প্রচ্ছদ রাজনীতি “তা’মাশার রাজনীতি: দেবর-ভাবির ক্ষমতার ল’ড়াই জমে উঠেছে”

“তা’মাশার রাজনীতি: দেবর-ভাবির ক্ষমতার ল’ড়াই জমে উঠেছে”

33

*জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার পদকে ঘিরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের এবং দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ পা’ল্টাপাল্টি অবস্থানে রয়েছেন। মঙ্গলবার জি এম কাদের তাকে বিরো’ধী দলের নেতা নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংসদের স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়ার বি’রোধিতা করেছেন রওশন এরশাদ। মঙ্গলবার রাতে এবং গতকাল দুপুরে দুই দফা বৈঠক শেষে গতকাল বিকালে জি এম কাদেরকে বিরো’ধীদলীয় নেতা নিয়োগ না দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন রওশন এরশাদ।

*চিঠিতে বলেছেন, জি এম কাদেরের পাঠানো চিঠি গঠনতন্ত্রসম্মত নয়। এ নিয়ে দলের ভিতরে বি’দ্রোহ এখন তু’ঙ্গে। রয়েছে দল ভা’ঙার আ’শঙ্কা। রওশন এরশাদ দুই দফা বৈঠক ডা’কলেও তাতে তেমন সা’ড়া দিচ্ছেন না অধিকাংশ সংসদ সদস্য। অংশ নিয়েছেন চার থেকে পাঁচজন। এ নিয়ে কো’ণঠাসা হয়ে পড়েছেন রওশনপন্থিরা। আজ বেলা ১২টায় রওশন এরশাদ তার গুলশানের বাসভবনে আনুষ্ঠানিক প্রতি’ক্রিয়া জানাবেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

*জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, এরশাদ সাহেব যখন বেঁ’চে ছিলেন তিনিও এভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। আমাকেও বিরো’ধীদলীয় উপনেতা করেছিলেন। পরে আমাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে উপনেতা করা হয়, তখনো কিন্তু পার্লামেন্টারি পার্টির কোনো মিটিং করা হয়নি। আমাদের পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংসদের নিয়মে যদি মিটিংয়ের প্রয়োজন পড়ে করা হবে। জানা যায়, এইচ এম এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টিতে সংসদের ভিতর-বাইরে নেতৃত্ব ও নিয়’ন্ত্রণ নিয়ে তার পরিবারে বিরো’ধ প্র’কট হয়ে উঠেছে। এতদিন দলের ‘চেয়ারম্যান’ পদ নিয়ে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ ও তার ছোট ভাই জি এম কাদেরের মধ্যে ম’তপার্থক্য চলে আসলেও এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংসদের বিরো’ধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে প্রকাশ্য বি’বাদ।

*জি এম কাদেরকে বিরো’ধীদলীয় নেতা নিয়োগ দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পার্টির ১৫ এমপি স্বাক্ষরিত চিঠিটি স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ। এ সময় জাপার সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নাজমা আকতার, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল ও আদেলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। চিঠিতে তারা ছাড়াও আরও স্বাক্ষর করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অধ্যাপিকা মাসুদা রশিদ চৌধুরী, লে. জে. অব. মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া টিপু, নুরুল ইসলাম তালুকদার, সালমা ইসলাম ও পনির উদ্দিন আহমেদ। চিঠির খবর রওশন এরশাদের কাছে পৌঁছলে তিনি দলীয় এমপিদের সন্ধ্যায় নিজ বাসায় আসতে বললেও মাত্র চারজন হাজির হন।

*বুধবার দুপুরেও নিজ অনুসারীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন রওশন। সেখানে চারজন এমপি উপস্থিত ছিলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়। দুই দফা বৈঠকে অনেককে ফোন করেও কাছে পাননি রওশন এরশাদ। সঙ্গী হয়েছিলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু ও ফখরুল ইমাম। বৈঠক শেষে স্পিকারের কাছে রওশনের চিঠি পৌঁছে দেন মুজিবুল হক চুন্নু। সূত্র জানায়, রওশন এরশাদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিরো’ধীদলীয় নেতা নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি পার্টির কোনো সভা হয়নি, তাই জি এম কাদেরের পাঠানো চিঠি আমলে না নেওয়ার অনুরোধ জানান।

*জানতে চাইলে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ম্যাডাম স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেই। জি এম কাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। পার্টিও পার্লামেন্টারি বোর্ডেও কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এভাবে বি’রোধীদলীয় নেতা নিয়োগের রেওয়াজ নেই। ম্যাডাম আগামী ৮ তারিখে সংসদে আমাদের সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন। সেখানেই আমরা বিরোধী দলের নেতার বিষয়ে সিদ্ধা’ন্ত নেব। এ বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অন্য কেউ পার্লামেন্টারি পার্টির সভা ডাকতে পারেন না। ডাকতে হলে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে আমিই ডাকব।

*তিনি বলেন, ফোনে সংসদ সদস্যদের জিজ্ঞেস করেছি। তারা সম্মতি দিয়েছেন। লিখিত দিতে বলা হলে ১৫ জন সম্মতিপত্র দিয়েছেন। এখন আরও অনেকে লিখিত সম্মতি দিতে চাচ্ছেন। সার্বিক প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, চাইলে অনেক কিছু নিয়ে সমা’লোচনা করা যায়। এ ক্ষেত্রেও কেউ কেউ সমা’লোচনা করার চেষ্টা করছেন। ৮ তারিখে অধিবেশন বসবে তার আগে নেতা নির্বাচন করা দরকার। তাই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

*এদিকে রওশন এরশাদের বাসায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক থেকে বেরিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, আজ বেলা ১২টায় রওশন এরশাদ তার বাড়িতে ‘জরুরি সংবাদ সম্মেলন’ ডেকেছেন। এতে দলের রাজনীতি নিয়ে রওশন এরশাদ নিজেই সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন। তিনি বলেন, সংসদে বিরো’ধী দলের নেতা নির্বাচন করতে গেলে পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক ডাকার এখতিয়ার একমাত্র উপনেতা রওশন এরশাদেরই আছে। যেহেতু সংসদে আমাদের নেতা নেই, উপনেতা আছেন।