প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “কার’বালা: কিছু জরুরি প্রশ্ন | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ”

“কার’বালা: কিছু জরুরি প্রশ্ন | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ”

177
কারবালা: কিছু জরুরি প্রশ্ন | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

*(১) আয়েশার বিরুদ্ধে যখন মোহাম্মদের একজন সাহাবীর সাথে সহ’বাস করার অভি’যোগ ওঠে, তখন রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তার রাজনৈতিক পরামর্শকদের সাথে পরামর্শ করেছিল, এখন কি করা উচিত? ওমর এবং ওসমান আয়েশাকে স্ত্রী হিসেবে রেখে দেয়ার প্রস্তাব করলেও আলী কেন তার সৎমা (শাশুড়ি) আয়েশাকে তা’লাক দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল?
(২) মোহাম্মদ খাইবারের ইহুদিদের কাছ থেকে জো’রপূর্বক দখ’ল করা জমি তার মেয়ে ফাতেমাকে দিলেও আবু বকর কেন তার নাতনি এবং মোহাম্মদের মেয়ে ফাতেমার কাছ থেকে সে জমি কে’ড়ে নিয়েছিল?

*(৩) কেন মোহাম্মদের একমাত্র জীবিত কন্যা ফাতেমাকে আবুবকর এবং ওমরের পাঠিয়ে দেয়া ক্রীতদা’সের হাতে গর্ভব’তী অবস্থায় লা’থি খে’য়ে ম’রতে হলো, তাও মোহাম্মদের মৃ’ত্যুর মাত্র ছয় মাস পর?
(৪) আবু বকর, ওমর, ওসমানের বিরু’দ্ধে প্রচ’ণ্ড রকম ক্ষো’ভ পু’ষে রাখলেও আলী কেন সেসব প্রকাশ করতে পারেনি? কেন সে তাকিয়া করেছিল?
(৫) কেন আয়েশা ওসমান সম্পর্কে বলেছিল: এই বুড়ো শয়’তানকে হ’ত্যা করো তোমরা, কারণ সে কা’ফের হয়ে গেছে (أقتلوا نعثلا فقد كفر)? ওসমানকে হ’ত্যার পর সেই আয়েশাই কেন আবার উসমান হ’ত্যার অভি’যোগে আলীর বি’রুদ্ধে যু’দ্ধে নেমেছিল?

*(৬) ওসমানকে হ’ত্যাকারীরা আলীর নাকের ডগায় বসে কিভাবে কাজটি করলো? আলী তখন কেন নিষ্ক্রিয় ছিল? ওসমানের খু’নিরাই কেন আলীকে ক্ষ’মতায় বসা’লো? খু’নিদের মাধ্যমে ক্ষ’মতায় বসতে আলী কেন অস্বী’কৃতি জানায়নি? ক্ষম’তায় বসার পর আলী কেন খু’নিদের নি’র্বিঘ্ন প্র’স্থান নি’শ্চিত করেছে? কেন মুয়াবিয়া আলীর বিরুদ্ধে বি’দ্রোহ করেছিল? কেন আলী এবং মুয়াবিয়া পরস্পর পরস্পরকে কা’ফের বলেছিল? কেন দশ হাজার মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছিল শুধুমাত্র আলী এবং মুয়াবিয়ার ক্ষ’মতা দ’খলের দ্ব’ন্দ্বে?

*(৭) কোরানের লেখক সাহাবী মুয়াবিয়ার সাথে আলীর চুক্তি হয়েছিল, আলীর পর ক্ষ’মতায় যাবে মুয়াবিয়া এবং মুয়াবিয়ার মৃ’ত্যুর পর ক্ষ’মতা গ্রহণ করবে আলীর ছেলে হাসান। মুয়াবিয়া কেন চুক্তি ভ’ঙ্গ করে তার ছেলে এজিদকে ক্ষম’তায় ব’সালো?
(৮) এজিদ কেন পথের কাঁ’টা সরা’তে জায়েদাকে ব্যবহার করেছিল? তবে কি একটা বিয়ে করা, আর তালাক দেয়ার কারণে জায়েদা তার বর হাসানের উপর চূ’ড়ান্ত বি’রক্ত ছিল? হাসানের এই লা’ম্পট্য কি তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত?

*(৯) হোসাইনকে যখন কুফাবাসী ৩০ হাজার চিঠি দিয়ে কুফায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, তার হাতে শা’সক হিসেবে বায়াত গ্রহণ করার জন্য, কখন হোসাইন সেথায় গিয়েছিল তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ানোর জন্য নাকি ক্ষম’তার লো’ভে?
(১০) গলা কে’টে হ’ত্যা করার সময়ে যখন হোসাইন সীমারকে বলেছিল, ‘আমাকে জবা’ই করিস না, আমার নানা হযরত মুহাম্মদ আমাকে খুব ভালোবাসত’ তখন কি মুমিন মুসলমান সীমারের মন গলেছিল? সবচেয়ে বড় কথা, সীমারের এমন নৃ’শংস কাজ দেখে হোসাইনের আল্লাহ তখন কি করছিলেন? আল্লাহ না হয় ধৈ’র্য ধরল, কিন্তু যার নাতি সেই মোহাম্মদ কি তখন সিনেমার নায়কদের মতো ক’বর ভে’ঙ্গে বেরিয়ে উড়তে উড়তে গিয়ে সীমারের টুঁ’টি চে’পে ধ’রতে পা’রতো না?

*(১১) বনু কুরায়জার আটশো লোককে জ’বাই করে খু’ন করা ও তাদের মেয়েদেরকে ধ’র্ষণ করা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বর্ব’রতম গণহ’ত্যা। মোহাম্মদের বংশধরেরা কি সেই গণহ’ত্যারই পা’ল্টা প্রাকৃতিক প্রতি’শোধের শি’কার? নইলে কেন মোহাম্মদের নাতিপুতিসহ তার পরিবারের ও বংশের বাহাত্তর জনকে খু’ন করা হলো? কেন সেখান থেকে বেঁচে যাওয়া মুষ্টিমেয় কয়েকজন নারী- যারা হোসাঈনের অনেক দূর সম্পর্কের আত্মীয়- তাদেরকেও ধর্ষ’ণ করা হয়েছে (যদিও ইসলামের ইজ্জত বাঁচা’তে ধর্ষ’ণের ঘ’টনাকে আড়া’ল করা হয়)?

*(১২) বনু কুরায়জার গোত্রপতির মাথা মোহাম্মদ নিজ হাতে কে’টে গণহ’ত্যার শুভ (?) উদ্বোধন করেছিল। ক’র্তিত মাথাকে সে ধি’ক্কার জানিয়েছিল। মোহাম্মদের নাতি হোসাইন এর পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে, তার মাথা কে’টে, কুফা থেকে সিরিয়ার দামেস্কে লা’থি দিতে দিতে নিয়ে গিয়ে এজিদের সামনে হাজির করা কি সেই ঘটনারই প্রতি’শোধ? ইতিহাস কি বারবার এভাবেই ফিরে আসে? অবশ্য দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ইতিহাসের ভিলেনরা অন্যদের সর্ব’নাশ করলেও তার প্রতি’শোধ নেয়া হয় ভিলেনদের সন্তান ও নাতিপুতিদের ওপর।
এমন চিন্তা থেকেই কি হিটলার সন্তান গ্রহণ করেনি?

*শেষ কয়েকটি প্রশ্ন: আমার এই লেখা দেখে সাধারণ মুমিন তো বটেই, আলেমরা পর্যন্ত না জেনে অভি’যোগ করবে। কিন্তু আক্ষেপ এই যে, তারা কখনো প্রশ্ন করে না কেন মাদ্রাসার সিলেবাসে কারবা’লা নেই? কেন মাদ্রাসায় মুহাম্মদের জীবনী, তার সাহাবীদের জীবনী ও বংশের লোকদের কাহি’নি পড়ানো হয় না? কেন মাদ্রাসায় প্রথম যুগের লেখা তারিখ-গ্রন্থ তথা মোহাম্মদের জীবনী-গ্রন্থ পড়ানো হয় না? কেন মাদ্রাসায় মোহাম্মদ-পরবর্তী যুগের সবচেয়ে খাঁটি মুমিন লেখকদের লিখিত সত্য ইতিহাস না পড়িয়ে বর্তমান যুগের রাজনীতি চড়া’নো, আবেগ মে’শানো, বাস্তব’তাবিবর্জিত বই পড়ানো হয়? কেন মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে রাজনীতিবিদদের সেবাদা’স হিসেবে গড়ে তুলতে সত্যকে আ’ড়াল করে পাঠ্যসূচি তৈরি করা হয়? কেন মাদ্রাসায় তাফসীরে ইবনে কাসীর, তারিখে তাবারী, ওয়াকিদীর কিতাবুল মাগাযী, সীরাতে ইবনে হিশাম, এমনকি যাদুল মাআদও পড়ানো হয় না?

*সমাজপতি তথা বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা কি মনে করে উল্লেখিত কিতাবসমূহ পড়ানো হলে মাদ্রাসার সবাই মোহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীদের অ’ন্ধকার অধ্যায়গুলো জেনে না’স্তিক হয়ে যাবে? জেনে গেলেই রাজনীতিবিদদের নোংরা রাজনীতির স’র্বনাশ হয়ে যাবে- এমনটাই কি তারা মনে করে?
আমি নিজের উদ্যোগে ইসলামের ইতিহাস বাইরে থেকে বইপত্র কিনে পড়েছি বলে ইসলাম ত্যা’গ করেছি। আমার মত অন্য যেকোন কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা ব্যক্তি যদি প্রকৃত অর্থেই পৃথিবীর সবচেয়ে খাঁটি মুমিনদের উপরে উল্লেখিত বইসমূহ পড়ে তাহলে কি তারা সবাই না’স্তিক হয়ে যাবে না?

………………………………………………………………………………………..

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।