প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “যেভাবে ইয়া’বা ব্যবসার নি’য়ন্ত্রণ রোহিঙ্গাদের ক’ব্জায়”

“যেভাবে ইয়া’বা ব্যবসার নি’য়ন্ত্রণ রোহিঙ্গাদের ক’ব্জায়”

31

*টেকনাফে কড়া’কড়ি, বন্দু’কযুদ্ধে স্থানীয় গডফা’দারদের কেউ জে’লে, কেউবা আত্মগো’পনে। এখন এ ব্যবসার প্রায় পুরোটা নিয়’ন্ত্রণ করছে আ’শ্রিত রোহিঙ্গারা। উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের অন্তত ২৭টি পয়েন্ট ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে ইয়া’বা এনে বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়ি’য়ে দিচ্ছে।

*ক্রেজি ড্রা’গ’ ই’য়াবা এখন অনেকটা মহা’মারি রূপ নিয়েছে গ্রামাঞ্চলে। প্রায় প্রতিটি গ্রামের আনাচ-কানাচে পর্যন্ত বিস্তার ঘ’টেছে নীরব ঘাত’ক ই’য়াবা ট্যাবলেটের। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সে’বন ও বহন করছে এই ম’রণবড়ি। ইয়া’বায় আ’সক্ত নেই এমন কোনো পেশার লোক পাওয়া যাবে না।

*শ্রমজীবী থেকে শুরু করে একেবারে সব পেশার মধ্যে ইয়া’বা আস’ক্তি বিস্তার ঘ’টছে। ইয়া’বায় আ’সক্ত হওয়ার পর প্রথম প্রথম কিছুটা শ’ক্তি বাড়ছে মনে হলেও পরে ধীরে ধীরে শ’ক্তি কমিয়ে দেয়। উত্তে’জিত হয়ে খি’টখিটে স্ব’ভাবের আস’ক্তরা নানা অ’পকর্মে জ’ড়িয়ে প’ড়েছে। বাড়ছে পারিবারিক, সামাজিক বিবা’দ, ক’লহ, বিশৃ’ঙ্খলা।

*স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা স্থানীয় আত্ম’গোপনে থাকা গডফা’দারদের সহা’য়তায় এ ব্যবসা নি’য়ন্ত্রণ করছে। উখিয়ার নাফ নদী ও পাহাড়-সংলগ্ন বালুখালী কা’টা পাহাড়, ধামনখালী, রহমতের বিল, আনজুমান পাড়া, ডেইল পাড়া, পূর্ব ডিগলিয়া, চাকবৈটা-করইবনিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশপারি, আমতলী গর্জনবনিয়া, ফাত্রাঝিরি, তুমব্রু, ঘুমধুম, টেকনাফের উলুবনিয়া, হউসের দিয়া, উনচিপ্রাং, হ্নীলা, লেদা, মোচনী, ট্রানজিট ঘাট, দমদমিয়া, সাবরাং, খুরের মুখ, শাহপরীর দ্বীপ, লম্বাবিলসহ পয়েন্টগুলো কার্যত রোহিঙ্গারা বেশি ব্য’বহার করছে।

*উখিয়া যুবলীগের সভাপতি মজিবুল হক আজাদ বলেন, প্রতি রাতে অসংখ্য রোহিঙ্গা উল্লেখিত সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার যায়। ১-২ দিন সেখানে থাকার পর লাখ লাখ পিস ই’য়াবা নিয়ে আসে। প্রথমে সীমান্তের স্থানীয় বিভিন্ন গ’ডফাদারের নির্দিষ্ট স্থা’নে রাখে। সেখান থেকে ক্যা’ম্প রোহিঙ্গা গ’ডফাদারদের নি’য়ন্ত্রণে নিয়ে মজুদপূর্বক তা সারা দেশ পা’চার করে থাকে।

*উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, সামাজিক অ’বক্ষয়ের মূলে এই ই’য়াবা সে’বন। এ কারণে সন্তান মা-বাবাকে মা’রছে। চু’রি, ছি’নতাই, ডাকা’তিসহ গুরুতর অপরা’ধের ঘ’টনাও ঘট’ছে। ইয়াবার ভ’য়াবহ আগ্রা’সন আগামী প্রজন্মকে ধ্বং’সের মুখোমুখি দাঁ’ড় করিয়ে দিচ্ছে। ইয়া’বার কারণে পাড়াগাঁয়ে হর’হামেশা নানা চু’রির ঘ’টনা ঘ’টছে।

*ইয়া’বার ভ’য়াবহ আগ্রা’সন নিয়ে সরকার যেমন উ’দ্বিগ্ন, চি’ন্তিত অভিভাবক মহ’লও। ই’য়াবা পা’চারে একশ্রেণির আইনশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনীর কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তার ই’ন্ধন থাকায় এটা নি’য়ন্ত্রণ অনেকটা দুঃসা’ধ্য হয়ে দাঁ’ড়িয়েছে।

*গত ৭ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় কমিউনিটি পুলিশের ওপেন হাউস ডে সভা হয়। এতে স্থানীয় উপস্থিত লোকজন ই’য়াবা পা’চার, ব্য’বসা ও সে’বনের হার আশঙ্ক্জনক বৃ’দ্ধিতে গ’ভীর উ’দ্বেগ প্র’কাশ করেন। দিন দিন উখিয়ার সর্বত্র ই’য়াবা দালান উঠছে। তারা যেকোনো মূল্যে এসব থেকে পরি’ত্রাণ চান বলে জানান। সভার প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বক্তাদের ক্ষো’ভে বিব্র’তবোধ করে দুই দিনের মধ্যে উখিয়া থানার পুলিশকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের নি’র্দেশ দেন।

*২০১৮ সালের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী মা’দকবিরোধী বিশেষ অভি’যান শুরু করে র‌্যাব। এরপর পৃথকভাবে মা’দক নি’য়ন্ত্রণে যুদ্ধে শ’রিক হয় পুলিশ ও বিজিবি। এ অভিযানে পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দু’কযুদ্ধে’ এখন পর্যন্ত নি’হত হয়েছে প্রায় ৪০০ জন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে কক্সবাজারের ৩২টি রোহিঙ্গা শিবিরে পাঁচ শতাধিকের বেশি মা’দক বিক্রি ও সেব’নের আ’খড়া গড়ে উঠেছে। ই’য়াবা মজু’তের জন্যও ব্য’বহৃত হচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যা’ম্পগুলো। গত আগস্ট পর্যন্ত দুই শতাধিক ই’য়াবা তথা মা’দক মাম’লায় চার শ’য়ের মতো রোহিঙ্গা আসা’মি হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনীর তা’লিকায়ও রয়েছে ১৮-২০ নেতৃস্থানীয় ইয়া’বা ব্যবসায়ী রোহিঙ্গার নাম।

*রোহিঙ্গা শি’বিরগুলোতে মা’দকের সঙ্গে জড়ি’তদের মধ্যে রশিদ উল্লাহ, নজির আহমদ, খতিজা বেগম, জকির আহমদ, কালা সেলিম, হামিদ মাঝি, উম্মি নাহার, সেতেরা বেগম, মুমিনা বেগম, মো. সেলিম, উসমান, মো. জোবাইর, অলি আহমদ, মুন্না, হাসিমুল্লাহ, মো. আমিন, সাহা আহমদ ও নুরু মিয়া।

*টেকনাফ বিজিবি-২ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়সল বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মিয়ানমার থেকে ই’য়াবা পা’চার কিছুটা কমেছে। আগের মতো বড় চা’লান ও পাচা’রকারী তেমন আ’টক করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাচা’রকারীদের দা’পট আগের মতো নেই। তবে রোহিঙ্গারা এ ব্যবসা ও পাচারের সাথে বেশি স’ম্পৃক্ত হয়ে প’ড়ছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ই’য়াবাসহ আ’টকদের অধিকাংশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক।