প্রচ্ছদ আইন-আদালত “প্রভা’বশালীদের মু’খোশ খুলে দিচ্ছে খালেদ, নিরা’পত্তা নিয়ে শ’ঙ্কা‍!”

“প্রভা’বশালীদের মু’খোশ খুলে দিচ্ছে খালেদ, নিরা’পত্তা নিয়ে শ’ঙ্কা‍!”

1070

*‘চি’ফ ইঞ্জি’নিয়ারের সঙ্গে খা’তির আছে। যে টাকা বেশি দিতে পারে আর কি… সেই কাজ পায়। আমি টাকা দিয়ে কাজ নিচ্ছি। এই যেমন একটা কাজের জন্য প্রধান প্রকৌ’শলীকে দিলাম ১৯ কোটি টাকা।’ নিজের অবৈ’ধপথে অর্থ উপার্জনের এমন বর্ণ’না দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।
জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সম্পদ, অর্থ উপার্জন, ক্যা’সিনো ব্য’বসার ত’থ্য অক’পটে স্বী’কার করেছেন তিনি। তাকে গ্রেপ্তারের পর আইন’শৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনীর একটি বিশেষ ইউ’নিটের জি’জ্ঞাসাবাদে এসব ত’থ্য জানিয়েছেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

*খালেদ মাহমুদের বর্ণনায় টেন্ডা’রবাণিজ্যের নিয়’ন্ত্রণ, প্রভা’বশালী ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মক’র্তার সঙ্গে অ’বৈধ আর্থিক লে’নদেনের চিত্র উঠে এসেছে। ক্ষম’তাসীন দলের কয়েক দুর্নী’তিবাজ নেতার সম্পর্কেও ত’থ্য দিয়েছেন তিনি। খালেদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ত’থ্যের ভিত্তিতে তা’লিকা প্র’ণয়ন এবং অ্যাক’শন প্ল্যা’ন তৈরির কাজ করছে আই’নশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্যা’সিনো কার’বারের অর্থ প্রভাব’শালী ম’হলের অনেকের পকে’টেই যেত। ক্ষম’তাসীন দলের প্র’ভাবশালী নেতা থেকে সরকারি কর্ম’কর্তারাও এ অর্থ’প্রাপ্তি থেকে বা’দ যেত না। কে কী পরিমাণ অর্থের ভা’গ পেতেন সে সম্পর্কেও ত’থ্য দিয়েছেন খালেদ মাহমুদ।

*সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমি গত আট বছরে ঢাকায় ৮০-৯০টি হাই’রাইজ বি’ল্ডিং করেছি। এসব টে’ন্ডার আমি পেয়েছি। সব কিছুর নিয়’ন্ত্রণ থাকে অফিসের হাতে। কে টে’ন্ডার পাবে কে কী করবে এসব তো তারা নির্ধা’রণ করে। এত পার’সেন্ট দিতে হবে এমন একটি বি’ষয় থাকে। তাদের (সরকারের সেবামূলক একটি প্রতি’ষ্ঠান) একটি কাজ পেতে ৫ কোটি টাকাও দিতে হয়েছে।’

*কীভাবে টে’ন্ডার বা’গিয়ে নেন সেই বর্ণ’না দেন এভাবে, ‘ক্যা’পাবল লাই’সেন্স থাকে যেগুলোয় তারা অংশ নেয়। আমার লাই’সেন্স ক্যাপা’বল। এখন ই-টে’ন্ডার হয়। ই-টে’ন্ডারের তথ্যও কর্তৃপ’ক্ষের কাছ থেকে জানার সিস্টে’ম আছে। সেভাবেই তারা জানালে তার পর কাজ হয়। এটা তো ধরেন এখন ওপে’ন সি’ক্রেট।’

*সূত্র জানায়, খালেদ মাহমুদ শিক্ষা প্রকৌ’শল অধি’দপ্তরের আগারগাঁও অফিসের এক কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা দেন। কারণ তার ৫০ লাখ টাকার একটি বি’ল আ’টকে রেখেছিলেন। এমন প্রেক্ষা’পটে এ টাকা না দিয়ে তার কোনো উপা’য় ছিল না বলে জানান তিনি।

*সূত্র আরও জানায়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের টেন্ডা’রে ব্যাপ’ক আধি’পত্য ছিল খালেদের। চট্টগ্রামের রেলওয়ের একটি টে’ন্ডার নিয়’মবহির্ভূতভাবে ঢাকায় আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন ধরনের ক’মিশন থাকে বলে জানান খালেদ। কোথাও ৫ শতাংশ কোথাও ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ওঠা’নামা করে এই কমি’শন।
সূত্র জানায়, অ’স্ত্র সম্পর্কে খালেদ বলেন, ‘আমার দুজন ব’ডিগার্ড। একজন চলে যাওয়ায় আরেকজনকে নিয়েছিলাম।’

*উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের অপ’কর্ম নিয়ে ক্ষো’ভ প্র’কাশ করেন। বৈঠকে যুবলীগের কয়েক নেতাকে নিয়ে ক্ষো’ভ প্রকা’শ করে বলেন, ‘যুবলীগ ঢাকা মহানগরের এক নেতা যাচ্ছে’তাই করে বে’ড়াচ্ছে, চাঁ’দাবাজি করছে। আরেকজন দিনের বেলাতেই তিন গা’ড়িভর্তি অস্ত্র’বাজসহ প্রকাশ্যে অ’স্ত্র উঁ’চিয়ে চলে। সদল’বলে অ’স্ত্র নিয়ে ঘো’রে। এসব ব’ন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্র’বাজি করে, যারা ক্যা’ডার পো’ষে, তারা সাব’ধান হয়ে যান, এসব ব’ন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জ’ঙ্গি দ’মন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরও দম’ন করা হবে’- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলা বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে খালেদ মাহমুদকে জিজ্ঞাসবাদে প্রাপ্ত তথ্যে।

*র‌্যা’বের এক কর্মক’র্তা বলেন, ‘খালেদ অনেক ধরনের ত’থ্যই দিচ্ছে। সব ত’থ্য যা’চাই-বা’ছাই করে প্রয়োজনীয় ব্য’বস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে রাজধানীর কমলাপুরে খালেদের ট’র্চার সে’লে পাওয়া গেছে নির্যা’তন চালা’নোর অত্যা’ধুনিক সব য’ন্ত্রপাতি। কমলাপুর ইস্টা’র্ন টা’ওয়ারে অবস্থিত ওই ট’র্চার সে’লে ইলে’কট্রিক শ’ক দেওয়ার অত্যা’ধুনিক মেশি’নসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র’পাতি পাওয়া যায়। কেউ খালেদের কথার অ’বাধ্য হলেই এসব যন্ত্র’পাতি ব্যব’হার করে চালানো হতো অমা’নুষিক নি’র্যাতন।

*অ’স্ত্র ও মা’দক মা’মলায় ৭ দিনের রি’মান্ডে খালেদ

*অ’বৈধ জু’য়া ও ক্যা’সিনো চা’লানোর অ’ভিযোগে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরু’দ্ধে মা’দক, অস্ত্র’ ও মা’নি লন্ডা’রিং আইনে পাঁচটি মা’মলা করেছে র‌্যা’ব। গতকাল গুলশান থানায় তিনটি এবং মতিঝিল থানায় দুটি মাম’লা করা হয়। গুলশান থানার তিনটি মামলার বাদী হয়েছেন র‌্যা’ব-৩ এর ওয়া’রেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা এবং মতিঝিল থানার দুটি মাম’লার বাদী হয়েছেন র‌্যা’ব-৩-এর ডিএডি কামরুজ্জামান।

*পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমি’শনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, গতকাল বিকালে অ’স্ত্র ও মা’দক আ’ইনের মা’মলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রি’মান্ড চেয়ে খালেদকে আদা’লতে পাঠানো হয়। মাম’লার সুষ্ঠু ত’দন্তের জন্য আদা’লতে এ আ’বেদন করেন মাম’লার ত’দন্ত কর্মকর্তা গুলশান থা’নার পরি’দর্শক (অপা’রেশনস) আমিনুল ইসলাম।
দুটি মাম’লায় মোট ৭ দিনের রি’মান্ড মঞ্জু’র করেন আ’দালত। অ’স্ত্র মাম’লায় চার দিনের রি’মান্ড মঞ্জু’র করেন মহানগর ম্যাজি’স্ট্রেট মাহমুদা আক্তার। মা’দক মাম’লায় তিন দিনের রি’মান্ড দেন মহানগর ম্যা’জিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান।

*রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসি’কিউটর আজাদ রহমান। এছাড়া আসা’মিপক্ষের আ’ইনজীবী মাহমুদুল হক রি’মান্ডের বিরো’ধিতা করে জামি’নের আ’বেদন করেন। কিন্তু শুনানি শেষে আদা’লত তাদের আ’বেদন খারি’জ করে দেন। হাত’কড়া পরা খালেদকে গতকাল রাত ৮টা ২৫ মিনিটে কাঠ’গড়ায় তোলা হয়।
এর আগে, বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৬৯ নম্বর রোডের বাসা থেকে খালেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে অ’স্ত্র, ই’য়াবা, ন’গদ টাকা ও ড’লার উ’দ্ধার করা হয়। পরে তাকে র‌্যা’ব-৩-এর কার্যা’লয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল দুপুরে খালেদকে গুলশান থা’নায় হস্তা’ন্তর করা হয়।