প্রচ্ছদ রাজনীতি “টি’কে থাকতে হলে বিএনপিকে বিজেপি হতে হবে?”

“টি’কে থাকতে হলে বিএনপিকে বিজেপি হতে হবে?”

126

*‘বিএনপিকে বাঁচা’তে একজন মোদি প্রয়োজন’ এরকমই মন্তব্য করেছে বিএনপিপন্থী থিংক ট্যাংকরা। গত নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বিএনপিকে পুনর্গঠন এবং বিএনপির করণীয় নির্ধারনের জন্য লন্ডনে পলা’তক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ৫ জন বুদ্ধিজীবিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই ৫ বুদ্ধিজীবির মধ্যে একজন মতামত দেওয়ার আগেই মা’রা গিয়েছেন। তিনি হলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ। বাকি ৪ জন যে সুপারিশ এবং পরামর্শ দিয়েছেন তা এখন তারেক জিয়ার কাছে। সেটার একটি সংক্ষিপ্ত সার তৈরী করা হয়েছে লন্ডনে।

*জানা গেছে যে, এই সংক্ষিপ্ত সারকেই মতামতের জন্য ঢাকায় আরো কয়েকজন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি এবং সুশীলের কাছে দেওয়া হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিএনপির পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। যে চারজন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবি তাদের মতামত ও বিএনপির করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, যায় যায় দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান, দিনকালের সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের পরামর্শে মূলত ৫টি বিষয় ফুটে উঠেছে। তা হলো;

*১. বিশ্বব্যাপি উত্তরাধিকার রাজনীতির ব্যাপারে জনগণের মধ্যে একটি নেতি’বাচক ধারণা তৈরী হচ্ছে। বাংলাদেশেও নেতি’বাচক ধারণা তৈরী হয়েছে। কাজেই উত্তরাধিকারের রাজনীতির বিপরীতে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
২. বিএনপি ভারত বি’রোধী এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদীর যে অবস্থান সেই অবস্থানে ফিরে আসতে হবে। ভারতের আধি’পত্যবাদসহ বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের বিভিন্ন নীতি কৌশলের ব্যাপারে বিএনপিকে ক’ঠোর সমা’লোচনা করতে হবে।

*৩. বিএনপি ইসলামিক ধারার একটি দল। ইসলাম পছন্দ দলগুলোর ভোটাররা যে বিএনপির প্রতি আ’স্থাশীল ছিল সেই আস্থায় ফা’টল ধরেছে। বিএনপিকে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যকে আরো দৃঢ় এবং প্রকাশ্য করতে হবে। ইসলামী চিন্তা চেতনাকে রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার যে কাজ জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন তা অব্যাহত রাখতে হবে।
৪. বিএনপিকে তৃণমূলে যেতে হবে। তৃণমূলের মাধ্যমে বিএনপির প্রতিষ্ঠা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং তারেক জিয়া তৃণমূলের মাধ্যমে বিএনপি গুছিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তৃণমূলের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বি’চ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তৃন্মূলের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
সর্বশেষ, বিএনপিকে জনগণের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলতে হবে।

*ওই পরামর্শে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে ভারত বিরো’ধী, আওয়ামী লীগ বি’রোধী যে জনআকাঙ্ক্ষা আছে সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিরূপ হলো বিএনপি। কাজেই বিএনপির অস্তিত্ব বি’লীন হবে না, তবে বিএনপিকে ভারতের বিজেপির আদলে ঢে’লে সাজানো যেতে পারে। ভারতের বিজেপি যেমন কংগ্রেসের বিরু’দ্ধে তিল তিল করে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে, গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে আ’ত্মপ্রকাশ করেছে তেমনি বিএনপিরও ইসলামীক মূল্যবোধকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে। এজন্য বিএনপিতে উত্তরাধিকারের ধারার রাজনীতির অবসান করতে হবে। যোগ্য এবং সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে ঢে’লে সাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের প্রস্তাবে একজন নরেন্দ্র মোদীর মত নেতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশে বিজেপি মডেল অনুসরণ করে বিএনপিকে পুনর্গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এইসব পরামর্শ তারেক জিয়া কতটুকু মানবেন সেটি হলো দেখার বিষয়। কারণ এর আগেও বারবারই বিএনপিকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার যতগুলো পরামর্শই দেওয়া হয়েছে তার পরামর্শের মোদ্দাকথা হলো তারকের স’রে যাওয়ার পরামর্শ। কিন্তু তারেক এই পরামর্শগুলোর কোনটাই গ্রহণ করেননি। তাই বিএনপির অনেক নেতাই এখন মনে করেন যে, তারেক জিয়াই হলো বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় লায়াবিলিটি।