প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “যুবলীগ নেতা খালেদ, যিনি আ’ন্ডার ওয়া’র্ল্ডেরও বাদশা”

“যুবলীগ নেতা খালেদ, যিনি আ’ন্ডার ওয়া’র্ল্ডেরও বাদশা”

506

*আ’ন্ডার ওয়া’র্ল্ডের শী’র্ষ সন্ত্রা’সীদের সঙ্গে সরাসরি কানে’কশন ছিলো ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুইয়ার। এক সময় তিনি শী’র্ষ সন্ত্রা’সী জিসা’নের সে’কেন্ড ই’ন কমা’ন্ড ছিলেন। মালিবাগ বাজারে সান’রাইজ হো’টেলে ডি’বি পুলিশের হা’নার পর অপা’রেশনে জি’সান বাহি’নীর গু’লিতে আলমগীর হোসেনসহ ২ ডি’বি অফিসার নি’হত হন। এ ঘটনায় জিসানকে না পেয়ে তার কিছু সহযো’গিকে ধ’রিয়ে দেন খালেদ মাহমুদ। তখনই খালেদ ক্রস’ফায়ার থেকে বেঁ’চে যান।

*এরপর থেকে জি’সানের সঙ্গে তার বিরো’ধ ঘ’টে। গ্রেফতার ও ক্রস’ফায়ার এড়াতে জি’সান বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশে পা’ড়ি জমায়। এ সময় ভারতে গিয়ে খালেদ মাহমুদ বাংলাদেশের প’লাতক শী’র্ষ সন্ত্রা’সীদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের অভাবের সময় খালেদ টাকা দিয়ে পলা’তক সন্ত্রা’সীদের সাহায্য করেছেন।

*গো’য়েন্দা সূত্র জানায়, এর আগে ভারতে পলা’তক বিএনপিপন্থী শী’র্ষ’ সন্ত্রা’সী জাফর আহমেদ মানিকের সঙ্গে ঘনি’ষ্ঠ সম্প’র্ক ছিল খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। সেই সম্পর্কে ভাঙ’ন ধরার পর তার সম্প’র্ক গড়ে ওঠে দুবাইয়ে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রা’সী জিসা’নের সঙ্গে। তার সহযো’গিতা নিয়ে টেন্ডা’রবাজিতে একচ্ছত্র আধি’পত্য বিস্তা’র করতে শুরু করেন খালেদ। সেই টাকার ভা’গ নিয়’মিত পৌঁছে যেত জি’সানের কাছে। আন্ডা’রওয়ার্ল্ডে খালেদের অব’স্থান প্রমাণে সিঙ্গাপুরের অভি’জাত হোটেল মে’রিনা বের সুই’মিংপুলে জি’সান ও খালেদের সাঁতা’র কাটা’র ছবি দিয়ে ছা’পানো পো’স্টারে ছেয়ে যায় নগরী।

*গো’য়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এক সময় টেন্ডার’বাজির টাকার ভাগ’বাটোয়ারা নিয়ে জি’সানের সঙ্গেও সম্প’র্কের অব’নতি হয় তার। এসময় সম্রাটের সঙ্গে ঘনি’ষ্ঠতার শুরু খালেদের। জিসানের কাছ থেকেও তিনি দূরে সরে আসেন। এক পর্যায়ে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে আই’ন শৃ’ঙ্খলা বাহি’নী দিয়ে জি’সানের বেশ কিছু ক্যা’ডার ধরি’য়ে দেন তিনি, বেশ কয়েকজন ক্রস’ফায়ারে নি’হত হয়। এরপর মুখো’মুখি হয়ে পড়েন জি’সান ও খালেদ। তখন থেকেই নিরা’পত্তার খাতিরে অ’স্ত্র উঁ’চিয়ে চলতে থাকেন খালেদ ও তার ক্যা’ডাররা।

*বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আরেক শীর্ষ সন্ত্রা’সীর সঙ্গে খালেদের ঘনি’ষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দুইজনের মধ্যে বৈ’ঠকও হয়েছে। থাইল্যান্ডে পলা’তক আরেক শী’র্ষ সন্ত্রা’সী নবী উল্লাহ নবীর সঙ্গেও রয়েছে খালেদের ঘনি’ষ্ঠ সম্প’র্ক।

*আন্ডারও’য়ার্ল্ড ও খালেদের ঘ’নিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, থাইল্যান্ডে পলা’তক মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রা’সী নবী উল্লাহ নবী খালেদের ব্যব’সায়িক অংশী’দার। ব্যাংককে একটি টু-স্টার মানের হোটেল ও পাতায়াতে ফ্ল্যা’ট ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে খালেদের। এসব দেখভাল করেন নবী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভি’জাত সুপার’মল প্যাভেলিয়নের উপরে ১১ কোটি টাকায় সম্পতি অ্যাপার্ট’মেন্ট কিনেছেন খালেদ। সেখানে গড়েছেন সেকেন্ড হো’ম। স্কটল্যান্ডেও কিনেছেন বাড়ি। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পরিবার নিয়ে ঘনঘন যাতায়াত করেন। সেখানে বিনিয়োগ ভিসায় স্থায়ীভাবে পরিবার নিয়ে থাকার প্রস্ততিও চলছে তার।

*জানা গেছে, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ পাঁচজন সিঙ্গাপুর এয়ার’লাইন্সের সকালের একটি ফ্লা’ইটে দেশ ছা’ড়তে চেয়েছিলেন। ভোরে তারা সে উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান’বন্দরেও যান। তাদের সন্দে’হ ছিল, তারা বিমান’বন্দরেই আইন শৃঙ্খ’লা বা’হিনীর হাতে ধ’রা প’ড়তে পারেন। এ আত’ঙ্ক থেকে তারা বিমানবন্দর থেকে গতকাল বিকেলে ফিরে আসেন।

*র‌্যা’বের গো’য়েন্দা সূত্র জানায়, বিমা’নবন্দর থেকে ফে’রার পথে সম্রাট-খালেদসহ পাঁচজন এক সঙ্গেই ছিলেন। পরে দুপুরের দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গিয়ে যে যার মতো আলাদা হয়ে যান। সেখান থেকে খালেদ বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে ফিরে যান তার বাসায়। সেখান থেকে দ্রুতই বে’র হয়ে যাওয়ার কথা ছিল খালেদের। কিন্তু এর মধ্যেই র‌্যা’ব তার বাসায় ঢুকে পড়ে। যার ফলে তিনি আর বাসা থেকে বের হতে পারেননি। সেখানেই গ্রেফতার হন খালেদ।

*খালেদের সঙ্গে ফ্রিডম পার্টির সংশ্লি’ষ্টতা ছিল?

*যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া একসময় ফ্রিডম পার্টি করতেন। এমনকি তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ক্যা’ডার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন- এমন তথ্যই এসেছে গোয়ে’ন্দা সংস্থা’র হাতে। গো’য়েন্দা সংস্থাগুলো এখন এই তথ্যগুলোকে প’রীক্ষা-নিরী’ক্ষা করছেন।

*একাধিক গো’য়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে যে, ঢাকা যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ একজন সুবিধা’বাদী আওয়ামী লীগার। আওয়ামী লীগে এসে নানারকম অ’পকর্ম করে দলের ইমে’জ ন’ষ্ট করাই ছিল তার মি’শন। গো’য়েন্দা সংস্থা’গুলোর কাছে এরকম প্রাথমিক তথ্য এসেছে যে খালেদ একসময় ফ্রিডম পার্টির ক্যা’ডার ছিলেন। ফ্রিডম পার্টির ক্যা’ডার থেকে তিনি মির্জা আব্বাসের ক্যা’ডার হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি যুবলীগে এসেছেন। কখন কীভাবে তিনি যুবলীগে এলেন তা নিয়ে খোঁ’জখবর চলছে।

*একজন গোয়ে’ন্দা কর্মকর্তা, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুপ্র’বেশকারীদের ব্যা’পারে অনুস’ন্ধান চালা’চ্ছেন, তিনি বলেছেন, ‍খালেদ মির্জা আব্বাসের ক্যা’ডার ছিলেন এ ব্যা’পারে কোনো স’ন্দেহ নেই। কিন্তু তার ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে সম্পৃ’ক্ততা আমরা এখনো খ’তিয়ে দেখছি এবং খুব শিগগিরই আমরা তা পাবো বলে মনে করছি।