প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “তাহলে সাদ কি এরশাদের পুত্র নন?”

“তাহলে সাদ কি এরশাদের পুত্র নন?”

95

*সাদ এরশাদের ডিএনএ টেস্টের দা’বি জাপার একাংশের: হঠাৎ করেই আলো’চনা-সমা’লোচনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ পুত্র রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ। রংপুর সদর আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নেবার আগ্রহ দেখা’নোর পর থেকেই সাদ এরশাদকে নিয়ে এরশাদের জাপায় তাকে নিয়ে আ’লোচনা বেশ উ’ত্তপ্ত হয়ে উ’ঠেছে। জাপা একাংশের চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ নিজ থেকেই সাদকে রংপুরে প্রার্থী করার ব্যাপা’রে আগ্রহ প্র’কাশ করেন। তাঁর এ আগ্রহ নিয়ে বিশেষকরে রংপুরেই নেতি’বাচক প্রতি’ক্রিয়া দেখা দেয়। এছাড়া সাদ এরশাদের নির্বাচনে অংশ নেবার ঘট’না নিয়েই জাতীয় পার্টিতে বি’ভক্ত দেখা দিয়েছে বলে জাপা নেতা-কর্মীরা জানান।

*কারণ হিসেবে জাপা নেতারা বলছেন, দলে রওশন বিরো’ধী একটি শক্তি’শালী অংশ কোনভাবেই চায় না সাদ রাজনীতিতে আসুক। তবে তাদের চাওয়া এরশাদ-বিদিশা পুত্র এরিক এরশাদ রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে জাতীয় পার্টিকে দিক-নির্দেশনা দিক। জাপার বিভ’ক্তির পর থেকেই জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন কমিটির অনেক নেতাই প্রকাশ্যে মুখ খু’লতে শুরু করেছে সাদের বি’রুদ্ধে। বিশেষকরে রংপুর থেকেই সাদের ব্যাপারে নেতি’বাচক প্রতি’ক্রিয়া দেখা গেছে। রংপুরের নেতারা প্রকা’শ্যেই বলাব’লি করছে, সাদকে নিয়ে যেহেতু বি’তর্ক আছে সেহেতু তার ডিএনএ টেষ্ট প্রয়োজন। যদিও এব্যাপারে জাপার একাংশের চেয়ারম্যান জিএম কাদের কোন মন্তব্য করেননি।

*আত্মজীবনীমূলক বইয়ে এরশাদের ৪ সন্তানের উল্লেখ রয়েছে

*হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বাংলাদেশের রাজনীতির বহুল আলো’চিত এক চরিত্র। তার আত্মজীব’নীমূলক বইয়ের নাম, ‘আমার কর্ম, আমার জীবন’ প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তবে এই বইতে নানা স্পর্শকা’তর বিষয় এড়িয়ে গেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার জীবনের বহুল আ’লোচিত নানা অধ্যায় নিয়ে থেকেছেন নীরব। বিদিশা-জিনাত অধ্যায় নিয়ে কিছু লিখেননি তিনি।

*প্রায় সাড়ে ৭শ’ পৃষ্ঠা’র বইটিতে এমন আরও অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বইতে ‘প্রথম ভালো লাগার অনুভূতি’ নামক অধ্যায়ে এরশাদ তার প্রথম প্রেমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন, ‘আমি তখন কারমাইকেল কলেজে বি.এ শেষ বর্ষে পড়ি। আমার নিচের ক্লাসের একটি মেয়ে একদিন আমাকে চিঠি লিখেছিল। জীবনে প্রথম কোনো মেয়ের হাতের চিঠি। তাও আমাকে লেখা। একজন সুন্দ’রী তরুণীর হাতের কোমল স্নিগ্ধ স্প’র্শ লেগে আছে যে চিঠির পাতায়। একি কম কথা? এরশাদ লিখেন, মেয়েটিকে বিয়ে করা হয়নি। বিয়ে করলে হয়তো আমার জীবনের মোড় অন্যদিকে ঘুরে যেতো। আজ এই পরিচয়গুলো হতো না।

*আমার বিয়ে নামক অধ্যায়ে রওশন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর সংসার করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও এক বছর। রওশন ওদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। আমি আজ এখানে কাল ওখানে। এরশাদ বইতে আরও লিখেন, সেসময় স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠাতো। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। চিঠির প্রথমে রওশনকে অনেক কিছু সম্বোধন করতাম। তারমধ্যে মনে আছে, নটি গার্ল। ওদিকে রওশন আামকে ডাকতো ‘পেয়ারা’ নামে।’

*এরশাদ এ বইয়ে তিন ছেলে এক মেয়ে রয়েছে বলে জানান। সেখানে এরশাদ জানান, তার সবচেয়ে বড় মেয়ে মাহজাবিন (জেবিন)। দেশে লেখাপড়ার পর লন্ডনে গিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। বিয়ে করে বর্তমানে লন্ডনেই অবস্থান করছেন তিনি। মেয়ে সাবিতা ও ছেলে নিকো জলিকে নিয়ে জেবিনের ছোট্ট সংসার। তবে জেবিনের মায়ের নাম উল্লেখ করেননি এরশাদ। আর এরশাদের ছেলেদের মধ্যে সবার বড় রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ। জন্ম হয় ১৯৮৩ সালে।সাদ প্রথমে আমেরিকান স্কুলে লেখাপড়া করেন। গ্রাজুয়েশন শেষে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করছেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের সঙ্গে জেবিন ও সাদকেও আটক করা হয়েছিল।

*আড়াই বছর পর হাজত থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তারা। গ্রন্থে আলম নামে আরেক পুত্রের নাম উল্লেখ করেছেন এরশাদ। আলম সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘সে আমার ঠিক ঔরসজাত সন্তান নয়, তবে তারচেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।’ এরিক হচ্ছেন এরশাদের কনিষ্ঠ সন্তান। বিদিশার গ’র্ভে তার জন্ম হয়েছে ২০০১ সালের ১১ মার্চ।

*এরিক সম্পর্কে এরশাদ লিখেছেন, ‘পুত্র এরিক স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতকে বেছে নিয়েছেন। আধুনিক, রবীন্দ্র, নজরুল গীতি সবই প্রিয়। মা ছাড়া একজন সন্তানকে মানুষ করে তোলা যে কী ক’ষ্টের, তা আমি তাকে দিয়েই উপ’লব্ধি করেছি। দিনে-রাতে বেশির ভাগ সময় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ও আমার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চি’ত হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত করে এরিক।’