প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন “ছাত্রীকে ভিসির অশা’লীন ধমকের ফোনালাপ ফাঁ’স, ফেসবুকে তোলপাড়”

“ছাত্রীকে ভিসির অশা’লীন ধমকের ফোনালাপ ফাঁ’স, ফেসবুকে তোলপাড়”

114

*গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের অশো”ভন ভাষায় কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
উপাচার্যের ফেসবুক আইডি হ্যা’ক করার হু’মকির অভি’যোগ তুলে ফাতেমা তুজ জিনিয়া নামে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহি’ষ্কারও করা হয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেইলি সান পত্রিকার প্রতিনিধির দা’য়িত্ব পালন করছিলেন।

*অডিওতে শোনা যায়, রু’ঢ় ভাষায় জিনিয়াকে ভর্ৎ’সনা করছেন উপাচার্য। তিনি বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? ফা’জিল কোথাকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তুমি জানো না? বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তোমাদের মতো বে’য়াদব তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী তোর আব্বার কাছে শুনিস। গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোদিন? আমি খুলছি বলেই তো তোর চা’ন্স হইছে। না হলে তো তুই রাস্তা দিয়া ঘুরে বেড়াতি। বেয়াদব ছেলে-মেয়ে।’

*এদিকে উপাচার্যের সঙ্গে জিনিয়ার কথোপকথনের ওই অডিও সত্য বলে স্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশীকুজ্জামান ভূইয়া। তিনি বলেন, ‘জিনিয়াকে এই কথোপকথনের পরে নয়, আগেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বহি’ষ্কার করা হয়েছে।’

*কিন্তু এরপরেও একজন উপাচার্য কোনো শিক্ষার্থীকে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারেন কি না প্রশ্নে প্রক্টর বলেন, ‘স্যার হয়ত রেগে গিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পিতৃতুল্য। যখন পিতা রেগে যান তখন বিভিন্ন শব্দ অটোমেটিক্যালি বের হয়ে যায়। ১২ হাজার ছাত্রছাত্রীর পিতামাতা তিনি। তিনি একটা কথা বললেন সেটাই দেখলেন আর যে কাজগুলো এই মেয়ে করল সেটা দেখবেন না?’

*এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের ফেসবুক আইডি হ্যা’ক করার হুম’কির অ’ভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আইন বিভাগের এই ছাত্রীকে সাময়িক ব’হিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

*বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ব’হিষ্কারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পর্কে ফেসবুকে খারা’প মন্তব্য করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষু’ণ্ন হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক আইডি হ্যা’ক করে প্রশাসনকে বিব্র’তকর পরিস্থি’তিতে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলা’বস্থা সৃ’ষ্টি করার হু’মকি দিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধির সুস্প’ষ্ট লঙ্ঘ’ন এবং শাস্তি’যোগ্য অপ’রাধ।’

*এদিকে আজ মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই ছাত্রীকে বহি’ষ্কারের কারণ ব্যাখ্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ফাতেমা তুজ জিনিয়ার ব’হিষ্কার শুধু ফেসবুক স্টাটাসের জন্য দেওয়া হয়নি। জিনিয়া অন্যা’য়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে ফেসবুকে অশা’লীন, কুরু’চিপূর্ণ কথাবার্তা লেখা, কুৎ’সা র’টানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ফেসবুক ও ই-মেইল আইডি হ্যা’ক এবং ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট হ্যা’ক করে ভর্তি পরীক্ষা বানচাল করার ষড়’যন্ত্রে লি’প্ত ছিল।’

*তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে ভাইস চ্যান্সেলরের ফেসবুক আইডি দুইবার হ্যা’ক করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদেরকে নিয়ে খেলতে চাওয়া, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে মিথ্যা’চার ও অ’শালীন বক্তব্য, অনুমতি ছাড়া প্রশাসনের বক্তব্য রেকর্ড করাকে স্বাধীনতা মনে করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে শিক্ষকদের অপ’মান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরু’দ্ধে ষ’ড়যন্ত্র করা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অ’ন্যায়, গ’র্হিত ও শা’স্তিযোগ্য অপ’রাধ।’

ফোনালাপ:

ছাত্রীকে ভিসির অশালীন ধমকের ফোনালাপ ফাঁস, ফেসবুকে তোলপাড়

ছাত্রীকে ভিসির অশালীন ধমকের ফোনালাপ ফাঁস, ফেসবুকে তোলপাড়

Posted by Sompadak.com on Tuesday, September 17, 2019