প্রচ্ছদ রাজনীতি “ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভা’ঙার নেপ’থ্যে যে ৫ কারণ”

“ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভা’ঙার নেপ’থ্যে যে ৫ কারণ”

697

*ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভে’ঙে দে’ওয়ার নি’র্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তিনি এ নি’র্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের কমিটি ভা’ঙার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছেন এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

*প্রথমত, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সূত্রে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরেই জানতে পারছিলেন যে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা অ’নৈতিক বিভিন্ন কর্ম’কাণ্ডে জ’ড়িয়ে প’ড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছাত্রলীগে পদ দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমান টাকা হা’তিয়ে নেওয়া, মা’দক গ্রহ’ণ ও টে’ন্ডার ও তদ’বির বাণিজ্য।

*দ্বিতীয়ত, সাংগঠনিক কাজে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গা’ফিলতিও কমিটি ভে’ঙে দেওয়ার বড় কারণ বলে জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তারা বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার বিষয়ে অ’নৈতিক অর্থনৈতিক লেনদে’নের অভি’যোগের বিষয়গুলো ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের বড় অযো’গ্যতা হিসেবে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

*এছাড়াও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কমিটি নিয়ে আন্দোল’ন, অনশ’ন কর্মসূ’চির পর বিত’র্কিত সদস্যদের বা’দ প’ড়াদের সংখ্যা উল্লেখ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও তারা কারা সেটা স্পষ্ট না করা ও পরে বা’দ দে’ওয়ার ঘো’ষণা কার্যকর না করা, পাশাপাশি অনেক ত্যাগীকে বা’দ দেওয়ার বিষয়গুলো শোভন-রাব্বানীর গা’ফিলতির কারণেই ঘ’টেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন অযো’গ্যদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি থাকার না থেকে না থাকাই উত্তম।

*শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কমিটি ভা’ঙার তৃতীয় কারণ হলো, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা। জানা গেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কেউই দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠেন না। শোভন-রাব্বানি এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শোভন-রাব্বানীর জন্য সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বা’ধ্য হয়েছিলেন।

*এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে পৌঁ’ছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এমনকি সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে আয়োজন করা ছাত্রলীগের আরেকটি অনুষ্ঠানে একই ধরনের ঘ’টনা ঘ’টে। ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার জন্যই এই ঘট’নাগুলো ঘ’টেছে বলে জানা যায়। এছাড়া সংগঠনের কর্ম’কাণ্ডের যেকোনো বিষয়ে কথা বলার জন্যেও কর্মীরা দিনের বেলা শোভন-রাব্বানীর কাউকেই খুঁ’জে পান না বলে অভি’যোগ রয়েছে। এজন্য সংগঠনের কাজ বাধা’গ্রস্ত হচ্ছিল।

*ছাত্রলীগ কমিটি ভে’ঙে দিতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের চতুর্থ কারণ হলো, কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিত’র্কিত, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লি’ষ্টদের পদায়ন করা। শোভন-রাব্বানি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার পর থেকে যতগুলো কমিটি হয়েছে তার সবগুলোতেই বিত’র্কিত, বিবাহিত ও জামাতসং’শ্লিষ্টদের স্থান দেওয়ার অভিযো’গ আছে তাদের বিরু’দ্ধে। এমনকি ছাত্রলীগের সভাপতি নিজেই বিবাহিত, সেটাও উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়। এছাড়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দু`জনের বিরু’দ্ধেই অনৈ’তিক সম্প’র্কে লি’প্ত থাকা নিয়েও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কানাঘু’ষা রয়েছে।

*শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার পঞ্চম কারণ হিসেবে শীর্ষ নেতারা সংগঠনের অভ্য’ন্তরে বিভে’দ সৃ’ষ্টির বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন। ছাত্রলীগের অনেকেই জানিয়েছেন, শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগে আন্তঃকো’ন্দল প্র’কট। এমনটা আগে কখনই ছিল না।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শোভন-রাব্বানীর বিরু’দ্ধে অভি’যোগের পাহা’ড় জ’মেছিল। সবকিছু হিসে’ব-নি’কেশ করে প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন যে, বর্তমান কমিটি ভে’ঙে দেওয়া’টাই সবচেয়ে উত্তম কাজ হবে।