প্রচ্ছদ রাজনীতি “নেতৃত্বের বি’রোধ মি’টছে না সহসাই, জাপার চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদ”

“নেতৃত্বের বি’রোধ মি’টছে না সহসাই, জাপার চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদ”

35

*জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের মধ্যে ক্ষ’মতার দ্ব’ন্দ্ব আপাতত দৃশ্য’মান সমা’ঝোতা হলেও উভয়প’ক্ষের মাঝেই ক্ষো’ভ বিরা’জ করছে। নেতৃত্বের এ দ্ব’ন্দ্ব আপাতদৃ’ষ্টিতে সমঝো’তার পথে গিয়ে দলের ভা’ঙন ঠে’কানো গেলেও এ দ্ব’ন্দ্ব সহসাই মি’টবে না বলেই আ’শঙ্কা দলের নেতাকর্মীদের। কারণ সম’ঝোতার পর জাপায় জিএম কাদেরপন্থিরা বলছেন, উভয়প’ক্ষের লড়া’ইয়ে রওশনপন্থীরাই বিজয়ী হয়েছে। যারা চেয়ারম্যানের পক্ষে অব’স্থান নিয়েছিল তারা পার্টিতে রওশন-আনিসের কাছে শ’ত্রু হিসেবে চিহ্নি’ত হয়ে থাকবে। ভবিষতে এসব নেতা দলে নিজের অব’স্থান কতটুকু শ’ক্ত করতে পারবে তা নিয়েও তারা সন্দি’হান।

*জিএম কাদেরপন্থি পার্টির এক সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমরা শুনেছি আওয়ামী লীগ রংপুর-৩ তাদের প্রার্থিতা প্র’ত্যাহার করবে। সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসী’নরাও রংপুরে সাদ এরশাদকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করবে। সাদ বিজয়ী হওয়ার পর আগামী ৩০ নভেম্বর অনু্ষ্ঠিতব্য জাপার কাউন্সিলে সাদ যদি পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী হন তাতেও অ’বাক হও’য়ার কিছু থাকবে না। আমরা যারা জিএম কাদেরের পক্ষে অব’স্থান নিয়েছিলাম, তাদের সিংহভাগই তিনি আর কাছে পা’বেন না। আমরা মনে করি জিএম কাদের আ’পস করেছেন। পার্টির অনেক সিনিয়র নেতাসহ তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী পার্টির কর্মকা’ণ্ড থেকে নি’ষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন।

*জাপায় চেয়ারম্যানপন্থি নেতারা বলছেন, প্রেসিডিয়াম ও এমপিদের যৌথসভা করে সিদ্ধা’ন্ত হলো ব্যারিস্টার আনিস ও ফখরুলকে অব্যা’হতি দেয়ার। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনোরূপ আলোচ’না না করেই এ সি’দ্ধান্ত আবার স্থগি’ত করা হলো। পার্টির এ সিদ্ধান্তে সেই বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র ৩৪ জন নেতাকে অপ’মান করা হয়েছে। জিএম কাদের পুনরায় আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধা’ন্ত নিতে পার’তেন। এছাড়া, যে ব্যক্তি পার্টি অফিসে মনোনয়নপত্রই জমা দেননি, এমনকী আমাদের মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেননি তাকেই মনোনয়ন দেয়া হল। এতে বৃহত্তর রংপুরের তৃণমূলের আ’স্থা হারি’য়েছেন জিএম কাদের। এ ছাড়া আমরা যারা জিএম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্যে অ’বস্থান নিয়েছিলাম তাদেরকেও ভবিষ্য;তে তিনি কাছে পাবেন কি না আমরা সন্দি’হান।

*এ বিষয়ে জিএম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থা’ন নেয়া পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, দুই পক্ষকে এক করার জন্য অনেক অযৌ’ক্তিক দা’বি মা’নতে হয়েছে। অন্যা’য় যু’ক্তির কাছে মাথা’নত করতে হয়েছে। এরশাদের মৃ’ত্যুর পর পার্টির ভা’ঙন ঠে’কাতে, ঐক্যের স্বার্থে অগ্র’হণযোগ্য আব’দারও মে’নে নিতে হয়েছে।

*রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান যদি নিজের অব’স্থান শক্ত করতে না পারেন, অবস্থান পরি;ষ্কার করতে না পারেন, তাহলে দল শক্তি’শালী করা ক’ঠিন হবে। আমাকে মনোনয়ন বোর্ড সিলেক্ট করে পরে আবার সাদকে মনোনয়ন দেয়া হল। রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সম’র্থন করেছে। মনোনয়ন পরিব’র্তন করে পার্টি শুধু আমাকেই নয়, রংপুরবাসীকেও অপ’মান করা হয়েছে।

*ইয়াসির বলেন, মনোনয়ন বোর্ড তাহলে কেনো গঠন করা হল। আমার মত ত্যা’গী নেতাকে মূল্যা’য়ন না করা হলো না। তাহলে সারাদেশের নেতাকর্মীরা আর কখনও মূল্যা’য়িত হবে মনে হয় না। আসলে ত্যা’গের মূল্যা’য়ন নেই, আছে ভো’গের মূল্যা’য়ন।

*রওশনপন্থি বলে পরিচিত পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, আমাদের মধ্যে গঠনতন্ত্র নিয়ে যে বিরো’ধ ছিল, এর অব’সান হয়েছে। সমাঝো’তার ভিত্তিতেই আমরা আগামী ৩০ নভেম্বর পার্টির কাউন্সিল করব। আমরা রওশন এরশাদকে বি’রোধী দলের নেতা ও জিএম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মে’নে নিয়েছি।

*অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, জিএম কাদের সবসময় বলে বলে এসেছেন রওশন এরশাদ তার মায়ের মতো। রওশন এরশাদ জিএম কাদেরকে ডে’কে নিয়ে যদি বলতেন তুমি পার্টির চেয়ারম্যান আর আমি বিরো’ধী দলের নেতা। তাহলে পার্টিতে আর দ্ব’ন্দ্ব হতো না আর নেতাকর্মীরাও দ্বিধা’বিভক্ত হতেন না।