প্রচ্ছদ রাজনীতি “ওবায়দুলকে আর আ’লীগের সা. সম্পাদক রাখতে চান না শেখ হাসিনা?”

“ওবায়দুলকে আর আ’লীগের সা. সম্পাদক রাখতে চান না শেখ হাসিনা?”

2273

*২০ এবং ২১শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউ’ন্সিল অধিবে’শনের তা’রিখ চূড়ান্ত হয়েছে। তা’রিখ চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের মধ্যে চা’ঞ্চল্য সৃ’ষ্টি হয়েছে। তবে এই চাঞ্চ’ল্যের কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের দায়ি’ত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এতদিন ধ’রেই নেওয়া হয়েছিল যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের পুনরায় নির্বাচিত হবেন। সাধারণত একজন সাধারণ সম্পাদক হলে তাকে অন্তত দু’ টার্মের জন্য সাধারণ সম্পাদক রাখা হয়।

*সে হিসেবে এবারের কাউন্সিলে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হচ্ছে না সে বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু সা’ম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার কিছু উ’দ্যোগ, তৎপ’রতা, প’দক্ষেপের কারণে সাধারণ সম্পাদক প’দ নিয়েও অনি’শ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের দা’য়িত্বশীল অনেকে মনে করছে, এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনেকগুলো চ’মক দেখাবেন এরমধ্যে সাধারণ সম্পাদকের প’দেও একটি চ’মক আসতে পারে।

*আওয়ামী লীগ সভাপতি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ থেকেই বলে আসছিলেন যে তিনি জাতির পিতার যে সাংগঠনিক নীতি এবং সাংগঠনিক আকা’ঙ্ক্ষা তা পূ’রণ করতে চান। জাতির পিতা দল পরিচালনার জন্য মন্ত্রিত্ব থেকে প’দত্যাগ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল যিনি দলের নেতৃত্বে থাকবেন বা দল পরিচা’লনা করবেন মন্ত্রিত্ব বা সরকারের কোনো দা’য়িত্ব গ্রহণ করবেন না। এই নীতিটা অনুস’রণ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলকে শক্তি’শালী করা এবং যারা মন্ত্রী থাকবেন তাঁদেরকে জবা’বদিহিতার আও’তায় আনা। কিন্তু ৭৫এর ১৫ আগস্টের পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন পর ক্ষ’মতায় আসে। তখন বাস্ত’বতার আলোকেই জাতির পিতার সেই স্ব’প্ন পূরণ করতে পারেনি। যারা প্রভাব’শালী নেতা ছিলেন তাঁরাই মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সরকার ও দল একা’কার হয়ে গেছে। যারফলে সরকারের অনেক ব্যর্থ’তার ভাগী’দার দল হয়েছে।

*২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ টানা তিনবার ক্ষ’মতায়। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলকে সরকার থেকে আ’লাদা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। গত দুটি কাউন্সিলের বিশ্লে’ষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি পর্যায়’ক্রমে কিছু নেতা তৈরি করছেন যারা মন্ত্রী নন, এমপি নন। সার্ব’ক্ষণিকভাবে দলের দেখ’ভাল করছেন। এবারের কাউন্সিলেও তিনি একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক চান এমন একটি ইঙ্গি’ত দিয়েছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এটি যদি তিনি বাস্তবায়ন করেন তাহলে দলের হেভি’ওয়েট নেতারা কেউই সাধারণ সম্পাদকের জন্য আর নিজদেরকে জড়ি’ত রাখতে পারবেন না।

*যাদের নাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের নিজেই আওয়ামী লীগের প্রভা’বশালী মন্ত্রী। অন্যদিকে ড. আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের কৃষিমন্ত্রী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য। ওবায়দুল কাদের যখন অ’সুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তখন আলো’চনায় তাঁর নাম এসেছিল। শেষ পর্যন্ত যদি ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক না থাকেন তবে অন্যকোনো মন্ত্রী যে দলের সাধারণ সম্পাদকের প’দ পাবেন না তা মুটামুটি নিশ্চিত।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগে যারা এখন কোন প’দে নেই, যারা এমপি, মন্ত্রী নন এরকম কাউকে সাধারণ সম্পাদকের প’দ দিয়ে পুরস্কৃত করার চিন্তা ভাবনাটি অ’বাস্তব নয়। এরকম চিন্তা’ভাবনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থা’নীয় নেতা বলেছেন যে, শেখ হাসিনা এখন দলকে সরকার থেকে আলাদা করা এবং দলকে নি’ষ্কলুষ রাখার জন্য সর্বোচ্চ চে’ষ্টা করছেন। সেই বিবে’চনা থেকে দলে যদি একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক দেওয়া হয় তাহলে অবা’ক হওয়ার কিছু নেই।

সেক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ বেশকিছু নেতার নাম আলোচ’নায় আসতে পারে। তবে যাকেই তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নি’য়োগ দেন না কেন তাঁর ই’মেজ হতে হবে ক্লি’ন এবং সার্বক্ষ’ণিকভাবে দলের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দলকে গু’ছানোর জন্য নির’বিচ্ছিন্নভাবে পরি’শ্রম করতে হবে। এরকম একজন বি’কল্প কি পাবে আওয়ামী লীগ? যদি শেষপর্যন্ত এরকম বি’কল্প না পাওয়া যায় তাহলে হয়তো ওবায়দুল কাদেরই দ্বিতীয়বারের মত দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দা’য়িত্ব পা’লন করবেন।