প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “ইয়াজুজ-মাজুজ’ কি আদমেরই সন্তান?”

“ইয়াজুজ-মাজুজ’ কি আদমেরই সন্তান?”

সুষুপ্ত পাঠক

80

*আসুন একটা ইসলামি রূপকথা শুনি যা বিশ্বাস করা সমস্ত ঈমানদার মুসলমানের জন্য ফরজ! এমনিতে মুসলমানরা দা’বী করে তাদের ধর্ম সায়েন্টিফিক ধর্ম। আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত কিছু নাকি ইসলাম থেকে আবিষ্কার। তো এবার সায়েন্সে দিয়ে ইসলামের ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ গল্পটা প্রমাণ করে দেখান তো। ইসলামিক এই কাহিনি কুরআন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এরা আদমের বংশধর। আদমের স্ব’প্নদোষের ফলে বের হওয়া বী’র্য খেয়ে ফেলেছিলো এক প্রকার প্রাণী তাদের পেট থেকেই জন্ম নিয়েছিলো ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’। কিচ্ছার এটুকু নাকি সহি নয় বলে দা’বী অন্যান্য কিচ্ছাবিশারদদের (হাদিস বিশারদ)।

*তারা বলেন ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ আদমের সন্তানই ছিলো। বী’র্য খাওয়ার হাদিস দুর্বল। যাই হোক এটুকু বাদে কিচ্ছার কাহিনি সবখানেই একই রকম। কিচ্ছাটা এরকম, ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ নামের এক প্রকার অ’দ্ভূত জানোয়ার প্রবল অ’ত্যাচার শুরু করলে জুলকারনাইন (আলেকজান্ডার) তাদের গলিত লোহা দিয়ে প্রাচীর বানিয়ে ব’ন্দি করে রাখেন। সেই থেকে তারা পাহাড়ে আ’টক আছে। কিয়ামতের আগে তারা বের হয়ে আসবে আর পৃথিবীর সব কিছু খে’য়ে শেষ করে ফেলবে। তখন ইসা নবী এসে তাদের ব’দদোয়া করবে। এর ফলে আল্লাহ এক প্রকার পো’কা পাঠাবেন যারা তাদের কাধ থেকে বের হবে। এর ফলেই তারা মা’রা যাবে…। এরা দেখতে কি রকম তার বর্ণনা হাদিসে এসেছে। যেমন এদের কেউ দেখতে বেঁ’টে কেউ অস্বা’ভাবিক লম্বা। এদের কান এত বড় যে এরা একটা কান বিছিয়ে শোয় আরেকটা কান দিয়ে শরীর ঢেকে নেয়! (সূত্র: বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৭৫)।

*রূপকথার হাট্টিমাটিম টিমদের কথা আমরা ছোটবেলায় পড়েছি। ইয়াজুজ-মাজুজ শারীরিক বর্ণনা এবং তাদের নদী পাহাড় বন খে’য়ে ফে’লার কথা জেনে তাদের হাট্টিমাটিম টিমের মতই উদ্ভট একটা প্রাণী মনে হচ্ছে। এসব শিশুতোষ কিচ্ছা কাহিনি সব ধর্মেই রয়েছে। হনুমান মানুষের মত কথা বলে। পাহাড় হাতে নিয়ে সূর্য বগলে লু’কিয়ে হনুমানের আকাশ পথে উড়ে চলা হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে রয়েছে- যা নিতান্তই শিশুতোষ কাহিনি। কোটি কোটি হিন্দু ভক্ত এসব কাহিনি বিনা যুক্তিতে বিশ্বাস করে থাকে। এসব কাহিনি আবার মুসলমানদের মত ‘সায়েন্টিফিক ধর্মের অনুসারীরা’ শুনে হাসাহাসি করে থাকে।

*এবার তাই ‘সায়েন্টিফিক মুমিনদের’ কাছে প্রশ্ন, সেই কোনকালে কাদের পাহাড়ে আ’টকে রাখা হয়েছে, তারা আজো বেঁচে আছে এবং কিয়ামতের সময় বের হয়ে আসবে- এটা কিভাবে বিজ্ঞান দিয়ে সাফাই গাওয়া যাবে? পৃথিবীর কোন পাহাড়ে এদের আট’ক করা আছে, যেখানে তাদের আবিষ্কার করা যাচ্ছে না। আলেকজান্ডার তো কোন নবী বা ফেরেস্তা ছিলেন না। ভারত আ’ক্রমন করতে এসে সামান্য জ্বরে মা’রা গিয়েছিলেন। তিনি কোন স’ম্প্রদায়কে আট’ক করেছিলেন আর তারা আজো আ’টক থাকবে- এসব গাঁজাখুরি কিচ্ছা কিভাবে বিশ্বাস করেন আপনারা? দাঁড়ান দাঁড়ান, কুরআনে আছে কিনা এই ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ প্রসঙ্গ এই প্রশ্ন তুলবেন তো?

*এই যে কুরআনে তাদের কথা বলা আছে দেখুন, ‘শাসক যুলক্বারনাইন তাদেরকে এখন প্রাচীর দিয়ে আ’টকিয়ে রেখেছেন (সূরা কাহফ, আয়াত ৯২-৯৭)’। কুরআন লেখক কি ওষুধ খেয়েছিলেন নাকি? না না, সোর্স বলছে বিচ্ছুর কা’মড় খেয়েছিলেন! মানে মুহাম্মদ এই ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ সম্পর্কে সাহাবীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। বিচ্ছুর বি’ষ সাং’ঘাতিক। সেটা যদি মাথায় উঠে তাহলে এরকম গল্প বের হলে গল্পের গরু যে শুধু গাছে নয় আকাশেও উড়বে তাতে সন্দেহ কি। হাদিসে এসেছে মুহাম্মদকে একটা দুষ্টু বিচ্ছু তার মাথায় কামড় দিয়েছিলো।

*‘খালেদ বিন আব্দুল্লাহ্ আপন খালা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা নবী করীম (সা:) বিচ্ছু দংশ’নের ফলে মাথায় ব্যান্ডেজ বাধাবস্থায় ছিলেন। বললেন, তোমরা তো মনে কর যে, তোমাদের কোন শ’ত্রু নেই! (অবশ্যই নয়; বরং শ’ত্রু আছে এবং শ’ত্রুদের বিরুদ্ধে) তোমরা য’দ্ধু করতে থাকবে। অবশেষে ইয়াজূজ-মাজূজের উ’দ্ভব হবে। প্রশস্ত চেহারা, ক্ষুদ্র চোখ, কৃষ্ণ চুলে আবছা রক্তিম। প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে তারা দ্রুত ছুটে আসবে। মনে হবে, তাদের চেহারা সুপরিসর বর্ম… [মুসনাদে আহমদ, তাবারানী]।

*যাই হোক, আপনি যদি একবার ঈমান এনে থাকেন, তাহলে আপনাকে এইসব আবল-তাবল কিচ্ছা কাহিনি বিনাবাক্যে যুক্তিহীনভাবে মেনে নিতে হবে। আলেকজান্ডারকে আরবরা জুলকারনাইন বলত। এই যোদ্ধাকে নিয়ে পৃথিবীব্যাপী নানা রকম কিংবদন্তি প্রচলিত ছিলো। আরবে তাকে ঘিরে ‘ইয়াজুজ-মাজুজ’ নামক অ’দ্ভূত প্রাণীদের নিয়ে প্রচলিত গল্প কুরআনে ঠাই নিয়েছিলো। এসব গল্প অশিক্ষিত আরবরা সত্যি বলে বিশ্বাস করলেও শিক্ষিত আরবদের মধ্যে যারা তখনকার গ্রীক সায়েন্স পড়ে আধুনিক চিন্তা চেতনা ও পৃথিবীর নানা প্রান্তের কিচ্ছা কাহিনি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, তারা কুরআনের এসব গল্প নিয়ে হাসাহাসি করত।

*মুহাম্মদের কাজিন কালাদা যেমন কুরআনের এসব গল্প নিয়ে উপ’হাস করতেন। আশ্চর্য যে, কেবলমাত্র ধর্ম বিশ্বাসের কারণে এসব গাল’গল্প আজকের যুগের মানুষও বিনাবাক্যে মেনে নিবে! তারা প্রশ্ন করবে না, মাটির গভীরে লু’কানো খনিজ মানুষ বের করে ফেলতে পারলেও ইয়াজুজ-মাজুজকে কেন তারা আবিষ্কার করতে পারবে না। আপনি হয়ত বলবেন আল্লাহ চায় না বলেই মানুষ শত চেষ্টা করেও তাদের দেখা পাবে না। বেশ তো, আল্লাহ রহস্য পছন্দ করেন মানলাম। কিংবা তিনি মানুষের অ’ন্ধ বিশ্বাসের পরীক্ষা নিচ্ছেন বুঝলাম। কিন্তু শয়তান তো স্বাধীন। তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

*যেমন মাদ্রাসার হুজুররা ছাত্রের সঙ্গে আ’কাম কু’কাম করে ধ’রা পড়ার পর দা’বী করে শয়তানের প্ররো’চনায় তারা এমনটা করেছে। বুঝাই যায়, শয়তানকে আল্লাহ তার দ্বিনী বান্দাদের উপরও কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমার মত কোটি কোটি মানুষকে নাস্তিক করে দিয়েছে। গোমরাহ করে ফেলেছে। শয়তানের এমনই ক্ষমতা। তো সেই ইবলিশ তার চরম শয়তানীর অংশ হিসেবে বিশ্ববাসীর সমানে এসে একবার দেখা দিয়ে বললেই তো হয় তিনিই সেই শয়তান। তোমাদের আল্লাহ-গড পারলে এসে তোমাদের সামনে দেখা দিক। যদি সে থেকে থাকে তাহলে আমার মত এসে দেখা দিক। তাহলে আল্লাহ কি রকম প্যারায় পড়ে যাবে ভেবে দেখুন। বাধ্য হয়ে তাকে দেখা দিতে হবে। শয়তান যদি সত্যি হতো তাহলে সে নিশ্চয় দেখা দিতো। যা নেই সেটা কিভাবে দেখা যাবে? কিভাবে সেটা প্রমাণ করা যাবে? ঈশ্বর-শয়তান কোনটাই তাই দেখা যায় না।

*যা হোক, ধর্ম বিশ্বাসীদের হাট্টিমাটিম টিম, পঙ্খিরাজ ঘোড়া, আ’গুন বের করা ড্রা’গনের মত রূ’পকথা সমতুল্য জিনিস বিশ্বাস করতে হয়। বিশ্বাস জিনিসটা এমনই। এখানে কোন যুক্তি প্রমাণ বিজ্ঞানের স্থান নেই। আর ধর্ম শতভাগ বিশ্বাসে মোড়ানো একটা ধা’প্পাবাজী। ইসলাম মোটেই আধুনিক বা যুক্তিপূর্ণ কোন ধর্ম নয়। কত আ’জগুবি জিনিসে যে মুসলমানদের ঈমান রাখতে নির্দেশ দেয়া আছে, তা পরের কোন একটি লেখায় নিশ্চয় আবার আলোচনা করব।

…………………………………………………………………………………….

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

লেখক: সুষুপ্ত পাঠক।