প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “বঙ্গবন্ধুর খু’নীদের রক্ষাকর্তা জিয়া”

“বঙ্গবন্ধুর খু’নীদের রক্ষাকর্তা জিয়া”

46

*১৯৭৬ সালের ৮ জুন পনেরোই আগস্ট হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত হ’ত্যাকারী গোষ্ঠীর ১২ জনকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। পঁচাত্তরের নভেম্বরের মধ্যভাগ থেকে তাঁরা কর্নেল গাদ্দাফির লিবিয়ায় বসবাস করতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁদের কূটনীতিকের চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

*তাঁরা হলেন: ১. লে. কর্নেল শরিফুল হককে (ডালিম) চীনে প্রথম সচিব, ২. লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব, ৩. মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব, ৪. মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব, ৫. মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব, ৬. মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব, ৭. মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব, ৮. মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব, ৯. ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব, ১০. লে. খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব, ১১. লে. নাজমুল হোসেনকে কানাডায় তৃতীয় সচিব, ১২. লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

*তাঁদের নিয়োগপত্র ঢাকা থেকে লিবিয়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা ও পরবর্তীকালে পররাষ্ট্রসচিব সমশের মবিন চৌধুরী। এর আগে ওই বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতার জন্য ঢাকা থেকে তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (পরে মেজর জেনারেল) নুরুল ইসলাম (শিশু) ঢাকা থেকে লিবিয়া গিয়েছিলেন। সে সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব জানা গিয়েছিল।
তবে ১২ জন সেনা কর্মকর্তা চাকরিতে যোগ দিতে রাজি হলেও ১৫ আগস্ট হ’ত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই হো’তা কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান ও কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশীদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা ও চাকরি গ্রহণে অস’ম্মতি জানিয়েছিলেন। তাঁরা লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্নেল গাদ্দাফির সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছিলেন।

*রাষ্ট্রপতি জিয়ার পর এরশাদ সরকারের আমলেও বঙ্গবন্ধুর খুনি’রা প্রত্যেকেই কূটনীতিকের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দেশে ছিলেন, পদোন্নতিও পেয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, মেজর ডালিমকে বেইজিং থেকে হংকংয়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে পোল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিয়োগ দেওয়া হলে সে সময়ে সমাজতান্ত্রিক পোল্যান্ড সরকার তাঁকে গ্রহণ করতে অস্বী’কৃতি জানিয়েছিল। পরে তাঁকে কেনিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

*মেজর নূর তখন ব্রাজিলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে তিনি আলজেরিয়ায় কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। মেজর রাশেদ চৌধুরী টোকিওতে কাউন্সিলর পদে নিযুক্ত ছিলেন। মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন সৌদি আরবের মিশন উপপ্রধান হিসেবে (বেনজির ভুট্টোর সরকারও করাচিতে একই পদে তাঁর নিয়োগ গ্রহণ করেনি), মেজর শরিফুল হোসেন ওমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দায়িত্ব পালন করেছেন।

*উল্লেখ্য, তাঁরা সবাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিনিস্টার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। পরে কোনো এক সময়ে লে. নাজমুল হোসেন ও ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেম বিদেশে দূতাবাসের চাকরি ছে’ড়ে চ’লে যান। পরে তাঁরা কানাডার নাগরিকত্ব নিয়ে সে দেশেই আছেন বলে জানা গিয়েছিল। লে. আবদুল মাজেদ বিদেশ থেকে ঢাকায় এসে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছিলেন। পরে একসময় কারা’গারেও আ’টক ছিলেন। এ সম্পর্কে পরে আর কিছু জানা যায়নি।