প্রচ্ছদ বাংলাদেশ গ্রাম-প্রান্তর “ছেলে বিএনপি করায় ত্যা’জ্য করলেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা”

“ছেলে বিএনপি করায় ত্যা’জ্য করলেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা”

2339

*ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদপ্রার্থী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাবা যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ছেলে ভিন্নমতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ১৫ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে সম্প’র্ক বি’চ্ছিন্ন। পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও শ্রাবণ অংশ নেয়নি। অথচ একটি মহল প্রচার করছে বিএনপির সঙ্গে নাকি যোগাযোগ আছে আমার পরিবারের।

*লিখিত বক্তব্যে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমি জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, কেশবপুর উপজেলার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আমার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে সবাই প্রা’প্তবয়স্ক।

*রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ছেলে কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্তা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ে নৌকা মার্কায় সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দ্বিতীয় ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তৃতীয় ছেলে কাজী মাজহারুল ইসলাম সোনা যশোর জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। চতুর্থ ছেলে কাজী আযহারুল ইসলাম মানিক কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও মেয়ে বিবাহিত গৃহিণী।

*তিনি বলেন, আমার কনিষ্ঠপুত্র কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৩ সালে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছাত্রদলের সংগঠনে জড়িয়ে পড়ে সে। সেই থেকে বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে আসে। বারবার আমি এবং আমার পরিবারের সবাই অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে তার স’ম্পর্ক বি’চ্ছিন্ন করাতে ব্য’র্থ হয়েছি। এজন্য আমার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছি’ন্ন করে দেয়। সেও আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না।

*কাজী রফিকুল ইসলাম দা’বি করেন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের সঙ্গে শুধু বায়োলজিক্যাল রিলেশন’শিপের কারণে একটি কু’চক্রী ম’হল মিথ্যা’চার করছে, যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের যোগাযোগ আছে ও আমার পরিবার বিএনপি করে। তারা এ অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত করে এসেছে। যারা আমার অতীত বর্তমান জানে না তাদের এতে বিভ্রা’ন্তি সৃ’ষ্টি হতে পারে বিধায় আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘট’না অবহিত করলাম।

*কাজী রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমার এই সুদীর্ঘ জীবনে আমি বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে ছাত্রলীগ ও স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে একনিষ্ঠ রাজনীতি করেছি আমি। পঁচাত্তর পরবর্তী সরকার ক্ষম’তায় এসেই তার বাহি’নী দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে ১১ মাস আটকে রেখে সীমাহীন নির্যা’তন করেও আমার নীতি আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি তার মহান নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে রয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৬ সালে আমাকে কেশবপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেন। আমি আমার সর্বশ’ক্তি দিয়ে নির্বাচনে ঝাঁ’পিয়ে প’ড়ি।