প্রচ্ছদ বাংলাদেশ গ্রাম-প্রান্তর “স্ত্রীকে গণধ’র্ষণ ও স্বামীর হাত-পা ভে’ঙে দিল শ্রমিক লীগ নেতা”

“স্ত্রীকে গণধ’র্ষণ ও স্বামীর হাত-পা ভে’ঙে দিল শ্রমিক লীগ নেতা”

70

*পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গৃহ’বধূকে গণধ’র্ষণ মা’মলার বা’দী ও ধ’র্ষিতার স্বামীকে পি’টিয়ে হাত-পা ভে’ঙে দিয়েছে মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মৃধার নেতৃত্বে মাম’লার এজাহারভুক্ত অন্য আসা’মিরা। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ধূলাসার ইউনিয়নের চাপলী বাজারে এ ঘট’না ঘটে। ওই গৃহব’ধূর স্বামী পশ্চিম লতাচাপলি এলাকার বাসিন্দা মো. সিদ্দিক হাওলাদার গণধ’র্ষণ মা’মলার বা’দী ছিলেন। জ্ঞানহীন অবস্থায় তাকে উ’দ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পা’ঠানো হয়েছে। বাদীর বাম হাত ও দুই পা পি’টিয়ে ভে’ঙে দেয়া হয়েছে।

*মহিপুর থানার ওসি মো. সোহেল আহম্মদ জানান, রাত ৯টার দিকে চাপলী বাজারে যান সিদ্দিক হাওলাদার। এ সময় মো. শাকিল গং’রা তাকে পি’টিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তুলে নির্জন জায়গায় তুলে নিয়ে যায়। পরে সিদ্দিকের বাম হাত ও দুই পা ভে’ঙে দেওয়ার খবর পেয়ে গুরু’তর অবস্থায় তাকে উ’দ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভ’র্তি করা হয়। অবস্থার অব’নতি হলে তাৎক্ষণিক তাকে বরিশাল শেবাচিমে পাঠা’নো হয়েছে। এ ঘটনায় আ’সামিদের গ্রেফতারের অভি’যান চলছে।
ওসি আরও জানান, শাকিলসহ আসামিরা কয়েকদিন আগে জেলহাজত থেকে বের হয়ে এলাকায় এসেছে বলে শুনেছি।

*সিদ্দিকের স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানান, গণধ’র্ষণ মা’মলার আসামি মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিলসহ তিনজন জেলহাজতে ছিলো। গত ৩/৪ দিন আগে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় আসে। রাতে চাপলী বাজারে যান মা’মলার বাদী সিদ্দিক। এ সময় গণধ’র্ষণ মাম’লার আ’সামি শাকিলের নেতৃত্বে শাহ আলম, আল-আমিন, রবিউলসহ ৮/১০ জন মিলে সিদ্দিককে পেটাতে থাকে। আ’সামিরা প্র’ভাবশালী হওয়ায় আশ-পাশের লোকজন এর প্র’তিবাদ করতে এগিয়ে আসেনি। গুরুতর আহত অব’স্থায় ওই বাজার থেকে তাকে তুলে নির্জনে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা যাবত তার উপর চলে নির্ম’ম নির্যা’তন। এতে তার হাত-পা ভে’ঙে যায়। পরে শাকিল গং’রা পশ্চিম চাপলি সিদ্দিকের বাড়ি সংলগ্ন নির্জন স্থানে তাকে জ্ঞা’নহীন অব’স্থায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে তার ভাইসহ এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।

*প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল রাতে ধূলাসার ইউনিয়নের পশ্চিম চাপলী গ্রামে মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মৃধার নেতৃত্বে শাহ আলম, শাহিন, রবিউল, আল-আমিন, আ. রশিদসহ অজ্ঞাত ৭/৮ যুবক স্বামী সিদ্দিক হাওলাদারকে অ’স্ত্রের মুখে বেঁ’ধে রেখে তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাত’ভর পালাক্র’মে ধ’র্ষণ করে।

*সিদ্দিক তার স্ত্রীকে নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকা থেকে কলাপাড়ায় যান। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী খালা হাসিনা বেগম ও খালু মতিয়ার রহমানের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে শাকিল গং’রা ওই বাড়িতে দুই দিকের দরজা দিয়ে ঢু’কে প্রথমে সিদ্দিকের কাছে জানতে চায় তার বিয়ে করা স্ত্রী এর কি প্রমাণ আছে? এরপর সিদ্দিককে বেধ’ড়ক মা’রধর করে হাত-পা বেঁ’ধে বাড়ি সং’লগ্ন বিলে নিয়ে যায়। আর স্ত্রীকে প্রথমে ওই ঘরে আ’টকে এবং পরে একটি মাছের ঘেরের ঝুঁপড়ি ঘরে নিয়ে রাত’ভর পালা’ক্রমে ধ’র্ষণ করে বলে এজা’হারে উল্লেখ করা হয়েছে। আসা’মিরা প্রভা’বশালী হওয়ায় এ ঘট’নায় মহিপুর থানায় মাম’লা না নিলে স্বামী সিদ্দিক বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যা’তন দ’মন ট্রাইব্যু’নালে গণধ’র্ষণের মাম’লা দা’য়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মহিপুর থানার ওসিকে মাম’লাটি এজা’হার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্য’বস্থা গ্রহণের নি’র্দেশ প্রদান করেন।