প্রচ্ছদ রাজনীতি “শোভন-রাব্বানী বা’দ, ছাত্রলীগে আসছে নতুন নেতৃত্ব!”

“শোভন-রাব্বানী বা’দ, ছাত্রলীগে আসছে নতুন নেতৃত্ব!”

135

*নানা অনি’য়ম, বিত’র্কিত কর্ম’কাণ্ড ও আর্থিক লেন-দেনের পাহাড় সমান অভি’যোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর বি’রুদ্ধে। একারণে খুব দ্রুত তাদের স’রিয়ে দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শোভন-রাব্বানীর বিষয়ে চূ’ড়ান্ত সি’দ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

*আওয়ামী লীগের সিনিয়র এবং হেভিওয়েট নেতারা বলছেন, শোভন-রাব্বানীর দুনিয়া ছোট হয়ে আসছে। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে থাকা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের জন্য এবার ব’ন্ধ হয়ে গেছে গ’ণভবনের দরজা। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষো’ভের মুখে থাকায় পাশে পাচ্ছেন না কাউকে। আলোচনা চলছে দুই পদে ভারপ্রাপ্তের দা’য়িত্ব দিয়ে কিছুদিন সাংগঠনিক ক’র্মকাণ্ড পরিচালনা করা। পরবর্তীতে নতুন নে’তৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে নেতাদের মুখে এ গু’ঞ্জন চলছে।

*জানা যায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনু’ষ্ঠিত হয়। এতে মূল এজেন্ডা ছিলো রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা। কিন্তু সেখানে সবচেয়ে বেশি আলো’চনা হয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সা’ম্প্রতিক ক’র্মকাণ্ডে বি’রক্তি প্র’কাশ করে কমিটি ভে’ঙে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই নেতার বিরু’দ্ধে বি’তর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অ’নৈতিক আর্থিক লেন’দেন ইত্যাদি অভি’যোগ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

*এদিকে গণভবন থেকে এমন খবরের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন শোভন-রাব্বানী। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন শোভন-রাব্বানী। পদ টিকিয়ে রাখতে যোগাযোগের চেষ্টা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে। তবে কোনো উপায় কাজে দেয়নি। সবশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাস ভবন গণভবনে প্রবে’শের পা’সও বা’তিল করা হয়।

*সংশ্লিষ্ট এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুয়ায়ী ৫টি কারণে শোভন-রাব্বানীর উপর ক্ষু’ব্ধ প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বিরু’দ্ধে নানা অভিযো’গ উঠেছে। তাদের এমন অ’নিয়মে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের উপর ক্ষু’ব্ধ হয়েছেন।

*প্রথমত, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ে না থাকা। গত ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগেরই একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যান নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যান বিকেল তিনটায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের সম্মেলন হওয়ার পর দেড় মাস চলে গেলেও কমিটি গঠন না করা। নিয়ম ব’হির্ভূতভাবে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ভে’ঙে নতুন কমিটি করা।

*ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় সম্মে’লনের এক বছর পর ১৩ মে। তবে স’ম্মেলনের আড়াই মাস পর রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পরই তা নিয়ে ব্যাপক বিত’র্ক দেখা দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্ত’ক্ষেপে কমিটি থেকে বি’তর্কিত ১৯ জনকে বাদ দেয়ার ঘো’ষণা দিয়েও বাস্তবে বা’দ না দেয়া।

*শুধু তাই নয়, তাদের বি’রুদ্ধে রয়েছে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। অভি’যোগ আছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অর্থের বি’নিময়ে পদ দেয়া হয়। জেলা কমিটিকে না জানিয়ে সরাসরি অর্থের বি’নিময়ে সাতটি উপজেলা কমিটি গঠন করা। নারায়ণগঞ্জ এবং কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা কমিটিতে অর্থের বিনি’ময়ে নিজস্ব লোক ঢু’কানো। আর্থিক সম’ঝোতা না হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ইডেন কলেজের কমিটি গঠনে দেরি করা।

*পাশাপাশি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাদের ঠাঁই দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৩৭ জনের বিরু’দ্ধে নানা ধরনের অভি’যোগ আছে। এই অভি’যোগগুলো হলো বিবাহিত, বহু বিবাহ, অছাত্র, মাদ’ক ব্যবসায়ী, মাদ’কাসক্ত, জামায়াত ও শিবিরের সঙ্গে যুক্ত, শিক্ষকের ওপর হাম’লাকারী প্রভৃতি। এ সব অভি’যোগে অভি’যুক্তদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁ’ই দেয়ার পেছ’নে আর্থিক লে’নদেন আছে বলে ধারণা করা হয়।

*আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত শোভন-রাব্বানীকে পদ’চ্যুতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দে’শনা আসেনি। তবে আগামী শনিবার গ’ণভবনে আসন্ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় চূড়া’ন্ত সিদ্ধা’ন্ত দেয়া হতে পারে। ওই দিনই শোভন-রাব্বানীকে দলীয় পদ থেকে সরা’নোর পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত বিষয়ে সি’দ্ধান্ত দেয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

*এ বিষয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে ক্ষু’দ্ধ হওয়ার মতো কোনো তথ্য যেহেতু এসেছে এবং তিনি ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন, তাই এই জায়গাটায় কারো কোনো ধরণের ভিন্ন চিন্তা করার উপায় নেই।

*ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন যদি ছাত্রলীগের এই কমিটির ব্যাপারে নতুন কোনো বিবেচনা আসে, সংযোজন বা পরিবর্তনের কোনো প্রশ্ন আসে, আমি মনে করি নেত্রী নিজেই করতে পারেন। যেহেতু কমিটি তিনিই করেছেন, কাজেই কমিটির ব্যাপারে কোনো পরিবর্তন বা সংশো’ধন-সংযো’জনের প্রয়োজন হয় সেটা নেত্রী নিজেই করবেন এবং নেত্রী নিজে করাটাই সঙ্গত। ছাত্রলীগের আগাম স’ম্মেলনের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমি এ ধরনের কোনো ইঙ্গি’ত পাইনি, পেলে জানাব।

*মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনি’য়মের বিষয়গুলো আপনি কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা আমাদের পার্টির একদম ভেতরের ব্যাপার। ছাত্রলীগের বিষয়টি নেত্রী সরাসরি নিজেই দেখছেন। বিষয়টি এখন যে পর্যায়ে আছে, সিদ্ধা’ন্ত আকারে কোনো কিছু যদি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় না যায়, এর আগে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মন্তব্য করা সমী’চীন হবে না।

*ছাত্রলীগের বর্তমান কর্ম’কাণ্ডে আপনারা সন্তুষ্ট নাকি অস’ন্তুষ্ট এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি এই মন্তব্য এখন করব না। আমি সব সময় ভালো কাজের প্রশংসা করি, দলের ভেতরে খারাপ কাজ হলে যদি কাউকে তির’স্কার করতে হয়, আমি সেটার পক্ষে। ভালো কাজের পুরস্কার দেওয়া উচিত। এটা আমরা আওয়ামী লীগে করে থাকি।