প্রচ্ছদ বিশ্ব ‘এনআরসিতে বা’দ প’ড়াদের ফি’রিয়ে নিতে বলবে বাংলাদেশকে’

‘এনআরসিতে বা’দ প’ড়াদের ফি’রিয়ে নিতে বলবে বাংলাদেশকে’

42
'এনআরসিতে বাদ পড়াদের ফিরিয়ে নিতে বলবে বাংলাদেশকে'

*আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) চূড়ান্ত তা’লিকা থেকে বা’দ প’ড়া মানুষদের ‘বিদেশি ট্রাইব্যুনাল’ এর চূড়ান্ত রা’য়ের পর সেইসব বিদেশিদের ফে’রত নিতে বাংলাদেশের সাথে ভারত কথা বলবে। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে হিমন্ত এই মন্তব্য করেন।

*‘ওয়ার্ক পারমিট’ ব্যবহার করে বিদেশি হিসাবে ঘো’ষিত নাগরিকদের সমস্যা মোকাবিলা করা হবে কি না? সেই প্রশ্নের উত্তরে হিমন্ত বিশ্ব বলেন, ‘একেবারেই নয়। বিদেশি হিসাবে ঘো’ষিত নাগরিকরা কিছু অধিকার ভো’গ করেন কিন্তু একজন প্রকৃত নাগরিকের মতো সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তারা পান না। চূড়ান্ত রায়ের (বিদেশি ট্রাইব্যুনাল) পর আমরা বাংলাদেশে সাথে আ’লোচনা করবো যাতে যে সব বাংলাদেশি নাগরিক অ’বৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন, তাদের তারা ফে’রত নেয়।

*বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। যদিও নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ১০০ বা ১৫০ মানুষকে বাংলাদেশে ফে’রত পাঠানো হয়েছে কিন্তু এনআরসি থেকে বাদ পড়া ব্যক্তির সংখ্যা তার থেকে কয়েকগুন বেশি হবে। তবে যেভাবেই হোক ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশের সাথে আলোচনা করে তাদের বাসিন্দাদের ফে’রত নেওয়ার ব্যাপারে পদ’ক্ষেপ গ্রহণ করা। যদি তারা তা ফের’ত নয়, তবে আমাদেরই তার সমাধান সূত্র বের করতে হবে। কিন্তু আমি বলবো এদের জন্য কোন ডি’টেনশন ক্যা’ম্প স্থাপন করা হবে না।’

*উল্লেখ্য, গত ৩১ আগষ্ট আসামে প্রকাশিত এনআরসি’র চূড়ান্ত তা’লিকায় অন্তর্ভুক্তি হয়েছে ৩ কোটির কিছু বেশি নাম। তা’লিকা থেকে বা’দ প’ড়েছে ১৯ লাখের বেশি নাম। কিন্তু চূড়ান্ত তা’লিকা প্রকাশের পরই রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে। তালিকা নিয়ে কংগ্রেসসহ বিরো’ধী দলগুলি যেমন অসন্তো’ষ প্রকাশ করেছে তেমনি কেন্দ্র ও আসামের ক্ষম’তাসীন দল বিজেপিও মনে করছে প্রচুর ভু’ল-ভ্রা’ন্তি রয়ে গেছে। যদিও চূড়ান্ত তা’লিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিরা পুনরায় ‘ফরেনারস ট্রাই’বুন্যাল’-এ আবেদনের সুযোগ পাবেন। এজন্য রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘ট্রাইব্যু’নাল’ও স্থা’পন করা হয়েছে।

*হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিমসহ প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের বাদ পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে হিমন্ত বলেন ‘আসল ভু’লের কারণেই বহু হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিমদের নাম তা’লিকা থেকে বা’দ পড়েছে। তাদের সুবিধার জন্য রাজ্য জুড়ে ১৬০টি ‘বিদেশি ট্রাইব্যু’নাল’ এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০০ ট্রাই’ব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। তার অভিমত, তা’লিকা থেকে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের বা’দ প’ড়ার চেয়ে ভু’য়া নথি দিয়ে তা’লিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আমাদের কাছে বেশি উ’দ্বেগের।

*কোন কোন জেলায় এনআরসি সঠিকভাবে কাজ করেনি এবং তার কারণ কি? এই প্রশ্নের উত্তরে আসামের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, ধুবড়ি এবং দক্ষিণ সালমারা সীমান্ত জেলাগুলিতে এনআরসি সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি ভু’ল-ভ্রা’ন্তির ঘট’না ঘ’টেছে বলে আমাদের স’ন্দেহ। এটা খুবই আশ্চ’র্যের যে সীমান্ত জেলাগুলিতে তা’লিকা থেকে বা’দ প’ড়েছে ৬ শতাংশ এবং সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত জেলাগুলিতে বা’দ পড়ার শতকরা হার ১৬ শতাংশ।

*কেন্দ্র সরকার ও আসাম রাজ্য সরকার-উভয়েই সীমান্ত এলাকাগুলতে কম করে ২০ শতাংশ রি-ভেরিফিকেশন ও বাকি জেলাগুলিতে ১০ শতাংশ রি-ভেরিফিকেশন করার বিষয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বা’রস্ত হবে। পুলিশ তদ’ন্তেই জানা গেছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভু’য়া সনদ চক্রের রম’রমা ব্যবসা চলছে। এমন অনেক জেলা আছে যেখানে ৬ শতাংশ মানুষ অবৈ’ধ ভাবে বসবাস করছে কিন্তু সেখানে মাত্র ২ শতাংশ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈ’ধ বসবাসকারী মানুষের শতকরা ভাগ ২০ শতাংশ। আর সেই কারণেই রি-ভেরিফিকেশনের জন্য শীর্ষ আদালতে যাচ্ছি।’