প্রচ্ছদ জীবন-যাপন “চো’রাই তেল বি’ক্রেতা এখন রাজধানীর মুকু’টহীন সম্রাট”

“চো’রাই তেল বি’ক্রেতা এখন রাজধানীর মুকু’টহীন সম্রাট”

2666

*এক যুগ আগে রাজধানীতে গাড়ির তেল চু’রি করে বি’ক্রি করতেন মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার। সেখানে ব্যবসায় সহ’যোগিতা করতেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে মুকু’টহীন সম্রাট। এছাড়াও তারা ফকিরেরপুল ও বিজয় নগর পল্টনে সড়কের মোড়ে অস্থায়ী টং দোকানে চো’রাই তেল রেখে মোটরসাইকেলেসহ ছোট ছোট যানবাহনে বি’ক্রি করতেন।

*স্বজনদের দেয়া তথ্য মতে, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায়। তিনি প্রয়া’ত ফয়েজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ১১ বছর আগে সাঈদের সঙ্গে ঢাকায় গাড়ির চো’রাই তেল বি’ক্রি করতেন। অথচ এখন তিনি এলাকায় যান হেলি’কপ্টারে করে। সম্রাট মাসে ১০ বার জু’য়া খেলতে যান সিঙ্গাপুরে। এটি তার এক ধরনের নে’শা। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জু’য়ার আ’স্তানা মে’রিনা বে’ স্যা’ন্ডস ক্যা’সিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জু’য়াড়িরা। সেখানে সম্রাট ভি’আইপি জু’য়াড়ি হিসেবে পরিচিত।

*প্রথম সারির জুয়া’ড়ি হওয়ায় সিঙ্গা’পুরের চে’ঙ্গি এয়া’রপোর্টে তাকে ভি’আইপি হিসেবে রি’সিভ করার বিশেষ ব্যব’স্থাও রয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে মে’রিনা বে’ স্যান্ড’স ক্যাসি’নো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বি’লাসবহুল গাড়ি লি’মুজিন-এ করে। সিঙ্গাপুরে জু’য়া খেলতে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নে’তা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়া’ড়ি খোরশেদ আলম। তাদের মধ্যে সাঈদ কমি’শনারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি ১০ বছর আগে ঢাকায় গাড়ির তেল চু’রির ব্যবসা করতেন। সম্রাটের মতো তিনিও এখন হেলি’কপ্টারে করে এলাকায় যান। আগামীতে এ’মপি হতে চান। এ নিয়ে তোড়’জোড়ও শুরু করে দিয়েছেন। দোয়া চেয়ে এলাকায় পো’স্টার লাগাচ্ছেন।

*গো’য়েন্দা সূত্র মতে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অফিস কাকরাইলে রাজমণি সি’নেমা হ’লের উ’ল্টোপাশে (পশ্চিম)। সেখানেও গভীর রাত পর্যন্ত ভি’আইপি জু’য়া খেলা চলে। প্রতিদিনই ঢাকার একাধিক বড় জু’য়াড়িকে সেখানে জু’য়া খেলার আম’ন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সম্রাটের অফিসে খেলার নিয়ম ভিন্ন। সেখান থেকে জিতে আসা যাবে না। কোনো জু’য়াড়ি জিতলেও তার টাকা জো’রপূর্বক রে’খে দেয়া হয়।
রাজধানীর ফকিরেরপুলের ই’য়াংমেন্স ক্লা’বে অ’বৈধ ক্যাসি’নোর মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়। রাজধানীর ক্যা’সিনো ব্যবসায় খালেদের সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন যুবলীগ নে’তা। তাদেরই একজন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

*খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পরই কাকরাইলে যুবলীগের কার্যা’লয়ে অবস্থান নেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ওই কার্যাল’য়ের সামনে হাজারখানেক নে’তাকর্মীও অবস্থান নেন। রাত ৩টার পরও কার্যা’লয়ে নে’তাকর্মীদের ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছে নে’তাকর্মীরা প্রতিদিনই আসেন। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত থাকেন। এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
অনেকেই সন্দে’হ করছেন, সম্রাট একটি প্রভা’বশালী আইন’শৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বাহি’নীর হেফা’জতে আছেন। তাকে যে কোনো সময়ে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। তবে বিষয়টি পুলিশের কোনো সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বী’কার করা হয়নি।