প্রচ্ছদ রাজনীতি “জাপার ভা’ঙন ঠে’কাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্ত’ক্ষেপ কামনা”

“জাপার ভা’ঙন ঠে’কাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্ত’ক্ষেপ কামনা”

87

*সরকার এই মুহূর্তে জাতীয় পার্টির ভা’ঙন চায় না। জাতীয় পার্টির ভা’ঙন ঠে’কাতে সরকার তৎপ’র হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা, জাতীয় পার্টির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজকালের মধ্যে যেকোন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

*জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা বলেছেন, জাতীয় পার্টির ভা’ঙন ঠে’কাতে প্রধানমন্ত্রী হস্ত’ক্ষেপ কাম্য। তবে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টির আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্ত’ক্ষেপ করবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাতীয় পার্টির নেতারা আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী বিবা’দমান দুই পক্ষকে একটা সমঝোতায় আনার জন্য কাজ করবেন। জাতীয় পার্টির একজন নেতা বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী সংসদের অভিবাবক। তিনি জাতির অভিবাবক। এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশিদার। তাই জাতীয় পার্টির ভা’ঙন হলে মহাজোট এবং সরকারও ক্ষতি’গ্রস্থ হবে। এই বিবেচনা থেকে তারা মনে করেন যে, সরকার জাতীয় পার্টির ভা’ঙন রো’ধে উদ্যোগ নিবেন।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংসদে রওশন এরশাদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য থাকলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জিএম কাদেরের পক্ষে। তাই শেষ পর্যন্ত যদি জাতীয় পার্টির দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হয় সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির ভা’ঙন অনি’বার্য। সংসদে রওশনপন্থীদের আধি’পত্য থাকলেও সংসদের বাইরে দলটির যে অবস্থা তাতে জিএম কাদেরের পক্ষই ভারি থাকবে। এই বাস্তবতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং রওশন এরশাদকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা এবং সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতার একটা ভার’সাম্য তৈরীতে কাজ করছে জাতীয় পার্টির প্রভাব’শালী নেতারা।

*উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে সিনিয়র নেতারাই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সরাসরি রওশন এরশাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কাজী ফিরোজ রশীদ অবস্থান নিয়েছেন জিএম কাদেরের পক্ষে। কিন্তু তারা দুজনেই সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। এজন্য বিবাদমান দুইপক্ষের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারা যোগাযোগ করছেন। এই যোগাযোগের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে। বৈঠকের মধ্যদিয়ে এই সংকটের নিরসন হতে পারে।

*সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সরকার এই মুহুর্তে জাতীয় পার্টির ভা’ঙন চায় না। জাতীয় পার্টির ভা’ঙন হলে পুরো দল দুর্বল হয়ে যাবে এবং এই ঘটনায় লাভবান হবে বিএনপি। সূত্রমতে, যদি জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব না থাকে তাহলে আওয়ামী বিরোধী এবং ইসলামী যে ভোটব্যাংক সেটা সরাসরি পুরোপুরি বিএনপির পকেটে চলে যাবে এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপি লাভবান হবে। এই বিবেচনাবোধ থেকে জাতীয় পার্টিকে অখণ্ড রাখার একটা নীতিগত সি’দ্ধান্ত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, রওশন এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুজন কথা বলেছেন। অন্যদিকে জিএম কাদেরের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে একাধিক সূত্র বলছে যে, বিএনপির পক্ষ থেকে জিএম কাদেরকে দলে এবং সংসদে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিএনপিকে উৎসাহিত করেছে। তারা মনে করছে এরফলে একটা সরকারবিরোধী মোর্চা গঠন করা সহজ হবে।

*আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, তাঁরা জিএম কাদেরকে নেতৃত্বে দেখতে চান না। বরং রওশন এরশাদের নেতৃত্বেই জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাক এরকম একটা পরিস্থিতি চান। তবে যেহেতু জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করে গিয়েছিলেন সেজন্য জিএম কাদেরকে একটি সম্মানজনক জায়গা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে অক্ষু’ণ্ণ রাখার কৌ’শল নিয়ে এগুচ্ছে সরকার।

*তবে শেষপর্যন্ত জিএম কাদের যদি এই সমঝোতায় রাজী না হন সেক্ষেত্রে তাকে কোণ’ঠাসা করে বা একঘরে করে জাতীয় পার্টিকে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সবকিছু চুড়ান্ত হবে আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে। জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছি। আশা করি, তিনি দুয়েকদিনের মধ্যে সাক্ষাৎ দিবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই জাতীয় পার্টির বর্তমান বিরো’ধ মিমাংসা হবে বলে জানা গেছে।

*জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং রওশন এরশাদ দুজনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে একটা সমঝোতা করবেন বলে আশা করছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। জাতীয় পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীই পারেন জাতীয় পার্টির ভা’ঙন ঠে’কাতে। সেক্ষেত্রে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটা বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা।