প্রচ্ছদ রাজনীতি “অব’সরের সি’দ্ধান্ত নিয়েছে যে সকল হেভি’ওয়েট নেতারা”

“অব’সরের সি’দ্ধান্ত নিয়েছে যে সকল হেভি’ওয়েট নেতারা”

1452

*আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের হেভি’ওয়েট অনেক নেতা অব’সরে যেতে পারেন। তবে যারা আওয়ামী লীগ ছা’ড়বেন না বা সংসদ সদস্য প’দ থেকেও পদ’ত্যাগ করবেন না, কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের কোন দায়ি’ত্বশীল পদে থাকবেন না। বরং তারা একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকবেন, একরকম অ’বসরে চ’লে যাবেন। এরকম অব’সর ভা’বনা আওয়ামী লীগের অনেক হেভি’ওয়েট নেতাই প্র’কাশ্যে তাঁদের নেতা-কর্মীদের কাছে বলছেন।

*একাধিক দায়ি’ত্বশীল সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের হেভি’ওয়েট নেতাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীসহ একাধিক সি’নিয়র নেতার মধ্যে অব’সর ভা’বনা চলে এসেছে। তারা বলছেন যে, এই কাউন্সিলের পর তারা উপদেষ্টামণ্ডলী বা অন্যকোনো কেন্দ্রীয় নে’তৃত্বে থাকতে চান না। বরং তারা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে বাকী জীবন কা’টিয়ে দিতে চান। এই সমস্ত নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে তাঁদের কর্মীদের কাছে ই’ঙ্গিত করেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

*তবে এই অব’সরের কারণ কি অভি’মান নাকি বার্ধ্য’ক্যজনিত সে বিষয়ে পরস্পর বি’রোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সিনিয়’র নেতাদের ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, দলে অপাং’ক্তেয় হয়ে পড়া বা তাঁদের মূল্যায়ন না হওয়ার কারণেই একরকম তারা অভি’মান করে অন্যকনো পদ গ্রহণে আগ্র’হ হা’রিয়ে ফে’লেছেন। বরং তারা বাকী জীবন একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কা’টিয়ে চলে যেতে চান। আবার অন্য একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগে এখন নতুনদের জয়জয়কার চলছে। এরকম বাস্তবতায় দলে তাঁদের জায়গা পাওয়া অত্যন্ত ক’ঠিন। আওয়ামী লীগে নীরবে একটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে, যে পরিবর্তনের প্রক্রি’য়ায় নতুনদেরকে জায়গা দিতে হচ্ছে। অবসর গ্রহণে প্রত্যাশী এরকম একজন নেতা একান্ত আলাপচারিতায় বলেছেন যে, নতুনদেরকে জা’য়গা করে দিতে হবে। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। আর কত? এখন আমাদের চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমরা এখন অবসরে যাবো।

*শুধুমাত্র এইসব হেভি’ওয়েট নেতাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করা, বর্তমানে বার্ধক্য’জনিত নানা জটি’লতায় ভু’গছেন- এরকম কয়েকজনও উপদেষ্টামণ্ডলী বা অন্যকোনো প’দে থাকতে চান না।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নিজেই অ’বসরের কথা বলছেন। তিনি এবারের পর আর প্রধানমন্ত্রীর প’দ গ্রহণ করবেন না বলেও আনুষ্ঠানিক ঘো’ষণা দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতির প’দ ছা’ড়ার ব্যাপারে তিনি আ’গ্রহ প্রকাশ করলেও এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘো’ষণা দেননি। তাছাড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার এই অবস’র গ্রহণের সিদ্ধা’ন্তের যে বি’পুল প্র’তিবাদ করবে তা বলাইবাহুল্য।

*উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা কো’ণঠাসা হতে শুরু করেন। ২০০৯ সালের যে মন্তিসভা গঠিত হয়েছিল, সেই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের হেভি’ওয়েট নেতাকর্মীদের সাই’ডলাইনে বসি’য়ে রাখা হয়েছিল। যদিও ২০১৪ সালে তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু মতো সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভায় অ’ন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এ বছরের ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় আবার সিনিয়র নেতাদের বা’দ দেওয়া হয়েছে।

*শুধুমাত্র এ সকল সিনিয়র নেতা নয়, ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, শামসুর রহমান শরীফ ডিলুসহ আওয়ামী লীগের একাধিক সাবেক মন্ত্রী এবং এমপি আস্তে আস্তে রাজনীতি থেকে স’রে যাচ্ছেন। এটার প্রথম কারণ হলো বয়সজ’নিত। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, নতুনদের জা’য়গা ছে’ড়ে দেওয়ার জন্যই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই অব’সরের সিদ্ধা’ন্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে রাজনীতি করেছেন, তারা মুজিববর্ষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে স’ম্পৃক্ত থেকে তারপর একরকম অবস’র জীবনযাপন করবেন।

*আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানিয়েছেন, পৃথিবীর সব দেশেই রাজনীতি থেকে অব’সরের নিয়ম রয়েছে। আমাদের দেশে আমৃ’ত্যু রাজনীতির যে চল চা’লু আছে সেটা পরি’বর্তন হওয়া দরকার। কারণ নতুন নে’তৃত্বকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য পুর’নোদের স’রে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।