প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “এক রাজার ১০০ স্ত্রী ও ৫০০ সন্তান!”

“এক রাজার ১০০ স্ত্রী ও ৫০০ সন্তান!”

129

*বিশ্বের নানান দেশের নানান জাতির মধ্যে বহুবি’বাহের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু একজন মানুষ সর্বোচ্চ কতজন স্ত্রী থাকতে পারে? এই সংখ্যাটা যদি ১০০ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ব্যাপারটাকে রূপ’কথার মতোই মনে হবে। কিন্তু এই রূপ’কথার মতো ঘট’নাই ঘ’টিয়েছেন ক্যামেরুনের বাফু’টের রাজা দ্বিতীয় আবুম্বি। বাফু’ট হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের ক্যামেরুনের একটি অঞ্চল। বাফু’টের রাজাদের বলা হয় ফ’ন। বাফু’টের বর্তমান রাজা বা ১১তম ফ’ন হচ্ছেন দ্বিতীয় আ’বুম্বি।

*দু’চার-পাঁচটা নয় আ’বুম্বির বউ ১০০ জন। আর সন্তান ৫০০’রও বেশি। অবশ্য সেজন্য এতোগুলো বিয়ে তাকে করতে হয়নি। সিংহাসনে বসার পরই বেড়ে গেছে তার সংসার। স্থানীয় রীতি মেনে ১০০ জন স্ত্রীর স’ঙ্গলাভ করেছেন তিনি। ঘটনা হলো, ক্যামেরুনের এই প্রদেশে কোনো রাজার মৃ’ত্যু হলে তার স্ত্রীদের দা’য়িত্ব নিতে হয় পরবর্তী রাজাকেই। অর্থাৎ বাফুটের রাজবংশের রেও’য়াজ অনু’যায়ী এক রাজার মৃ’ত্যুর পর যিনি রাজা হবেন, তাকেই পূর্ববর্তী রাজার সব স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ করতে হবে। পূর্বের রাজার স্ত্রীদের নতুন রাজা স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাজ্য পরিচা’লনা করবেন। আগের রাজার সন্তানদের বাবাও হবেন নতুন রাজা।

*ঐতিহ্য হিসেবে এমনটিই চলে আসছে। সেই রীতি মানতেই ক্যামেরুনের বাফু’ট প্রদেশের ১১তম রাজা আবু’ম্বিরও স্ত্রীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০০ জনে। রাজার প্রত্যেক স্ত্রীই শিক্ষিত। পাশাপাশি তারা বেশ কয়েকটি ভাষাতেও কথা বলতে পারেন। ১৯৬৮ সালে বাবার মৃ’ত্যুর পর রাজা হন আ’বুম্বি। ক্যামেরুনে বহু’বিবাহকে এখনো বেআ’ইনি ঘো’ষণা করা হয়নি। স্থানীয় রীতি, সংস্কৃতিকে বাঁ’চিয়ে রাখাই তার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন রাজা আ’বুম্বি।

*বাফুটের রাজপরিবারে নিয়ম হচ্ছে- রাজ্যের জ্যেষ্ঠ রানীরা নতুন রানীদের সব রীতি-রেওয়াজ শিখিয়ে দেবেন। যেহেতু রাজ্যের নতুন রাজা অর্থাৎ তাঁদের বর্তমান স্বামী পূর্বে রাজপুত্র ছিলেন, তাই রাজাকে পরম্পরার শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বও জ্যেষ্ঠ রানীদের ওপর ন্যস্ত থাকে।
‘টাই’টেল রয়্যা’লস’ অর্থাৎ রাজার প্রকৃত মা বা বোন রাজার সহায়িকা এবং প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করে থাকেন। রাজার বড় ভাইকে মু’মা এবং ছোট ভাইকে নিম’ফর বলা হয়, যাঁরা রাজ্য পরিচালনায় ফ’নকে সহায়তা করে থাকেন। কিন্তু ফ’নের হঠাৎ মৃ’ত্যু বা পদ’ত্যাগে তাঁর ভাইরা রাজ্য শাস’নের ক্ষ’মতা পান না।

*রাজা আ’বুম্বির তৃতীয় রানী কন’স্ট্যান্সের কথায়, ‘প্রতিটি সফল পুরুষের সফলতার পেছনে থাকে একজন সফল এবং একনিষ্ঠ নারীর অবদান। আমাদের ঐতিহ্য হলো কেউ যখন রাজা হন, তখন তাঁর বড় স্ত্রীরা সব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কনিষ্ঠ স্ত্রীদের শিখিয়ে দেন এবং নতুন রাজাকে তাঁদের ঐতিহ্য সম্পর্কে অব’হিত করেন। কেননা, তিনি আগে রাজা ছিলেন না, ছিলেন রাজপুত্র।’
এই সুযোগে রাজা আ’বুম্বির রাজ’কার্য সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। রাজার মতে, তাঁর রাজ্যের জনগণের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি লালন করা ও র’ক্ষার দা’য়িত্ব তাঁর। আর এজন্য স্ত্রীরা তাঁকে সহ’যোগিতা করেন।

*এসবের বাইরেও একজন ফ’ন অর্থাৎ রাজার বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বহি’র্বিশ্বের সঙ্গে সুস’ম্পর্ক বজায় রাখেন, অভ্য’ন্তরীণ আই’নশৃঙ্খলা নি’য়ন্ত্রণে আই’ন প্রণ’য়ন ও প্রয়ো’গ করে থাকেন। রাজ্যের সব ধরনের বি’চার কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। কেননা, তিনিই সেখানকার চূড়া’ন্ত আদা’লত এবং তাঁরই সিদ্ধা’ন্তে অপরা’ধীকে শা’স্তি দেওয়া বা মও’কুফ করা হয়।
এছাড়া রাজাই এই রাজ্যের প্রধান যা’জক। তিনি পূর্বপুরুষদের শা’ন্তি প্রার্থনা করে ব’লি দেন। ক্যামেরুনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘আ’বিন-ই-ম’ফর’-এ সবার মধ্যমণি হিসেবে সব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

*ক্যামেরুনের বা’ফুট রাজ্যটি ঐতিহ্যবাহী এবং একইসঙ্গে আধুনিক শা’সন ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া বা’ফুট রাজ্যের একটি অন্যতম আক’র্ষণ হলো- রাজা দ্বিতীয় আবু’ম্বির রাজবাড়ি। রাজপ্রাসাদ বলতে যেমন বড় বড় অট্টা’লিকা বুঝি আমরা, আ’বুম্বির রাজবাড়ি কিন্তু তা নয়। তাঁর এই রাজ’বাড়িকে ‘ট’হ’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। এটি তৈরি হয়েছে কাঠ এবং পুষ্পলতা দিয়ে। ২০০৬ সালে এটিকে ক্যামেরুনের অন্যতম পর্য’টক আ’কর্ষণ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বিপ’ন্ন পর্য’টন এলাকা হিসেবে তা’লিকাভুক্ত করা হয়।

*রাজবাড়ি ঘিরে রয়েছে একটি ‘পবিত্র বন’। উত্তর-পশ্চিম ক্যামেরুনের বাফু’ট প্রাসাদটি ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই রাজ্যের রাজনৈতিক কর্ম’কাণ্ডের কেন্দ্র’বিন্দু হয়ে আছে। বাফু’টের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আচার এবং প্র’থাগত অনুষ্ঠান সবকিছুই এটিকে কেন্দ্র করে আব’র্তিত হয়। রাজবাড়িতে ৫০টির বেশি ঘর রয়েছে। এগুলো বাফুটের ফ’ন ও তাঁর স্ত্রীদের বসবাস এবং রাজার দরবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রাজবাড়িতে অবস্থিত তালপাতায় ঘেরা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি উপাস’নালয়টি ঐতিহ্যবাহী ভক্তি’মূলক স্থাপনার দারুণ এক নিদ’র্শন। এখানে বাফুটের প্রথম তিন রাজা ফি’রলো, নেবা’সি শু ও আম্বে’বির সমাধি রয়েছে।