প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “যেভাবে যুবদল নে’তা থেকে প’ল্টিবাজ যুবলীগ নে’তা শামীম”

“যেভাবে যুবদল নে’তা থেকে প’ল্টিবাজ যুবলীগ নে’তা শামীম”

2577

*কমপক্ষে ছয়জন অ’স্ত্রধারী দে’হরক্ষী রয়েছে তাঁর। সিকিউ’রিটির পোষাকে তাকে এমনভাবে গা’র্ড দেয় যে কেউ ভাববে তিনি সরকারী কোন উ’চ্চপদস্থ কর্ম’কর্তা। আসলে তিনি যুবলীগ নে’তা। ছোটখাটো মানুষ হলেও তাঁর ক্ষম’তার দা’পট আকা’শসমান। তিনি যখন চলেন তখন সঙ্গে চলে নি’রাপত্তা বল’য়। এই গু’রুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম।

*রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠি’কাদার হিসেবেই পরিচিত। গ’ণপূর্ত ভ’বনের বেশির ভাগ ঠিকা’দারি কাজই জি কে শামীম নিয়’ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গ’ণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন ঠিকা’দারি নিয়’ন্ত্রণকারী ব্যক্তি।

*বিএনপি-জামায়াত ক্ষ’মতায় থাকাকালে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভা’বশালী নেতা ও সাবেক গ’ণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের খুবই ঘনিষ্ঠ। সেই জি কে শামীম এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি আরো প্র’তিপত্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

*নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃ’ত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। সন্মানদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পা’স করার পর তাঁদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচার’ণাও চালিয়েছিলেন শামীম।

*গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর এজি’বি কলো’নি, হাসপাতাল জো’ন এবং মধ্য বাসাবোতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শামীম। ৪ নম্বর ওয়া’র্ড যুবদলের মাধ্যমেই তাঁর রাজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ’তা হয় এবং তাঁদের সহযো’গিতায় ধীরে ধীরে গ’ণপূর্ত ভবনের ঠিকা’দারি ব্যবসার নিয়’ন্ত্রণ নেন তিনি। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদকের প’দও বাগিয়ে নেন। বিএনপি আমলে গ’ণপূর্ত ভবন ছিল তাঁর দখলে। শামীম ছাড়া ওই মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ অন্য কারো পাওয়া ছিল দুঃসা’ধ্য ব্যা’পার।

*ক্ষম’তার পালাবদলে শামীমও ব’দলে গিয়ে এখন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা। পাশাপাশি তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও সহসভাপতি। একসময় মির্জা আব্বাস আর খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবিসহ সবুজবাগ-বাসাবো এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভা পেত জি কে শামীমের ব্যা’নার-পো’স্টার। এখন শোভা পায় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসহ পোস্টার-ব্যানার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের মতোই আওয়ামী সরকারের আমলেও জি কে শামীমের একক আধি’পত্য চলছে গ’ণপূর্তে ঠিকা’দারি ব্যবসায়।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষম’তায় আসার পর অ’বৈধ অস্ত্র’সহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জি কে শামীম। কিন্তু তাকে আ’টকে রাখা কি এত সো’জা!

*সম্পত্তির পা’হাড় গড়েছেন এই ছোটখাটো শামীম। বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্ল’ট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। এই বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ও’য়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার। শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ও’ল্ড ডিও’এইচএসে নিজের ফ্ল্যা’টে। এবং নিজের কার্যাল’য় বানি’য়ে বসেন নিকে’তন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভ’বন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বি’ঘা জমি কিনেছেন তিনি।

*আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক এস এম মেজবাহ হোসেন বুরুজ ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর মা’রা যাওয়ার পর শূন্য পদটি দেওয়া হয়েছে জি কে শামীমকে। শামীম ওই প’দ ব্যবহার করে সাংগঠনিক ক’র্মকাণ্ড চালা’চ্ছেন।