প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হাত কে’টে নিল যুবলীগ নেতা”

“স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হাত কে’টে নিল যুবলীগ নেতা”

32

*অ’ন্যায়ের প্রতি’বাদ করায় ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের ভাগ্নে ইলিয়াস নোমানের বাম হাত কে’টে নেওয়ার অভি’যোগ উঠেছে স্থায়ীয় যুবলীগ নেতা ও তার ক্যা’ডার বা’হিনীর বি’রুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তার মুখে, পিঠে, শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘা’ত করা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গফরগাঁও উপজেলার যশরা শিবগঞ্জ বাজারে এ ঘট’না ঘ’টে। গুরু’তর আ’হত অ’বস্থায় ইলিয়াস নোমান বর্তমানে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউটের চারতলায় আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

*গত রবিবার হাসাপতালে গিয়ে দেখা যায়, আইসিইউ ইউনিটের বাইরে থেকে জানালা দিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছেন বৃদ্ধা মা সাহেরা খাতুন আর দুই হাত ওপরে তুলে ছেলের জন্য দোয়া করছেন। ছেলের কথা জানতে চাইলে অঝোরে কাঁ’দেন সাহেরা খাতুন। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘যারা সন্ত্রা’স আর মা’দক ব্য’বসা করে, এদের কিছু হয় না, আর আমার ছেলে এইসবের বি’রুদ্ধে কথা বলছে বলে জীবনটাই যায় যায়। আমি ওদের বিচার চাই, কঠিন বিচার চাই।’ মায়ের কা’ন্না দেখে পাশে থাকা স্বজনদের অনেকের চোখ ছলছল করে।

*পাঁচ বছরের কন্যা ইশরাত জাহান নওরিনের মুখে এমন কথা শুনে গড়িয়ে পড়ে দুই চোখের পানি। কোনো জবাব দিতে পারেন না ইলিয়াস নোমান। আইসিইউয়ের বেডে সদ্য জ্ঞান ফেরা স্বামীর পাশে দাঁ’ড়িয়ে কাঁ’দছেন স্ত্রী মাহমুদা খাতুন। মেয়ের কথা শুনে তার মুখ চেপে ধরে ফুঁ’পিয়ে কাঁ’দতে থাকেন আর সান্ত্বনা দেন, ‘আরেকটি হাত আছে মা, সেই হাতে তোমাকে খাওয়াবে।’ এরপর কন্যাকে নিয়ে বেরিয়ে যান আইসিইউ থেকে।
পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশোরা গ্রামের মো. সিরাজুল হকের ছেলে নোমান ছোটবেলা থেকেই অন্যায় দেখলেই প্রতি’বাদ করতেন, মানুষের কোনো স’মস্যা হলেই বন্ধুদের নিয়ে পাশে দাঁ’ড়াতেন, আশপাশের গ্রামেও ছু’টতেন মানুষের উপকারের জন্য।

*ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘প্রতি’বাদী যুবক হিসেবেই নোমান এলাকায় পরিচিত। মা’দক এবং সন্ত্রা’সের বি’রুদ্ধে সো’চ্চার ছিল, বাল্যবিবাহ হচ্ছে শুনলেই প্রশাসনে খবর দিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে তা ব’ন্ধ করত। কোনো অন্যা’য়কেই ছেলেটি স’হ্য করত না। ওই সব কারণই কাল হয়েছে ছেলেটির জন্য।’

*এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও নোমানের পরিবারের অ’ভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম সুমন, ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সারোয়ার জাহান ধনু ও তাদের ক্যা’ডার রাকিব, ফয়সাল, আকিব, ওয়াহিদ, মুস্তাকিন ও মাহফুজ এলাকায় ই’য়াবা, ফেন’সিডিলসহ বিভিন্ন প্রকারের মা’দক কারবার এবং স’ন্ত্রাসী ক’র্মকাণ্ড চা’লিয়ে আসছে। বেশ কয়েকবার এসবের প্র’তিবাদ করে সন্ত্রা’সীদের পুলিশে ধ’রিয়ে দিয়েছিলেন নোমান। স’ন্ত্রাসীরা বাল্যবিবাহের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নানাভাবে হু’মকিও দিত নোমানকে।

*সম্প্রতি যশোরা গ্রামের ১৮টি পরিবারকে বিদ্যুতের ব্য’বস্থা করে দেবে বলে প্রতিটি পরিবার থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় যুবলীগ নেতা সুমনের ভাগ্নে বকুল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা। এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতের ব্য’বস্থা করেনি, টাকাও ফে’রত দেয়নি। বিষয়টির সমাধান পেতে নোমানকে জানায় পরিবারগুলো। নোমান পরে বকুলসহ অন্যদের টাকা ফের’ত দিতে বলেন, নইলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভি’যোগ দেবেন বলে জানান। এতে ক্ষু’ব্ধ হয়ে ওঠে বকুলের মামা সুমনসহ ক্যা’ডাররা।

গত ২ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেলে ফেরার পথে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাঁর ওপর চা’পাতি, চায়নিজ কু’ড়াল দিয়ে সুমনের নেতৃ’ত্বে সন্ত্রা’সীরা হাম’লা করে। সন্ত্রা’সীদের কো’পে তাঁর বাম হাত দে’হ থেকে বি’চ্ছিন্ন হয়ে যায়; মুখে, পিঠে, শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আ’ঘাত লা’গে। ওই ঘটনায় নোমানের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বা’দী হয়ে যুবলীগ নেতা সুমনসহ সন্ত্রা’সীদের বি’রুদ্ধে গফরগাঁও থানায় একটি মা’মলা করেন। ওই মা’মলায় আ’সামি ধনু মিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন।

*সন্ত্রাসীদের কাছে বিদ্যুতের জন্য দেওয়া টাকা ফে’রত চাইতে গিয়ে মার’ধরের শি’কার হয়েছিলেন যশোরা ইউনিয়নের খোদাবক্স গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. কামরুজ্জামান। মসজিদের মিটারের জন্যও টাকা নিয়েছিলেন সুমনের ভাগ্নে বকুল। এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এলাকার পরিচালক ফরহাদ ঢালী বলেন, ‘বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে মিটারপ্রতি টাকা নেওয়ার অভি’যোগ আসলে আমি বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানাই। গ্রাহকের সঙ্গে প্রতা’রণা করে টাকা হা’তিয়ে নেয় তারা। পরে সমিতি থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই বাধা দেয় বকুলসহ ক্যা’ডাররা।’

*এলাকাবাসীর অভিযোগ, যশোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ ম’দদেই সুমন ও তাঁর ক্যা’ডাররা মা’দক কার’বার ও সন্ত্রা’সে বে’পরোয়া। এই ক্যা’ডারদের হা’মলার শি’কার হয়েছে অনেকেই। তাদের হা’মলায় গুরু’তর আহ’ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল শিবগঞ্জ বিদান্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুল হকসহ অনেকেই।

*উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আতাউর রহমান বলেন, ‘অ’ন্যায়ের প্র’তিবাদ করতে গিয়ে এমনটা হবে কল্পনাও করতে পারি না। এ ঘ’টনার সঙ্গে জ’ড়িতদের দৃষ্টা’ন্তমূলক শা’স্তি না হলে আর কোনো যুবক মা’দক কারবার ও সন্ত্রা’সের প্র’তিবাদ করবে না। আসামিরা যত বড় ক্ষ’মতাধরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’