প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন “নি’র্দোষ প্রমাণিত হয়ে প’দ ফিরে পাওয়ার দা’বি রাব্বানীর”

“নি’র্দোষ প্রমাণিত হয়ে প’দ ফিরে পাওয়ার দা’বি রাব্বানীর”

98

*জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ‘ঈদের খরচ’ হিসেবে পদ’চ্যুত ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী ‘ন্যায্য পা’ওনা’ চেয়েছিলেন বলে যেসব কথা ছড়া’চ্ছে তা সত্য নয় বলে দা’বি করেছেন রাব্বানী। তার কথাকে ভু’লভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে অভি’যোগ করেছেন তিনি।

*রাব্বানী বলেছেন, ‘উপাচার্য ছেলেপেলেদের যখন টাকা দিয়েছিলেন, তখন বলা হয়েছিল ঈদের বোনাস হিসেবে টাকাটা দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের কানেও আসে। তখন আমি আর শোভন ম্যামের কাছে গিয়ে (ছাত্রলীগের পদ’চ্যুত সভাপতি) হাসতে হাসতে বললাম যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে ঈদের খরচ দিলেন, আমাদের খরচ কই? বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছিলেন, সাড়ে সাত কোটি কম্বল এল, আমার কম্বলটা গেল কই- সে রকমভাবেই কথাটা বলেছিলাম। এটা ছিল মজা করে বলা। আমার কথাকে ভু’লভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।’

*জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কেন দেখা করতে গিয়েছিলেন, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ছাত্রলীগের পদ’চ্যুত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তার ভাষ্য, ‘জাহাঙ্গীরনগরে আমরা গিয়েছিলাম দুটি কারণে। এক, জাকসু নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য’মূলকভাবে বি’তর্কিত করে হা’রানোর কোনো প্ল্যান কি না- এটা জানতে। দুই, উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়টির সঙ্গে ছাত্রলীগের নামটা কেন এল- এটা জানতে।

*যখন আমরা উপাচার্য ম্যামকে বললাম যে, এর সঙ্গে আপনার স্বামী ও ছেলের সংশ্লি’ষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। তখন সেই বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে তিনি আপার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে আমাদের নামে কিছু কথা বলেছেন। তবে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। অথচ যারা টাকা নিয়েছেন, তারাই বলেছেন যে উপাচার্যের স্বামী ও ছেলে এর সঙ্গে জড়িত।’
রাব্বানীর বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিষয়টি ‘ক্লিয়ার’ হলে ‘সবকিছু আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে।’ তিনি আবার তার প’দ ফিরে পাবেন।

*রাব্বানী কোনমতেই পদ’ত্যাগ করবেন না

*বি’তর্কিত কর্মকা’ণ্ড ও শৃঙ্খ’লা ভ’ঙ্গের অ’ভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প’দ হারানো গোলাম রাব্বানীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্যপদ থেকে অপ’সারণ বা পদ’ত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, ‘ছাত্রলীগের বিষয়টির সঙ্গে ডাকসু বা সিনেটের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই ডাকসু থেকে পদত্যা’গের প্রশ্নই আসে না।’

*সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্যপদ থেকে ছাত্রলীগের প’দচ্যুত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর পদ’ত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর এসব কথা গোলাম রাব্বানী বলেন। ছাত্রলীগের প’দ হারা’নোর পর থেকে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ও ডাকসু ভিপি নুরুল হক ডাকসু ও সিনেট থেকে রাব্বানীর প’দত্যাগ দা’বি করে আসছেন।

*ডাকসু বা সিনেট থেকে প’দত্যাগ করবেন কি না- এমন প্রশ্বের উত্তরে রাব্বানী বলেন, ‘পদ’ত্যাগের প্রশ্নই আসে না। পদ’ত্যাগ কেন করব? ডাকসু বা সিনেট থেকে আমার পদ’ত্যাগের দা’বিটি খুবই লেইম। এই দা’বির ভিত্তি কী?’

*রাব্বানী দা’বি করে বলেন, ‘আমাদের বি’রুদ্ধে একটা ষড়য’ন্ত্র হয়েছে, যা ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে। নেত্রীর কাছে কিছু বিষয় গিয়েছে, তিনি ক’ষ্ট পেয়েছেন। সেই জায়গা থেকে আমরা সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছি, নেত্রীর মনে ক’ষ্ট দিয়ে আমরা ছাত্রলীগ করব না। এই জায়গা থেকে আমরা ছাত্রলীগের প’দ থেকে পদ’ত্যাগ করেছি। আমরা অপ’রাধী নই, আমাদের ব’লির পাঁঠা বানানো হয়েছে, আমরা ষড়’যন্ত্রের শি’কার হয়েছি। পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে ছাত্রলীগের ওপর দো’ষ চা’পিয়ে দিয়েছেন উপাচার্য। এর সঙ্গে ডাকসু থেকে পদ’ত্যাগ করার কোনো সম্পর্ক নেই।’

*শোভনের সদস্যপদ থেকে পদ’ত্যাগের বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সে ডাকসুতে নির্বাচিত ছিলেন না, ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমরা সম্মি’লিতভাবে তাঁকে সিনেটে নিয়ে এসেছিলাম। নেত্রীর মনে ক’ষ্ট দিয়ে তিনি অনু’তপ্ত, সে নিজের জায়গা থেকে পদ’ত্যাগ করেছে। এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে তিনি অন্যা’য় করেছেন। যেসব অভি’যোগের কথা বলা হয়েছে, একটাও প্রমাণ হয়নি, হবেও না। কারণ আমরা এ ধরনের কিছু করিনি। পত্রপত্রিকায় যা এসেছে, কোনোটিরই দা’লিলিক তথ্য-প্রমা’ণ নেই।