প্রচ্ছদ রাজনীতি “বিত’র্কিত ও অযো’গ্য নেতৃত্বের কারণে ছাত্রলীগে আগাম সম্মেলনের হাওয়া”

“বিত’র্কিত ও অযো’গ্য নেতৃত্বের কারণে ছাত্রলীগে আগাম সম্মেলনের হাওয়া”

42

*বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার বিত’র্কিত কর্ম’কাণ্ড ও অযো’গ্যতায় ক্ষু’ব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন খবরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তে’জনা ও তোল’পাড় চলছে। ছাত্রলীগের দুবছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে আরও ১১ মাস বাকি। এরইমধ্যে উদ্ভূত পরিস্থি’তিতে আগাম সম্মেলনের গু’ঞ্জন উঠেছে।

*বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) গণভবনে এক যৌথসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাম্প্রতিক কর্মকা’ণ্ডে বি’রক্তি ও উ’দ্বেগ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ভে’ঙে দেওয়ারও নি’র্দেশ দেন। এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য গণভবনে গিয়ে অ’পেক্ষা করছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে দেখা না করায় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শে তারা সেখান থেকে বাড়ি ফিরে যান।

*আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, ওই সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে নানা অভি’যোগ তোলেন উপস্থিত নেতারা। অভি’যোগের মধ্যে রয়েছে- বি’তর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করা, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনৈ’তিক আর্থিক লেনদেন করা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের অপেক্ষা করা, সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজে কমিটি দিতে না পারা ইত্যাদি।

*এসব খবর ওইদিন রাতেই দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হয়। পত্রিকাগুলোতেও খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়। এ খবরে ছাত্রলীগের বর্তামান নেতৃত্বের পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আ’লোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই সংগঠনের বিত’র্কিত দুই নেতাকে বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি ঘোষ’ণার দাবি জানান। রোববার দিনভর এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত ছিল। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে ছাত্রলীগ নিয়ে আ’লোচনা হয়েছে। ছাত্রলীগের কমিটি ভে’ঙে দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে কিছু বিষয়ে তার ক্ষো’ভ থাকতেই পারে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কমিটি ভা’ঙার বিষয়টি সি’দ্ধান্ত আকারে না আসছে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর সত্যতা তিনি স্বীকার করবেন না। এসময় তিনি ছাত্রলীগকে সত’র্ক ও সা’বধান হতে এবং ভালো খবরের শিরোনাম হয়ে সুনামের ধারায় ফিরে আসতে বলেন।

*এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী অবশ্য গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, সন্তান ভু’ল করলে মা অস’ন্তোষ প্রকাশ করতেই পারেন। সেটাই প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আর ছাত্রলীগের কমিটি ভে’ঙে দেওয়ার কথাও প্রধানমন্ত্রী রা’গের মাথায়ই বলেছেন।

*ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী আংশিক কমিটি ঘো’ষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১ বছর পর গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষ’ণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষ’ণা হওয়ার পর পরই ছাত্রলীগে নতুন এক সংক’ট দেখা দেয়। কমিটিতে অনেক ত্যা’গী নেতাদের ব’ঞ্চিত করে অছাত্র, বিবাহিত, মাদ’কসেবী, জামায়াত-শিবির ও একাধিক মাম’লার আসামিদের পদ দেওয়ার অভি’যোগ তুলে আন্দো’লনে নামেন পদব’ঞ্চিত ও কা’ঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে বেশকয়েকবার মারা’মারির ঘ’টনা ঘ’টে।

*পরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থ’গিত করা হয়। তবে এখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী অস’ন্তোষ প্রকাশের খবরে নতুন করে আ’ন্দোলনের দানা বাধতে শুরু করেছে। ছাত্রলীগের দু’বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ৩০ জুলাই বা আরও প্রায় ১১ মাস পরে। এরইমধ্যে সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের বি’রুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগসহ উদ্ভূ’ত পরি’স্থিতিতে আগাম সম্মেলনের দাবি উঠেছে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই।

*এ বিষয়ে ছাত্রলীগের গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং নতুন কমিটিতে পদব’ঞ্চিতদের মুখপাত্র রাকিব হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনকে কল’ঙ্কিত করেছেন। ছাত্রলীগে থাকার যোগ্যতা তাদের নেই। অচিরেই তাদের অপসা’রণ দাবি করছি। পাশাপাশি আগাম সম্মে’লনেরও দাবি জানাচ্ছি- যেখানে ত্যা’গী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।