প্রচ্ছদ রাজনীতি “যেভাবে বিএনপির অবৈ’ধ হ’স্তক্ষেপ ছাত্রদলের উপর”

“যেভাবে বিএনপির অবৈ’ধ হ’স্তক্ষেপ ছাত্রদলের উপর”

57

*ছাত্রদলের কাউন্সিল প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ভু’ল করেছে বিএনপি। বিশেষ করে ৩ জুন রাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের কমিটি বি’লুপ্ত; শৃঙ্খলাভ’ঙ্গের অভিযো’গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের ক্ষু’ব্ধ ১২ নেতাকে বহি’ষ্কার; কাউন্সিল করতে সম্মে’লন প্রস্তুতি কমিটি গঠন না করে বিএনপি নেতাদের সমন্বয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, যাচাই-বাছাই কমিটি ও আপিল কমিটি গঠন এবং এসব কমিটির নেতাদের কার্যক্রম কোনোটাই বিধিস’ম্মত হয়নি।

শুক্রবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতারা দলের গঠনতন্ত্র ও আরপিও বিশ্লেষণ করে এসব ত্রু’টি পেয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দা’বি করেছেন, ছাত্রদলের বিষয়ে সিদ্ধা’ন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই নিয়েছেন। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই পারেন সিদ্ধা’ন্ত নিতে, তিনি নিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ লিগ্যাল।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রদল হচ্ছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন। সংগঠনটি নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হবে। লিখিতভাবে বিএনপির কোনো নেতা ছাত্রদলের কর্মকা’ণ্ডে সরাসরি হস্ত’ক্ষেপ করতে পারবে না। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৩ ধারায় বলা আছে, ছাত্রদল ও শ্রমিক দল নিজ নিজ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরি’চালিত হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, কাউন্সিল প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বিএনপি নেতাদের সরাসরি হস্ত’ক্ষেপ এবং তাদের স্বাক্ষরে সব কার্যক্রম হয়েছে, যা আইনত গঠনতন্ত্রবি’রোধী। আবার ছাত্রদলের চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রও নেই। যা আছে তা-ও খসড়া। এ অবস্থায় ছাত্রদলের কাউন্সিলে বিএনপির হস্ত’ক্ষেপ দূর করতে যা যা করণীয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। কাউন্সিলরদের সভা ডেকে বি’লুপ্ত কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন অথবা কাউন্সিলরদের কয়েকজনকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স’ম্পৃক্ত করে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন আইনজীবীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা হলো- ইউনিট কমিটির কাউন্সিলর (ভোটার) কাউকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। প্রয়োজনে কয়েকজন কাউন্সিলরকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে সৃ’ষ্ট স’মস্যা সমাধান কঠিন হবে। তারা বলেছেন, এর সঙ্গে অন্যপক্ষের সরাসরি হ’স্তক্ষেপ রয়েছে। এই অবস্থায় জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতা অথবা কাউন্সিলরদের বৈঠক আহ্বান করে সম’স্যা সমা’ধানের পরামর্শ দিয়েছেন নেতারা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মাম’লার বাদী ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মা’মলা প্র’ত্যাহার করে নেওয়ার চে’ষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকা নেতাদের মতামত হচ্ছে, যেহেতু আমান ব্যক্তি উদ্যোগে মা’মলা করেছেন, তাই এ মা’মলা তিনি প্রত্যা’হার করে নিলে সমস্যার সমাধান সহজ হবে। এই আমান ছাত্র রাজনীতির প্রথমে বরিশাল অঞ্চলের সাবেক ছাত্রনেতা, বর্তমানে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতার গ্রু’প করতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় বরিশাল অঞ্চলের আরেক সাবেক ছাত্রনেতার অনুসারী হয়ে সংস্কারপ’ন্থিদের গ্রু’পে যোগ দেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপ’ন্থিদের পক্ষ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তখনকার ছাত্রদল নেতাদের ওপর হাম’লা করেছিলেন আমান। পরে নানা গ্রু’পে নিজেকে জড়ালেও কোনো গ্রু’পেই স্থির থাকেননি।

এদিকে ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর আদালতের দেওয়া শোকজের জবাব তৈরি করছে বিএনপি। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তা তৈরি করা হচ্ছে, যেন আইনি কোনো ফাঁ’কফোকর না থাকে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের দেওয়া আদেশ স্থগি’ত চেয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার চিন্তাও করা হচ্ছে। তবে দলের সিনিয়র এক নেতা বলেন, উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল করলে ছাত্রদলের পুরো কার্যক্রম থমকে যাবে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের কাউন্সিল পরিচালনায় গঠিত আপিল কমিটির প্রধান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা আদালতে যাব, এটা সি’দ্ধান্ত হয়েছে। স্থগি’তাদেশের বিষয়টি ফয়সালা হলে কাউন্সিলের বিষয়ে সি’দ্ধান্ত হবে।
দলের কয়েকজন ক্ষু’ব্ধ নেতা গতকাল জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগেই পরা’মর্শ দিয়েছিলেন, কাউন্সিল প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপিকে জড়ানো ঠিক হবে না। এতে ভবিষ্যতে কেউ আইনের আশ্র’য় নিলে কাউন্সিল আট’কে যেতে পারে। ওই সময় বিলু’প্ত কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, কাউন্সিলের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যেসব বিষয়ে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়নি, তা মা’মলায় উল্লেখ করেছেন বাদী।
জানতে চাইলে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও কাউন্সিল পরিচালনায় গঠিত আপিল কমিটির সদস্য ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল প্রক্রিয়ার শুরুতে কিছুটা ভুল হয়েছে তাতে দ্বিমত নেই। কিন্তু একটি দলের রাজনৈতিক কর্মকা’ণ্ড তার নিজস্ব ব্যাপার। এ নিয়ে আদালতের হস্ত’ক্ষেপ কাম্য নয়। সরকার নীল’নকশার অংশ হিসেবে আদালত দিয়ে ছাত্রদলের কাউন্সিলে ব্যাঘা’ত ঘটিয়েছে, যেন বি’রোধীদল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে না পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আইনি কোনো ফাঁ’কফোকরে যেন পুনর্গঠন আট’কাতে না পারে সেদিক খেয়াল রাখা হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্র’ণে থাকা নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে এমন একটি অ’বৈধ আদে’শ দিতে বা’ধ্য করা হয়েছে। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের শোক’জের জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল শনিবার সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা কয়েকশ কর্মী-সমর্থক নিয়ে কাউন্সিলের পক্ষে স্লো’গান দেন। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিরও দাবি জানান।

সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, কাউন্সিল স্থ’গিত সরকারের ষড়’যন্ত্র। এতে ক্ষ’তি হয়নি বরং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহ নাওয়াজ বলেন, কাউন্সিল যতদিন না হবে ততদিন আমরা যারা প্রার্থী হয়েছি তারাসহ নেতাকর্মীরা মাঠে আছি এবং থাকব। একই ধরনের মন্তব্য করেন সভাপতি প্রার্থী কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন, মামুন খান, এরশাদ খান, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাওলাদার, আমিনুর রহমান আমিন, জাকিরুল ইসলাম প্রমুখ।