও কমলা’পুর প’শুর হাট নি’য়ন্ত্রণ করেন তিনি। খিলগাঁও রে’ল ক্র’সিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের একটি হাট বসা’ন এই নে’তা। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা আ’দায় করেন তিনি। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজারের সভাপতির প’দটিও দী’র্ঘদিন তিনি ধরে রেখেছেন। শাহজাহানপুর রেলওয়ের জমি দখ’ল করে দোকান ও ক্লা’ব নি’র্মাণ করেছেন।

*পুলিশের ওই কর্ম’কর্তা বলেন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদার পুরো নি’য়ন্ত্রণ এই নে’তার হাতে। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথা’ক্রমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রা’জউক, রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুবভবন, কৃষিভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জো’নসহ বেশির ভাগ সং’স্থার টে’ন্ডার নি’য়ন্ত্রণ করেন এই নে’তা। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম প’রিচালনা করেন।

*সূত্র জানায়, একসময়ের দাপু’টে ছাত্রনে’তা মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ারকে ভ’য় দেখিয়ে দেশ’ছাড়া করার অভি’যোগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে। সোহেল শাহরিয়ার বর্তমানে কানাডায় বসবাস করেন। একইভাবে ৮ নম্বর ওয়া’র্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলী হোসেন ও ১২ নম্বর ওয়া’র্ড যুবলীগ সভাপতি কবির মাহমুদকেও ভ’য় দেখিয়ে শহরছাড়া করার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএ’সসিসির নির্বাচনে কাউন্সিলর হতে ব্যাপক কা’র্যক্রম চালান খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে মমিনুল হক সাঈদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর তার সঙ্গেও বি’রোধে জ’ড়িয়ে পড়েন তিনি।