প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ঈদ আপনাদের পূজা”

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ঈদ আপনাদের পূজা”

সুষুপ্ত পাঠক

58

*জন্মাষ্টমী র‌্যালি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যতদিন পর্যন্ত সরকার ক্ষম’তায় থাকবে, ততদিন হিন্দুদের নিরা’পত্তা নিয়ে ভ’য় নেই’। নিঃসন্দেহে অসাধারণ বক্তব্য। হিন্দুরা আশ্বস্ত হতে পারে তাদের নিরাপ’ত্তা নিয়ে। কিন্তু এই বক্তব্য কি তাদের ‘সংখ্যা’লঘু’ না ভেবে অন্যথা রাখছে? কাদের সাহেব ও তার দল সংখ্যালঘুদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন মানছি। কিন্তু তার বক্তব্য বলছে যতদিন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ক্ষম’তায় আছেন ততদিন হিন্দুদের কোন ভ’য় নেই। অর্থ্যাৎ যেদিন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষম’তায় থাকবে না সেদিন হিন্দুদের কি হবে কেউ জানে না!

*এরকম রাজনৈতিক ঘুঁ’টি হতে হয় যে সম্প্রদায়কে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তারা নিজেদের সংখ্যাল’ঘু ভাববে না তো কি ভাববে? নিজেকে একবার এই জায়গায় বসান, আপনার কমিউনিটিকে উদ্দেশ্য করে কেউ বলছে, যতদিন আমরা আছি আপনাদের কোন ভ’য় নেই, কিন্তু আমরা ক্ষ’মতায় আসতে না পারলে কি হবে জানি না- এসব শুনে নিজেকে আপনার কি মনে হবে? প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, নিজেদের সংখ্যা’লঘু মনে করে ছোট হবেন না। এটা কি আপনাদের দেশ নয়? এ দেশটা নিজেদের দেশ মনে করুন।

*খুবই মজার ব্যাপার! আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ সংখ্যাল’ঘুদের নিরাপ’ত্তা দিবে না, তবু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানরা নিজেদের সংখ্যাল’ঘু ভাববে না। হিন্দুদের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের অভি’যোগ হিন্দুরা এদেশকে নিজেদের দেশ মনে করে না। ইন্ডিয়াকে তারা তাদের বাপের দেশ মনে করে… ইত্যাদি। যারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যা’তনকে অস্বীকার করে তারা মনে করে হিন্দুরা ভারতে চলে যায়, কারণ বাংলাদেশকে তারা কখনই নিজেদের দেশ মনে করেনি। প্রধানমন্ত্রী সে কারণেই বোধহয় তাগি’দটা দিয়েছেন, এটা আপনাদের জন্মভূমি, এটা আপনাদের দেশ- তাহলে কেন নিজেদের সংখ্যাল’ঘু মনে করবেন? মানে যে দেশে হিন্দুদের কোন সমস্যাই নেই, তবু নিজেদের সংখ্যাল’ঘু মনে করা, দেশত্যাগ করাটার হেতু কি?

*ঐ যে হিন্দুরা এদেশকে নিজেদের মনে করে না! প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেনই, অনন্য নজির তারা স্থাপন করেছেন অসা’ম্প্রদায়িকতার। তবু হিন্দুদের দেশত্যা’গ, নিজেদের সংখ্যাল’ঘু ভাবাটা নিশ্চিত করেই তাদের দেশপ্রেমহীনতার উদাহরণ! সেই যে মুনতাসির মামুন স্যার বলেছিলেন, ভারতেও মুসলমানদের উপর অত্যা’চার হয়, তবু তারা দেশপ্রেমের কারণে দেশত্যা’গ করে না। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা নির্যা’তন হলেই দেশত্যা’গ করে ফেলে কারণ… কারণটা আর কি বলতে হবে ভায়া? হিন্দুরা যে কত অকৃ’তজ্ঞ, সেটা তো এই সেদিন দেশের বুদ্ধিজীবী সুশীল প্রগতিশীলরা প্রমাণ করে দিলেন।

*প্রিয়া সাহা যে সংখ্যালঘু নি’র্যাতনের খবরটা আমেরিকায় গিয়ে হোয়াইট হাউসে দাঁ’ড়িয়ে বলে দিয়েছিলেন তখন এই সুশীল প্রগতিশীলরা চেঁ’চিয়ে বলেছিলো, ওদের যখন কেউ ধো’লাই দেয়, তখন তো আমরাই গিয়ে দাঁ’ড়াই। যখন কেউ হু’মকি দেয় তখন ওদের কে পাহা’রা দেয়? ওদেরকে কি আমরা সে’ল্টার দেই না? এত কিছু করার পর শেষতক আমাদের নির্যা’তনকারী বললি!… মানে তোদের নির্যা’তন করা হলে তো আমরা মানববন্ধন করি, বাড়িঘরে হা’মলা করার আ’শংকা থাকলে পাহা’রা বসাই- তবু অকৃত’জ্ঞরা বলছিস তোরা নির্যা’তিত!

*এই হচ্ছে দেশের অবস্থা! প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টামী অনুষ্ঠানে একটা চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সবসময় ওইটাই লক্ষ্য থাকবে যে, আমাদের প্রত্যেকটা ধর্ম, আমাদের ঈদ বলেন, আপনাদের পূজা বলেন বা বৌদ্ধ পূর্ণিমা বলেন অথবা বড়দিন… আমি বলবো পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশেই মনে হয় এত সুন্দর, এত আন্তরিক পরিবেশে প্রত্যেকটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমরা মিলেমিশে উদযাপন করি। এখানে কিন্তু আর কোন দ্বিধাদ্ব’ন্দ্ব থাকে না, সবাই মিলেই সবার অনুষ্ঠানে যাই’।

*কি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী খেয়াল করেছেন? বলেছেন ‘আমাদের ঈদ আপনাদের পুজা’। প্রধানমন্ত্রীর সিটে বসে যে এভাবে সা’ম্প্রদায়িক বিভাজনের কথা বলা যায় না সেটা মুসলিম রাজনীতিবিদদের আজীবন চেষ্টা করলেও বুঝানো যাবে না। তারা প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করলেও জীবনেও সেক্যুলারিজম কি- সেটাই বুঝেন না। রাষ্ট্র যখন বলে ‘আমাদের ঈদ’ তখন রাষ্ট্র সংখ্যাগুরুর হয়ে যায়। রাষ্ট্র যখন বলে ‘আপনাদের পূজা’ তখন রাষ্ট্র বুঝিয়ে দেয় তোমরা এদেশে হিন্দু সংখ্যাল’ঘু। রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত তার জনগণকে যদি স্মরণ করিয়ে দিতে থাকে, তোমরা হিন্দু, সংখ্যা’লঘু- তখন তাদের নিজেদের কি ভাবাটা শ্রেয় হবে বলুন তো?

*‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ সরকার থেকে বারংবার বলা হয়েছে মানছি। এটা দারুণ ছিলো এই সরকারের। কিন্তু এই কথা বলার পর আহমদ শফী, চরমোনাই পীরের তী’ব্র সা’ম্প্রদায়িক প্রতি’ক্রিয়ার কি ব্য’বস্থা নেয়া হয়েছিলো? চরমোনাই পীর যখন পল্টনে দাঁ’ড়িয়ে বলেছিলো, ‘এ দেশ হে’ন্দুদের নয়’ তখন সরকার থেকে তার বিরু’দ্ধে কি ব্যব’স্থা নেয়া হয়েছিলো। যখন প্রধানমন্ত্রীর নামে কেউ ক’টূক্তি করলেই গ্রেফতার হয়ে যায়, তখন গোটা একটা সম্প্র’দায়ের বি’রুদ্ধে আহমদ শফী যখন বলেছিলো, হিন্দুরা সব চো’র বা হিন্দু মানে হচ্ছে চো’র’ তখন সরকার তার বি’রুদ্ধে কি ব্য’বস্থা নিয়েছে?

*আপনারা বরং সংসদে একটা আইন করুন, এখন থেকে যে বা যারা নিজেদের সংখ্যাল’ঘু বলবে, সংখ্যাল’ঘু নির্যা’তনের অভি’যোগ করবে তাদের বিরু’দ্ধে ব্য’বস্থা নেয়া হবে!