প্রচ্ছদ আইন-আদালত “টেকনাফে ‘বন্দু’কযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা সন্ত্রা’সী নূর নি’হত”

“টেকনাফে ‘বন্দু’কযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা সন্ত্রা’সী নূর নি’হত”

26

*টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দু’কযু’দ্ধে’ রোহিঙ্গা সন্ত্রা’সী ও ওমর ফারুক হ’ত্যার প্রধান আসা’মি নূর মোহাম্মদ (৩৪) নি’হত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি এলজি, ১টি থ্রি কো’য়াটার, ১৮ রাউ’ন্ড গু’লি, ২০ রাউ’ন্ড খালি খো’সা উ’দ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি ত’দন্তসহ তিন পুলিশ সদস্য আ’হত হয়েছে বলে দা’বি পুলিশের।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে নূর মোহাম্মদের দেয়া তথ্য মতে, হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা (২৭ নং রোহিঙ্গা ক্যা’ম্প) পাহাড়ে অ’স্ত্র উদ্ধা’রে গে’লেই এ ‘বন্দু’কযুদ্ধে’র ঘট’না ঘ’টে। নিহ’ত নূর মোহাম্মদ জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যা’ম্পের মৃ’ত কালা মিয়ার ছেলে।

*পুলিশ জানায়, ৩১ আগস্ট সকালে ইয়া’বা গডফা’দার, ওমর ফারুক হ’ত্যাসহ একাধিক মা’মলার আসা’মি ও আর’সা বা আল ইয়া’কিনের অন্যতম নেতা নুর মোহাম্মদকে আ’টক করা হয়। তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তার গড়ে তোলা নিজস্ব বা’হিনীর আস্তা’নায় বিপু’ল সংখ্যক অ’স্ত্র ম’জুদ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ওসি ত’দন্ত এবিএস দোহার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘট’নাস্থলে গেলে অপরাপর সন্ত্রা’সীরা নুর মোহাম্মদকে ছি’নিয়ে নেয়ার উদ্দে’শ্যে পুলিশকে ল’ক্ষ্য করে গু’লি ছুঁ’ড়ে। এতে ওসি ত’দন্ত, কনস্টেবল রাশেদল, অন্তর চৌধুরী আ’হত হলে পুলিশ জা’নমাল রক্ষা’র্থে পা’ল্টা গু’লি চা’লায়। বেশ কিছু সময় গু’লি বিনিময় হওয়ার পর ঘট’নাস্থল থেকে ওই সন্ত্রা’সী উগ্র’পন্থী সংগঠনের স্ব’ঘোষিত নেতা নুর মোহাম্মদকে গু’লিবিদ্ধ অব’স্থায় উ’দ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃ’ত ঘো’ষণা করেন।

পুলিশ আরো জানায়, ৪০/৫০ রাউন্ড গু’লি ছোঁ’ড়া হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রা’সী পি’ছু হট’লে ঘট’নাস্থল থেকে ওইসব অ’স্ত্রসহ নূর মোহাম্মদকে গু’লিবিদ্ধ অব’স্থায় উদ্ধা’র করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোর ৫.৫০টায় বন্দু’কযুদ্ধে সন্ত্রা’সী নূর মোহাম্মদ নিহ’ত হয়। তার বি’রুদ্ধে সরকারি অ’স্ত্র লু’ট, হ’ত্যা ও ইয়া’বার মা’মলা রয়েছে। সম্প্রতি ২২ আগস্ট স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হ’ত্যার প্রধান আসা’মি সে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুর’তহাল রিপো’র্ট তৈরির পর মৃ’তদেহ উদ্ধা’র করে পোস্ট’মর্টেমের জন্য ম’র্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাম’লার প্রস্তুতি প্রক্রি’য়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কে এই নূর মোহাম্মদ: ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন। প্রতিটি ক্যা’ম্পে স্ত্রী থাকায় তার আ’ধিপাত্য বিস্তা’রের সহা’য়ক ভূমিকা পালন করে। মোট ৪ জন স্ত্রী রয়েছে তার। রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের মালিকানায় বাংলাদেশে ৪টি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি পাকা ভবন, একটি দু’তলা, একটি টিনের ঘর এবং অপরটি বাগান বাড়ি।

জানা গেছে, কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডা’কাত সর্দা’র নুর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ঠিকানায় বাংলাদেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করেছেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নূর আলম। পিতার নাম কালা মিয়া এবং মাতার নাম সরু বেগম। জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৩ ইংরেজি। এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। তার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাচঁলাইশ, চট্টগ্রাম। তার আইডি কার্ড হওয়ার সং’শ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষু’ব্ধ সচে’তন ম’হল।
সম্প্রতি মেয়ের কান ফোঁ’ড়ানো অনুষ্ঠানে অতিথিদের কাছ থেকে এক কেজি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ নানা উপহার নেওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হলে আলো’ড়ন সৃ’ষ্টি হয় সারাদেশে।