প্রচ্ছদ বিশ্ব “অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যু’দ্ধ আসন্ন?”

“অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যু’দ্ধ আসন্ন?”

54

*হুথি বিদ্রো’হীরা দা’বি করছে এই হা’মলা তারা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দা’বি এর পেছনে আছে ইরান। আর ইরান এর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্কের কথা জো’র গলায় অ’স্বীকার করছে। সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার ওপর নাটকীয় হা’মলার পর তী’ব্র বাকযু’দ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সৌদি আরবের এই তেলস্থাপনাগুলো গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এগুলো যে কতটা না’জুক অব’স্থায় আছে, এই হা’মলা সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

*ইয়েমেনের বি’রুদ্ধে যে বিমান হাম’লা চালাচ্ছে সৌদি আরব, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মদ’দ আছে। সৌদি আরবের এসব বিমান সরবরাহ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। বহু দিন ধরে সৌদি আরব হুথি বিদ্রো’হীদের বি’রুদ্ধে বিমান হাম’লা চা’লিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু প্রতিপক্ষও যে পা’ল্টা হা’মলার ক্ষম’তা রাখে, সৌদি তেল স্থাপনার ওপর এই আঘা’ত তারই প্রমাণ।

*তবে এই ঘট’না সেই পুরোনো বিত’র্ককে আবার উ’স্কে দিয়েছে- হুথি বিদ্রো’হীদের ইরান কী পরিমাণ সামরিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমনিতেই অস্থি’তিশীল। সেখানে এই সর্বশেষ ঘট’না যেন পুরো অঞ্চলের পরি’স্থিতি আরও অগ্নি’গর্ভ করে তুলেছে।
কিন্তু এই হা’মলা একই সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং কৌশলের ব্য’র্থতাও ফুটিয়ে তুলেছে।
সৌদি তেল স্থাপনায় হাম’লার ব্যাপারে নানা দা’বি এবং পা’ল্টা দা’বির মধ্যে অনেক তথ্য এখনো অজানা।

*হুথি বিদ্রো’হীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন টা’র্গেটে আগেও ড্রোন এবং মিসাইল হা’মলা চালিয়েছে। কিন্তু ড্রো’ন হা’মলা থেকে তারা খুব সীমিত সাফল্যই পেয়েছে।
তবে এবারের যে হাম’লা সেটা এমন মা’ত্রার যে তার সঙ্গে আগেরগুলোর কোন তুলনাই চলে না। বহুদূর থেকে যেরকম ব্যা’পক মা’ত্রায় যে ধরণের লক্ষ্য’বস্তুতে হা’মলা করা হয়েছে, তার ন’জির নেই।

*মি’সাইল না ড্রো’ন: এই হা’মলার ব্যাপারে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর অমী’মাংসিত। হাম’লায় কি ‘আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল’ (ইউএভি) ব্য’বহার করা হয়েছে, নাকি নতুন কোন ধরণের মি’সাইল। যদি মি’সাইল ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সৌদি বিমান প্রতি’রক্ষা ব্যবস্থা কেন তার সংকেত পেল না?
আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে হাম’লার পেছনে ইরাকের কোন ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী ছিল, নাকি স্বয়ং ইরানই জড়িত?

*মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কিন্তু কোন সময় ন’ষ্ট না করে সরাসরি তেহরানের দিকে আঙ্গুল তু’লছেন এই ঘট’নার জন্য। ঘট’নার ব্যাপারে কোন গোয়েন্দা তথ্যের জন্য পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেননি।
কয়েকঘন্টা পর অবশ্য মার্কিন সূত্রগুলো দা’বি করতে থাকে মোট ১৭টি স্থানে এই ড্রো’ন হা’মলা হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসব হা’মলা হয়েছে উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বলতে চাইছে এই হা’মলা হয়েছে ইরান বা ইরাকের দিক থেকে, দক্ষিণের ইয়েমেন থেকে নয়।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা এই হাম’লার ব্যা’পারে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাবে। হামলায় ব্যবহৃত যেসব ড্রো’ন টার্গেট পর্যন্ত যেতে পারেনি, সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

*কোন দিক থেকে হা’মলা: ২০০৮ সালে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছিল, হুথি বিদ্রো’হীদের কাসেফ-ওয়ান ড্রো’নের সঙ্গে ইরানের আবাবিল-টি ড্রো’নের ব্যাপক সাদৃশ্য আছে। জাতিসংঘের দলটি তাদের রিপোর্টে বলেছিল, ইয়েমেনের বিরু’দ্ধে যে অ’স্ত্র নিষে’ধাজ্ঞা জারি আছে, ইরান সেটি ভ’ঙ্গ করেছে এবং হুথি বিদ্রো’হীদের নানা রকম অ’স্ত্র সরবরাহ করেছে।

কাসেফ-ওয়ান কিংবা আবাবিল-টি ড্রোন বড়জোর ১০০ বা ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে পারে। ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে খুরাইস তেল ক্ষেত্রের দূরত্ব প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার। যেসব টার্গে’টে হা’মলা হয়েছে, তার মধ্যে এই তেলক্ষেত্রই ইয়েমেনের সবচেয়ে কাছে।
কাজেই ইয়েমেনের দিক থেকে যদি এই হা’মলা হয়ে থাকে, তাহলে এবারের ড্রো’নগুলো নিশ্চিতভাবেই একেবারে ভিন্ন ডিজাইনের, যেগুলো অনেক বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে এবং অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।

*ইরান এবং সম্ভবত হুথি বিদ্রো’হীদেরও হয়তো আরও দূর’পাল্লার ড্রো’ন আছে। কিন্তু এপর্যন্ত ইয়েমেনের যু’দ্ধে সেধরণের ড্রো’নের ব্যবহার দেখা যায়নি।
আরেকটা জল্পনা হচ্ছে, হা’মলায় হয়তো ক্রু’জ মি’সাইলও ব্যব’হৃত হয়ে থাকতে পারে। হয়তো ইরাক বা ইরান থেকে এই ক্ষেপনা’স্ত্র ছোঁ’ড়া হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য গো’য়েন্দা তথ্যের দরকার হবে।

*সর্বাত্মক যু’দ্ধের ঝুঁ’কি কতটা: কিন্তু শেষ বিচারে এসব খুঁটি-নাটি তথ্যের কোন মানে দাঁড়ায় না। কারণ কূট’নৈতিক ক্ষ’তি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব ইরানের নির্ম’ম শ’ত্রু। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছে। পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন জাহাজে হাম’লার জন্য তারা ইরানকেই দো’ষী করছে।
ইরান তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ জিব্রালটারে আট’ক হওয়ার পর পাল্টা একটি ব্রিটিশ জাহাজ জ’ব্দ করে।

*ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনার বিরু’দ্ধে হুথি বিদ্রো’হীদের যত হা’মলা, তার সবকটিতে ইরানের হাতের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ব্যাপারে তারা কী করবে বা কী করার ক্ষ’মতা রাখে? এর উত্তর হচ্ছে, সম্ভবত খুব বেশি কিছু করার ক্ষ’মতা নেই।
ইয়েমেনের যু’দ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই শক্তভাবে সৌদি আরবের পক্ষে। কিন্তু এই যুদ্ধের ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসে অতটা উৎসাহ নেই। কংগ্রেসে এমন মত প্রব’ল হচ্ছে যে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে এই সৌদি বিমান হাম’লার কোন মানে নেই। একটা গরীব দেশের ওপর এই হাম’লা এক বড় মানবিক বিপ’র্যয় সৃ’ষ্টি করছে।

*ট্রাম্প প্রশা’সন যদিও সৌদি আরবের পক্ষে ব্যাপ’ক সমর্থন জোগাচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চা’প প্রয়ো’গের কথা বলছে, বাস্তবে তেহরানের কাছে তারা কিন্তু নানা ধরণের বার্তা দিচ্ছে।
একদিকে মনে হচ্ছে ট্রাম্প যেন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটা মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান। তিনি মাত্রই তার জাতীয় নিরা’পত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বর’খাস্ত করেছেন। জন বোল্টন হচ্ছেন সেরকম একজন কট্ট’রপন্থী, যিনি কিনা যে কোন পন্থায় ইরানের রাষ্ট্রক্ষ’মতায় পালাবদলের প’ক্ষে।

*ইরান এবং হুথি বিদ্রো’হীরা যু’দ্ধে যে ধরণের কৌশল নিয়েছে, সেটা শক্তিমানের বি’রুদ্ধে দুর্বলের ল’ড়াইয়ের চিরাচরিত কৌশল। বেশিরভাগ কৌশল যেন রুশদের কাছ থেকে ধার করা- যে কোন কিছু অ’স্বীকার করা, ছায়াযু’দ্ধ, সাইবার হাম’লা এবং প্রপাগা’ন্ডা যু’দ্ধ।
তেহরান ভালো করেই জানে, মিস্টার ট্রাম্প মুখে যত কথাই বলুন, আসলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোন যু’দ্ধে জ’ড়াতে চান না, বরং যু’দ্ধ থেকে বের করে আনতে চান। এর ফলে ইরানই বরং এখন পা’ল্টা সর্বোচ্চ চা’প প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে।
কিন্তু যে কোন মূহুর্তে যে কারও একটা ভু’ল হিসেবের কারণে একটা সর্বাত্ম’ক যু’দ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আ’শংকা আছে, যেটা আসলে কেউই চায় না। সূত্র: বিবিসি