প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে না চাওয়ার নে’পথ্যে”

“রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে না চাওয়ার নে’পথ্যে”

151

*মিয়ানমারের রাখাইনে নিজ নিজ পাড়া, গ্রামে বসবাস ও চলাফেরার ন্যূনতম নি’শ্চয়তা পেলেই ফি’রে যেতে চায় রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট যারা রোহিঙ্গাদের ক্ষ’তি করতে আক’স্মিক তা’ণ্ডব চালিয়েছিল, তাদের হু’মকি এখনো সমা’নতালে ব’হাল রয়েছে। জান’মাল ও নারীদের নিরা’পত্তা নিশ্চ’য়তার অভা’বে সাধারণ রোহিঙ্গারা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মিয়ানমারে ফিরতে পারছে না। এক্ষেত্রে তারা কিছু সুপারিশ তু’লে ধরেছে। যেগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দ্রুত প্রত্যা’বাসন সম্ভব বলে সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস।

*গত ২২ আগস্ট মিয়ানমারের ছাড়পত্র পাওয়া অনেক রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে যেতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নি’রাপত্তার নিশ্চ’য়তা না পাওয়ায় তারা রাজি হয়নি বলে পরিচয় গো’পন রাখার শ’র্তে রোহিঙ্গারা জানায়। গত কয়েক দিন ধরে কেন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাচ্ছে না, সে ব্যাপারে অনুস’ন্ধানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও আশাপ্রদ বক্তব্য ও তথ্য মেলে।

*কারা ফিরতে বা’ধা দিচ্ছে: ২২ আগস্ট দ্বিতীয়বার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ১৯-২২ আগস্ট পর্যন্ত এআরএসপিএইচআর ও আর’সার নি’র্দেশে এআরএসপিএইচআর ও আর’সা নেতা মাস্টার কামাল ও ছৈয়দুল্লাহর নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্যা’ম্প থেকে ৪৫ সদস্যের একটি গ্রুপ পাঠায় নয়াপাড়া, শালবাগান ক্যা’ম্পে। তারা সেখানে গিয়ে সেখানকার আশপাশের ক্যা’ম্পের আ’রসা ও এআরএসপিএইচআর সন্ত্রা’সীদের নিয়ে যাদের প্রত্যা’বাসনের জন্য তা’লিকা এসেছে তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে হুম’কি দেয়।

*তাদেরকে ওরা বলে দেয়, সরকার ও ইউএনএইচসিআরের সাক্ষাৎকারে গিয়ে মিয়ানমারে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় ফিরবে না বলে জানিয়ে দেবে। যেহেতু সাক্ষাৎকারে ইউএনএইচসিআর রয়েছে, সেহেতু রোহিঙ্গাদের কেউ চা’প দিতে পারবে না। যদি কোনো রোহিঙ্গা তাদের নি’র্দেশ অ’মান্য করে, তাহলে তাদের মে’রে ফে’লার হু’মকিও দেয় বলে জানা যায়।

*গত ১৬ আগস্ট ক্যা’ম্প-৫-এর মৌলভী অলি ও রেজিস্টার্ড ক্যা’ম্পের মাস্টার ওসমানের নেতৃত্বে ৭৫ সদস্যের আরসা সন্ত্রা’সীদের দুটি গ্রুপ রাখাইনে পা’ঠায় আর’সা ও এআরএসপিএইচআর নেতারা। তাদের নি’র্দেশ দেয়া ছিল যদি কোনো কারণে ক্যা’ম্প থেকে রোহিঙ্গারা ২২ আগস্ট রাখাইন ফে’রত যায়, তাহলে ক্যা’ম্প থেকে যাওয়া আরসার বিশেষ সন্ত্রা’সী গ্রু’প ফেরত যাওয়াদের খু’ন করবে অথবা গু’লি করে হ’ত্যা করবে।

*প্রতিটি ক্যা’ম্পে আরসার ৯টি করে কমিটি কাজ করছে: আর’সা যেহেতু প্রকাশ্যে ক্যা’ম্পগুলোতে তাদের তৎপ’রতা চালাতে পারে না, সেহেতু আ’রসা তাদের ছায়া নেতৃত্ব এআরএসপিএইচআরের ব্যানারে ৩২টি ক্যা’ম্পে বি’কল্প হিসেবে তাদের ক’র্মকাণ্ড ব’হাল রেখেছে। এআরএসপিএইচআরের যুব ক’মান্ড ভয়েস অব রোহিঙ্গা বা ভিওআর ক্যা’ম্পগুলোতে সব দিক ত’দারক করে থাকে। এআরএসপিএইচআর, ক্যা’ম্প ম্যানেজমেন্ট কমিটি, উইমেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি, ইয়ুথ কমিটি, রিলিজিয়ার্স কমিটি, সমাজ কমিটি, এডুকেশন কমিটি ও ইম্পারমেশন কমিটি প্রতিটি ক্যা’ম্পের প্রতিটি ব্লকে আর’সার হয়ে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি কমিটির সদস্যসংখ্যা ৫১ জনের বেশি। এদের অ’ত্যাচার, হ’ত্যা, খু’ন, গু’ম, অ’পহরণ, চাঁ’দা আদায় প্রভৃতির কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে জা’নের নিরাপ’ত্তার অ’ভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও প্রকাশ করছে না।

*বয়স্ক রোহিঙ্গারা জানান, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর তিন বছর তৎকালীন বার্মা তত্ত্বাধায়ক সরকার জাতিধর্ম-নির্বিশেষে সবাইকে দেশ পুনর্গঠনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। কিন্তু আরাকানের মৌলভিরা বার্মা সরকারের ডাকে সা’ড়া না দিয়ে পাকিস্তানের সাথে থাকার জন্য মুসলিমদের চা’প দেয়।

*১৯৫৪ সালের ৩ জানুয়ারি বার্মার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী উ নু আরাকানের মুসলিমদের রোহিঙ্গা ঘোষ’ণা দেন। ১৯৫৫ সালে সমগ্র বার্মায় পারিবারিক নি’বন্ধন কাজে আরাকানের মুসলিমদের রোহিঙ্গা হিসেবে নি’বন্ধিত হতে বলে। কিন্তু সে সময়ও মৌলভিরা বা’ধা দিয়ে বার্মা মুসলিম লিপিবদ্ধ করতে প্রচা’রণা চালান।

*সে সময় আরাকানের অধিকাংশ রোহিঙ্গা মৌলভিদের কথামতো বার্মা মুসলিম ও ধর্ম হিসেবে ইসলাম নি’বন্ধিত করে। তবে কিছু রোহিঙ্গা মৌলভিদের কথা না মেনে রোহিঙ্গা হিসেবে নি’বন্ধিত হয়। তারা জানান, ক্যা’ম্পে শতকরা ৯০ ভাগ রোহিঙ্গার কাছে যে কাগজপত্র রয়েছে তাতে বার্মা মুসলিম ও ধর্ম হিসেবে ইসলাম উল্লেখ আছে।

*ফিরে যাওয়ার সহজ প্রস্তাব: ক্যা’ম্পগুলোতে বি’চ্ছিন্নভাবে প্রত্যা’বাসন তা’লিকার পরিবর্তে পাড়াভিত্তিক তা’লিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী ফে’রত নেয়া। কারণ আরসার সিদ্ধান্তের বাইরে ক্যা’ম্প থেকে রোহিঙ্গারা ফে’রত গেলে জা’নমালের হুম’কি রয়েছে। ১৯৭৮ ও ১৯৯৩ সালের মতো ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের ট্রানজিট ক্যা’ম্পে না নিয়ে সরাসরি অভ্যর্থনা কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ পাড়া ও গ্রামে যেতে দিতে হবে।

*নিজ উদ্যোগে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি নির্মাণ, মেরামত করে নেবে। অভ্যর্থনা কেন্দ্রে এনভিসি কার্ডের জন্য চাপা’চাপি না করে কয়েক মাস পর যখন নাগরিকত্বের আ’বেদন করবে তখন এনভিসি কার্ড দেয়া যাবে। রোহিঙ্গাদের করা খসড়া ফেরত পারিবারিক ফর্ম ব্যবহার করলে কাজ সহজ হবে বলে তাদের ধারণা। ক্যা’ম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের সমস্ত দোকানপাট, ব্যবসা, সিএনজি, টমটমসহ সব ধরনের ব্যবসা, এনজিওতে রোহিঙ্গাদের চাকরি ব’ন্ধ করা। মিয়ানমারে চলমান সংবিধান সংশোধনে চীন, জাপান, ভারতসহ মিয়ানমারের বন্ধুদেশগুলোকে সে’নাবাহিনীপ্রধানকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। রাখাইনে ফি’রে যা’ওয়া রোহিঙ্গাদের নিরা’পদ পরিবেশ ফি’রে না আসা পর্যন্ত সেখানে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আসিয়ানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ টিমকে তদা’রকির দায়ি’ত্ব দেয়ার প্রস্তা’ব করেন তারা।