প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “গর্ভপা’তে ফাতেমার মৃ’ত্যু ও নবী বংশের অ’পঘাতে মৃ’ত্যু”

“গর্ভপা’তে ফাতেমার মৃ’ত্যু ও নবী বংশের অ’পঘাতে মৃ’ত্যু”

সুষুপ্ত পাঠক

1365

*মহরম স্পেশাল: হযরত ফাতেমার গর্ভ’পাতে মৃ’ত্যু ও পুরো নবী বংশের অপঘা’তে মৃ’ত্যু ইসলামকে আমাদের সামনে কিভাবে উ’পস্থাপন করে?
হযরত ফাতেমার মৃ’ত্যু নিয়ে আলেমদের লুকো’চুরি আমাকে ভাবতে বা’ধ্য করেছিলো ডা’লমে কু’চ কা’লা হ্যায়…। কেঁচো খুঁ’ড়তে গিয়ে দে’খি সা’প বেরিয়ে এলো! কি মর্মান্তি’ক, হযরত ফাতিমার গর্ভপা’তে মৃ’ত্যু ঘটে’ছিলো! তবে সন্তান ভুমিষ্ঠ হতে গিয়ে নয়, হযরত উমার ও হযরত আবু বককের মিলিত আক্র’মনে ফাতেমা মারা’ত্মক আঘা’তপ্রাপ্ত হয়ে গর্ভ’পাতের সৃ’ষ্টি হয়।

*সরাসরি হাদিস থেকে পড়ুন- মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে রুস্তম তাবারি (মৃ: চতূর্থ হিজরি) বর্ণনা করেন:
[عَن أبِی‌بَصِیرٍ عَن أبِی عَبدِاللهِ‌علیه‌السّلام: قالَ:]
وَ کانَ سَبَبُ وَفاتِها أنَّ قُنفُذاً مَولی عُمَرَ لَکَزَها بِنَعلِ السَیفِ بِأمرِهِ، فَأسـقَطَت مُحسِناً وَ مَرِضَت مِن ذلِکَ مَرَضاً شَدِیداً…
ইমাম আবু আব্দিল্লাহের কাছ থেকে আবু বাছির বর্ণনা করেছেন: ওমরের নির্দেশে তার ভৃত্য ‘কুনফুয’ তর’বারির গি’লাফ দিয়ে ফাতেমাকে আ’ঘাত করেছিলো, যে কারণে মুহসিনের গর্ভপা’ত ঘ’টে এবং সে কারণেই ফাতেমা আ. মারা’ত্মক অ’সুস্থ হয়ে প’ড়েন… (দালায়েল উল ইমামাহ/৪৫)।

*বিষয়টা কিন্তু সুন্নি আলেমরা এড়ি’য়ে যান। ফাতেমার মৃ’ত্যু কিভাবে হয়েছিলো এই বিষয়ে তাদের মুখে কোন রা নেই। নবীর মৃ’ত্যুর মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফাতেমার কি এমন হলো যে এত অল্প বয়েসে মা’রা গেলেন? তাবারসি বর্ণনা করেছেন এভাবে-
وَ حالَت فاطِمَةُ‌علیهاالسّلام بَـینَ زَوجِها وَ بَـینَهُم عِندَ بابِ البَیتِ فَضَرَبَها قُنفُذٌ بِالسَوطِ عَلی عَضُدِها، فَبَـقِیَ أثَرُهُ فِی عَضُدِها مِن ذلِکَ مِثلَ الدُملُوجِ مِن ضَربِ قُنفُذٍ إیّاها فَأرسَلَ أبوبَکرٍ إلی قُنفُذٍ إضرِبها، فَألجَـأها إلی عِضادَةِ بَـیتـِها، فَدَفَعَها فَکَسَرَ ضِلعاً مِن جَنبِها وَ ألقَت جَنِیناً مِن بَطنِها، فَلَم ‌تَزَل صاحِبَةَ فِراشٍ حَتّی ماتَت مِن ذلِکَ شَهِیدَه …
হযরত ফাতেমা তাঁর স্বামী ও আক্র’মনকারী ব্যক্তিদের মাঝে দাঁ’ড়িয়ে প্রতি’রোধ করেছিলেন, তখন ‘কুনফুয’ ফাতেমার উরুতে এমন আ’ঘাত হা’নল যে, তার দাগ বেন্ডেজের আকার ধারণ করল। আবুবকর কুনফুযকে ফাতেমাকে মা’রার জন্য পা’ঠিয়েছিল! তাই কুনফুয ফাতেমাকে ঘর থেকে আছা’ড় দিয়ে ফে’লে দিল, তখন তাঁর উরুর হাড় ভে’ঙ্গে গেল ও পেটের সন্তানের গর্ভ’পাত ঘ’টে। অতঃপর দীর্ঘ শয্যা’শায়ী হল এবং সে অবস্থাতেই শহীদি মৃ’ত্যু বরণ করলেন… (এহতেজাজ, ১/৮৩)।

*হায় হায়, জান্নাতের মহিলাদের সর্দার্নী ফাতেমা তুজ জোহরা কেন এমনভাবে অপঘা’তে মা’রা যাবেন? আর তার মৃ’ত্যুর জন্য দায়ী উমার ও আবু বকর! কি এমন ঘটে’ছিলো যে আলীকে হ’ত্যা করতে আবু বকর উমারকে পাঠিয়েছিলেন দল’বল নিয়ে? কারণ গোপন খবর ছিলো আলীর ঘরে খিলা’ফতের বিরু’দ্ধে চক্রা’ন্ত হচ্ছে। সেই সংবাদ পেয়ে হা’মলা চা’লানো হয় আলীর বাড়িতে। ফাতেমা স্বামী আর শ’ত্রুদের মাঝখানে প’ড়ে মারা’ত্মক আ’ঘাত পান।

*নিতান্তই ক্ষ’মতা নিয়ে এই ঝ’গড়া মা’রামারি কেন সৃ’ষ্টি হয়েছিলো। ইসলামের যদি উদ্দেশ্য থাকে সত্য ধর্ম প্রচার করার, তাহলে তার মধ্যে মসনদ বা সিংহাসন এসে যায় কিভাবে? ইসলাম যে সাম্রা’জ্যবাদী একটা ধর্ম তার কিছু প্রমাণ এক্ষুণি দিবো। কেমন করে গদির নে’শায় পুরো নবী বংশ একের পর এক অপ’ঘাতে মৃ’ত্যু ঘ’টেছিলো।

*শুরুটা হয়েছিলো খোদ নবী মুহাম্মদকে দিয়ে। ইহুদীদের উপর চালানো গণহ’ত্যা, দেশ ত্যা’গে বা’ধ্য করা, তাদের পুরুষদের হ’ত্যা ও নারীদের গণি’মতের মা’ল করে যৌ’নদাসী হতে বা’ধ্য করার প্রতি’শোধ নিতে একজন ইহুদী বৃদ্ধা নবীকে বি’ষ খা’ইয়ে হ’ত্যার পরি’কল্পনা করে। তার দুই পুত্রের হ’ত্যার প্রতি’শোধ নিতে বি’ষ মা’খানো বকরির মাংস খে’তে দেন মুহাম্মদ ও তার দুই সঙ্গীকে। খয়বর দ’খল করার পর বি’ষ মাখা’নো মাংস পরিবেশন করা হয়। মাংস মুখে দিয়েই মুহাম্মদের দুই সঙ্গী ঢ’লে প’ড়লেও মুহাম্মদ মাং’স গে’লার আগেই কিছু একটা আঁ’চ করতে পেরে মুখ থেকে মাংস ফে’লে দে’ন। ইহুদী বুড়িকে ডেকে এনে জে’রা করার পর সে স্বীকার করে বি’ষ মা’খানোর কথা।

*মুহাম্মদের পেটে পর্যাপ্ত বি’ষ না গেলেও সেই বি’ষের যে পরিমাণ অংশই গিয়েছিলো তাতে ধীরে ধীরে তাকে মৃ’ত্যুর দিকে নিয়ে যায়। খয়বরের এই ঘটনার পর থেকে মুহাম্মদ অসু’স্থ হতে থাকেন। জ্বর ও শরীর দু’র্বল হতে থাকে। মৃ’ত্যুর সময় মুহাম্মদ তী’ব্র মা’থার যন্ত্র’ণা স’হ্য করতে না পেরে আয়েশাকে বলেছিলেন, হে আয়েশা, আমার মাথার মধ্যে যেন সব ছি’ড়ে যাচ্ছে… খয়বরে যে বি’ষ মাখানো মাংস খাওয়ার জন্যই যে তিনি অসু’স্থ সেটা আয়েশাকে বলে গিয়েছিলেন।

*মুহাম্মদের প্রিয় সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসাউদ বলেছিলেন, ‘আমি দরকার হলে ৯ বার ক’সম খেয়ে বলতে পারব, রাসুল (স)-কে হ’ত্যা করা হয়েছে, কারণ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে নবী করেছেন, আর করেছেন শ’হীদ’। (দেখুন: সহি বুখারী, খন্ড-৭, অধ্যায়-৭১, হাদিস- ৬৬৯, যাদুল মায়াদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৩৯, ফতহুল বারী, সপ্তম খণ্ড, পৃ. ৪৯৭ ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৩৭ )।

*নবীর এই মৃ’ত্যুর পর ফাতেমার গর্ভ’পাতে মৃ’ত্যু। এরপর আলীর খু’ন হন মসজিদে। আলী সেজদা দেওয়া অবস্থায় তাকে হ’ত্যা করেন আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম। এই আবদুর রহমানও একজন আল্লাঅলা পাক্কা মুমিন মুসলমান। এখানে ইহুদীনাসারাদের কোন কারবার নেই। গোটা নবী বংশ হ’ত্যা করেছে নামাজী পাক্কা ঈমানদার মুসলমান। আলীর মৃ’ত্যু হয় জানুয়ারি ২৬, ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ। বিস্তারিত দেখুন-: https://en.wikipedia.org/wiki/Assassination_of_Ali#Death

*তারপর আলী ফাতেমার দুই পুত্র যথাক্রমে হাসানকে তার স্ত্রী বি’ষ পা’ন করিয়ে হ’ত্যা করে, কারণ মুয়াবীয়া (তিনি ছিলেন মুহাম্মদের রাজনৈতিক সচীব) চক্রা’ন্ত করেছিলো হাসানকে মা’রতে পা’রলে পুত্র ইয়াজিদের সঙ্গে তার বি’য়ে দেয়া হবে। হবু খলিফা ইয়াজিদ খলিফা হলে হাসানের স্ত্রী হবেন খলিফার স্ত্রী। হাসান নিজে ধোয়া তুলসি পাতা ছিলো না। অল’সতা বিলা’সী জীবন যাপন আর লা’ম্পট্য করাই ছিলো তার কাজ। বিয়ে করে নারী ভো’গ করা ছিলো তার প্রধান খেলা। স্বয়ং আলী তার পুত্র সম্পর্কে কুফাবাসীকে সত’র্ক করে বলেছিলেন, তোমরা হাসানের কাছে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়ো না, কারণ সে অতিশয় তালা’ক দা’নকারী ব্যক্তি…। বিশিষ্ট তাফসিরকারক ইবনে কাসির লিখেছেন, হাসান ৮০টির উপর বিয়ে করেছিলেন। এদের বেশির ভাগই বসরঘরের পর তালা’কপ্রাপ্ত হন। যাই হোক, এই বিষয়ে আলাদা বিস্তারিত লেখা আগেই লিখেছি বলে এখানে ক্ষ্যা’ন্ত দিলাম।

*এবার আসা যাক ইমাম হোসেনের কথা। তাকে হ’ত্যা করা হয় কার’বালায় ইয়াজিদের নি’র্দেশে। তার মাথা ধ’ড় থেকে আ’লাদা করা হয়। তার মাথা দিয়ে সাহাবীরা ফুটবল খে’লেছিলেন। তার ধুলি মলি’ন মাথা ইয়াজিদের সামনে হা’জির করা হয়েছিলো। ইয়াজিদের লোকেরা হোসেনের কা’টা মাথা পিছনে রেখে আসরের নামাজও আদায় করেছিলেন। ঘ’টনা কিন্তু এরপরেও থেমে থাকেনি। নবী বংশের অপমৃ’ত্যুর এখানেই শেষ নয়।

*হুসাইনের ছেলে জইনুল আবেদীনকেও বি’ষ প্রয়ো’গে হ’ত্যা করা হয় ৭১২ খ্রিস্টাব্দে। তার ছেলে আল বাকিরকেও বি’ষ খাইয়ে হ’ত্যা করা হয় ৭৩৩ সালে। বাকির ছেলে জাফর সাদিক, তার ছেলে মুসা আল কাজিম, কাজিমের ছেলে আর রিযা- এদেরকেও বি’ষ প্র’য়োগে হ’ত্যা করা হয়েছিল। এরপর আরো তিন-চার প্রজন্ম নবী বংশের ইমামদের বি’ষ খাই’য়ে হ’ত্যা করা হয়েছিল। এর কারণ কি? এই অভিশ’প্ত বি’ষ প্র’য়োগের ধারাবাহিকতা শানে নাযুলটা কি মুমিন ভাইয়ারা?
আরো কিছু রেফারেন্স-
https://en.wikipedia.org/wiki/Ali_al-Hadi#Death
https://en.wikipedia.org/wiki/Hasan_al-Askari#Death
https://en.wikipedia.org/wiki/Muhammad_al-Baqir#Death

……………………………………………………………………………………………

সুষুপ্ত পাঠক: লেখক, প্রবাসী ব্লগার।

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।