প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “সুন্দরী প্রিন্সেস ডায়ানার অন্যরূ’প, কে’লেঙ্কারি ও মৃ’ত্যুরহস্য”

“সুন্দরী প্রিন্সেস ডায়ানার অন্যরূ’প, কে’লেঙ্কারি ও মৃ’ত্যুরহস্য”

33

*আগু’নসুন্দরীর মাথায় রাজমুকুট: সৌন্দর্যে তার সামনে সবই ম্লান হয়ে যেত। ফ্যাশনেবল ডায়ানাকে দেখে প্রেমে পড়েননি এমন বোধহয় কমই ঘ’টেছে। রাজপুত্র চার্লসের ক্ষেত্রেও তাই ঘ’টল। ডায়ানাকে দেখে তার প্রেমে মজেছিলেন চার্লস। আর রাজপুত্রকে কে ফি’রিয়ে দেবে? ডায়ানা শুধু রাজপুত্র চার্লসকেই মুগ্ধ করেননি, নিজেও প্রেমের জলে ভেসেছেন। তারই সূত্র ধরে বিয়ে। ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে বাজে বিয়ের ঘণ্টা। রাজবধূ হয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করেন ডায়ানা। ঘট’না বর্ণ’নায় যত সহজ মনে হোক না কেন, বিষয়টা এমন নয়। কারণ ইতিহাস বলে, ৩০০ বছরের ইতিহাসে প্রিন্সেস ডায়ানা হলেন প্রথমজন যিনি রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে সরাসরি বিয়ে করলেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে কে এই ডায়ানা?

*প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানার জন্ম ১৯৬১ সালে। রাজ পরিবারের সঙ্গে তাদের বেশ লম্বা সময় ধরেই সম্প’র্ক ছিল। বাবা স্পেন্সার আর অষ্টম আর্ল স্পেন্সারের সন্তান ছিলেন ডায়ানা। একাডেমিক পড়াশোনায় সু’বিধা করতে না পা’রলেও নাচ ও ধর্মীয় গানে বেশ পারদর্শী ছিলেন। দানশীলতায় তিনি ছিলেন অগ্রগ’ণ্য। ফ্যাশন আইকন ডায়ানা ছিলেন তার সময়ে সব’চেয়ে বেশিবার ক্যামেরাবন্দী হওয়া সেলিব্রেটি।

*ডায়ানা কা’হিনি: ♦ বিয়ের আগে প্রিন্সেস ডায়ানাকে অনেকে লেডি ডায়ানা নামে ডাকতেন। তখন তার আসল নাম ছিল ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার। এরপর তাকে ‘হার রয়াল হাইনেস দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ বলে ডাকা হয়। কিন্তু রাজপুত্রের সঙ্গে বিবাহ বি’চ্ছেদের পর রানীর একান্ত অনুমতিতে তাকে শুধু দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডাকা হয়।

♦ ডায়ানা শৈশব থেকেই বেশ লা’জুক ছিলেন। শান্তশিষ্ট স্বভাবের কারণে তার মনোযোগ ছিল তী’ক্ষ্ণ। তিনি শাস্ত্রীয় ব্যালে সংগীত এবং নাচ দুটিতেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
♦ গুণের অ’ভাব ছিল না তার তবে প্রচলিত শিক্ষায় সফল হননি। দুবার ‘ও লেভেল’ পরীক্ষা দিয়েও ফে’ল করেন তিনি।
♦ সাত বছর বয়সেই তার বাবা-মায়ের বিয়ে বি’চ্ছেদ ঘটে। এরপর পড়াশোনাতে এগিয়ে যেতে পারেননি। পুরো শৈশব এবং কিশোরজুড়ে ডায়ানা ব্যালে চর্চা করেন। অবশ্য শেষপর্যন্ত তিনি এটি তার পেশা হিসেবে বহন করতে পারেননি। কারণ এ কাজের জন্য বেশ লম্বা ছিলেন। এই উচ্চতার ফলে তার ব্যালে করতে অ’সুবিধা হতো।

♦ ডায়ানা ১৭ বছর বয়সে প্রথম কাজ করা শুরু করেন। তখন আলেকজান্দ্রার আয়া হিসেবে কাজ করেন।
♦ তারপর তিনি একটি প্রাক স্কুলে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তিনি, তার বোন সারাহ এবং তার বেশ কিছু বন্ধুর জন্য কিছু পরিষ্কা’রের কাজেও হাত লাগিয়েছেন। রাজবধূ হওয়ার আগে বিভিন্ন পার্টিতে একজন অতিথি সেবি’কা হিসেবে কাজ করেন।
♦ প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার বিয়ের দৃশ্য ৭৪টি দেশে সম্প্রচার করা হয়। যা ৭৫০ মিলিয়ন মানুষ উপ’ভোগ করেন। ১৬ বছর পরে তার অন্ত্যে’ষ্টিক্রিয়ার সম্প্রচারে ২.৫ বিলিয়ন দর্শকের নজর ছিল।

♦ প্রায় ১০০টি দাতব্য প্রতিষ্ঠান সমর্থন করার কারণে তার মৃ’ত্যুর কয়েক মাস পর তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
♦ যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার প্রিন্সেস ডায়ানাকে ‘পিপলস রাজকুমারী’ শিরোনামে ভূষিত করেন।

ডায়ানার অন্যরূপ: ১৯৮৩ সালের দিকে ডায়ানা একবার জনসম্মুখে বলেন, রাজবধূ হওয়ার পর দায়িত্ববোধ বেশ চাপের। তবে তা মানিয়ে নিতে চে’ষ্টা করছি।
সত্যিই তাই করছিলেন। অনেকেই ডায়ানার জীবনের একটা দিকই কেবল আ’লোচনা করেন। তার সৌন্দর্য, ফ্যাশন আইকন হয়ে ওঠা। রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে আর কে’লেঙ্কারির নানাদিক। তারপর মৃ’ত্যু। তবে এসবের বাইরে ডায়ানা রাজবধূ হিসেবে বেশ দায়িত্বশীল ও ব্যস্ত জীবন কা’টিয়েছেন। দেশ থেকে দেশে রাজবধূ হিসেবে ছু’টে যেতে হয়েছে তাকে। সে তো গেল কাগজে-কলমে ছোটা’ছুটি। বৃত্তের বাইরে এসে তিনি তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সুবি’ধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ছু’টে গেছেন। রাজবধূ বলে নিজের চারপাশে ঐশ্বর্য আর ক্ষম’তার বলয় গড়ে তোলেননি। বিলা’সী জীবনে গা ভাসা’ননি।

১৯৮০ এর মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি মানুষের কাছে ছুটে যেতে শুরু করেন। বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতেন তিনি। মানবসেবায় নিজেকে পুরোপুরি ঢে’লে দিয়েছিলেন ডায়ানা। রাজবধূ হিসেবে যা ছিল অনন্য নজির। তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য সুর’ক্ষার বিষয়ে বেশি মনোযোগী ছিলেন। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার হয়ে তিনি মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উ’দগ্রীব ছিলেন। ডায়ানা রাজবধূ হওয়ার পর বাকি জীবন এই’ডস আক্রা’ন্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এই’ডস বিষয়ক জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যান। একই সময়ে তিনি ‘ভূমি মাইন’ বিষয়েও কাজ শুরু করেন। ডায়ানা আরও কাজ করেছেন গৃহহী’নদের জন্য।

যুবক, মাদ’কাস’ক্তদের নিরা’ময় ও সচেতনতা তৈরিতে তিনি ছিলেন সো’চ্চার। তিনি প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করতেন। দানশীলতার কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেন। দু’স্থ মানুষের কাছে তিনি আশ্র’য়দাত্রী, সেবাদা’ত্রী হয়ে ওঠেন। দরিদ্র, অস’হায় মানুষেরা তাকে ভালোবাসতেন। তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন ওয়েলসের নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি বিষয়ক জাতীয় হাসপাতালের সঙ্গে। এর মাধ্যমে তিনি গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসা প্রদানে বিশেষজ্ঞদের উৎসাহিত করেন। যা পরবর্তীতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। শিশুদের নিয়েও তিনি অনবরত কাজ করে গেছেন। তাদের শিক্ষা প্রদান ও সুস্বা’স্থ্য নি’শ্চিতকরণে ডায়ানা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

অসুস্থ শিশুদের কাছে তিনি নিজে ছুটে যেতেন ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতেন। এই কাজগুলোর সীমানা কিন্তু বা’ধা ছিল না। ডায়ানা সারা পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছু’টে গেছেন। যেখানেই তাকে ডাকা হয়েছে সেখানেই তিনি ছু’টে এসেছেন। মানবসেবায় ডায়ানার এই যাত্রা ছিল অতুলনীয়। দেশ থেকে দেশে তিনি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন। মৃ’ত্যুপথযাত্রী রোগীদের কাছে গিয়ে তাদের আলিঙ্গন করেছেন। ডায়ানা ভারতের কলকাতায় মাদার তেরেসার অ’নাথশালায় এসেছিলেন। ১৯৯৫ সালের দিকে তিনি গোটা মস্কো ছু’টে বেড়ান। এ সময় অস’হায় ও অ’সুস্থ শিশুদের হাসপাতালগুলোতে যান।

ডায়ানা সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হন এই’ডস নিয়ে কাজ করার কারণে। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই’ডস আক্রা’ন্ত রো’গীদের কাছে প্রতিনিয়ত ছু’টে যান। তিনি তাদের সঙ্গে হাত মেলাতেন, জ’ড়িয়ে ধর’তেন। অথচ সে সময় মানুষ এ’ইডস আক্রা’ন্তদের থেকে দূ’রে সরে থাকত, রোগটি ছোঁ’য়াচে ভেবে। তখনো বিশ্ববাসী জানত না এইডস ছোঁ’য়াচে নয়। এইডসের ওষুধ আবিষ্কার, এই’ডস আক্রা’ন্তদের সেবা প্রদান ইত্যাদি কাজের জন্য তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করেন। ১৯৯৭ সালের দিকে আফ্রিকায় ছু’টে গিয়েছিলেন এ নিয়ে কাজ করতে। নেলসন মেন্ডেলার সঙ্গে তিনি দেখা করেন ও এইডস রো’গীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি দান করেন। এ ছাড়া ডায়ানা ছিলেন হলো (এইচএ এল ও) ট্রাস্টের একজন কর্মী। এই সংস্থার মাধ্যমে তিনি ভূমি মা’ইন বিষয়ক প্র’চারণা চালা’ন। ভূমি মা’ইনগুলো স’রিয়ে নিতে, নিরাপদ চলা’চল নিশ্চিত করতে ডায়ানা বছরের পর বছর কাজ করে যান। গৃ’হহীনদের আবাস গড়ে দিতে ডায়ানা যোগ দিয়েছিলেন ‘সেন্টারপয়েন্ট’-এর সঙ্গে।

প্রেম, বিয়ে তারপর… কেলে’ঙ্কারি: প্রিন্স চার্লস আর ডায়ানার প্রণয় কা’হিনি বিশ্বজুড়ে বহুল আ’লোচিত ছিল। না হয়ে উপায় নেই। রাজপুত্রের প্রেম বলে কথা। তাও আবার এমন একজনের সঙ্গে যার সৌন্দর্যে ডুবে রয়েছে গোটা পৃথিবী। ১৯৭৫-এ স্যানড্রিংহ্যামে থাকার সময়েই দুটি পরিবার পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হয়। তারপর একাধিকবার তার সঙ্গে চার্লসের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখান থেকেই প্রেম জ’মে ওঠে। খবরটি চা’পা থাকেনি। প্রিন্স চার্লস আর প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ের কথা তখন ফ’লাও করে প্রচার করে বিশ্বের প্রভা’বশালী সব গণমাধ্যম। কিন্তু রাজপরিবারেই তখন নানাকা’ণ্ড। এ খবর তো বেশ চা’উর হয়ে ওঠে যে রানী এলিজাবেথ এই বিয়েতে সা’য় দিচ্ছেন না! অবশ্য শেষপর্যন্ত গু’ঞ্জন সত্যি হলো না।

রানী এলিজাবেথ বিয়ের অনুমতি দিলে তো’ড়জোড় শুরু হয়। সে সময় প্রিন্স চার্লসের বয়স ছিল ৩২ আর প্রিন্সেস ডায়ানার বয়স ২০। রাজকীয় বিয়ে বলে কথা। বিয়ে হয় লন্ডনের সেন্ট পল ক্যাথিড্রাল চার্চে, ২৯ জুলাই ১৯৮১। এই বিয়ে গোটা বিশ্বের নজর কা’ড়ে। সারা পৃথিবীর রেডিও ও টেলিভিশনে খবরটা সম্প্রচারিত হয়। হাজার হাজার লোক ক্যাথিড্রাল থেকে বাকিংহাম প্রাসাদের সামনে হাজির হন। বিশ্বের প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ টেলিভিশনের সামনে বসে দেখেন এই রাজকীয় বিয়ে। স’র্বত্র ছ’ড়িয়ে পড়ে রাজ পরিবারে বিয়ের উৎসব। রাজকীয় জাহাজ ব্রিটানিয়াতে চ’ড়ে হানিমুন করলেন তারা। এরপর দিন পেরোতে থাকল। কিন্তু সময় চলতে চলতে সম্পর্কের টানাপো’ড়েন দেখা দিল। শুরুর দিকে মানিয়ে চলা তারপর বা’ড়ল তিক্ত’তা। বাজারে মুখ’রোচক খবরের অ’ভাব হয় না। কেউ কেউ বলতে থাকল ভালো নেই এই দম্পতি।

প্রিন্স চার্লস নাকি আজকাল ডায়ানাকে সময় দেন না। এ নিয়ে ভিতরে ভিতরে কল’হ বাধছিল। দুজনের মধ্যে দূরত্ব বা’ড়তে থাকল। প্রিন্সেস চার্লসের দিকে যখন অপ’রাধী হওয়ার আঙ্গুল ওঠে তখন ডায়ানাকে জ’ড়িয়েও কথা ওঠে। দুজনেই দুজনকে সন্দে’হ করতে থাকলেন। এভাবে কে’টে যায় প্রায় সাত বছর। দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম আর হ্যারির জন্মের পর তিক্ত’তা আসে তাদের সম্প’র্কে। ১৯৮৯ সালের প্রথম দিকের ঘট’না।

সাইরিল রিনান নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং জেন নরগোভ নামে আরেকজন মিলে গোপ’নে আ’ড়ি পেতে ডায়ানা ও জেমস গিলাবের কথাবার্তা রেক’র্ড করেন। গিলাব ছিলেন ডায়ানার বিয়ে-পূর্ব জীবনের বয়ফ্রেন্ড। আর এই কথোপকথনটি ওই সময়ের। ক্যাসেট প্রকাশের পর সারা বিশ্বে আ’লোড়ন ওঠে। কেঁ’পে ওঠে রাজপ্রাসাদও। তবে উল্টো প্রিন্স চার্লস নিজেও একেবারে অভি’যোগহীন ছিলেন না। তাকে ঘি’রেও কেলে’ঙ্কালি ছ’ড়ায়। স্ত্রীকে পাশে রেখেই চু’টিয়ে প্রেম করে যাচ্ছিলেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী ক্যামিলা পার্কারের সঙ্গে। বিষয়টি টের পেয়েছিলেন ডায়ানা। ডায়ানা গিলাবে সংলাপের দুই সপ্তাহ আগের ঘ’টনা এটি। ডায়ানা গিলাবের সংলাপ ছিল প্রেমাকু’তিতে ভ’রা। কিন্তু চার্লস আর ক্যামিলার কথোপকথন ছিল যৌ’নাবেদনে ভরপু’র।

এসব নিয়ে সংসার আর চলছিল না। ঘরে অ’শান্তি, বাইরে মিডিয়ার বাড়াবা’ড়ি। সব মিলিয়ে তাদের একসঙ্গে সংসার করা কঠিন হয়ে ওঠে। ১৯৯২ সালের ৯ ডিসেম্বর ডায়ানা ও চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা থাকার ঘোষ’ণা দেন।
এরপর আর রাজবধূ নন ডায়ানা। ব্যক্তি জীবনে প্রেমের খোঁ’জ হয়তো করেছেন। সে নিয়ে মিডিয়ার মাথাব্য’থা কম ছিল না। বিয়ে বি’চ্ছেদ ঘটানোর পর ডায়ানার সঙ্গে এক মিসরীয় ধনকুবেরের প্রেমের কথা জানা’জানি হয়। তাদের ছুটি কাটাতে গিয়ে অন্ত’রঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব মিডিয়া। মিসরীয় ধনকুবেরের নাম দোদি আল ফাহাদ। পাপারা’জ্জিদের তা’ড়া খেয়ে গাড়ি দুর্ঘট’নায় ডায়ানার সঙ্গে দোদি আল ফাহাদও মা’রা যান।

আজও অমী’মাংসিত মৃ’ত্যুরহস্য: ক্যামেরার চোখ সব সময় খুঁ’জত ডায়ানাকে। যেখানেই যেতেন সেখানেই ওত’পেতে থাকা ক্যামেরাম্যানদের আলোর ঝলক চোখ ধাঁ’ধিয়ে দিত ডায়ানা। এই ক্যামেরা অত্যা’চার চা’লাত পাপা’রাজ্জিরা। তারাই ডায়ানার ব্যক্তিগত জীবন অ’তিষ্ঠ করে তুলে’ছিলেন। বছরের পর বছর ডায়ানাকে তা’ড়া করে ফি’রছিলেন তারা। রাজবধূ হওয়ার পর থেকে শুরু। বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য ক’র্মকাণ্ডে দেশে দেশে ছু’টে ফি’রতেন ডায়ানা। আর তার গ্ল্যামার, সৌন্দর্য ছিল ক্যামেরাম্যানদের কাছে হটকেক। এরই মাঝে বিয়ের আগের বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ডায়ানার প্রেমময় ফোনালাপ ফাঁ’স।

এক পর্যায়ে বিয়ে বি’চ্ছেদ। আবার নতুন করে প্রেমে জ’ড়াচ্ছেন, একান্তে কারও সঙ্গে সময় কাটা’চ্ছেন— এসব গু’জব তাড়া করেছে তাকে। বিয়ের পর ডায়ানা কার সঙ্গে প্রেম করছেন, তার ব্যক্তি’গত জীব’নের ছবি তুলতে ম’রিয়া হয়ে ওঠে পাপারা’জ্জির দল। ততদিনে বাজারে খবর আসতে শুরু করে ডায়ানা এক ধনকুবের দোদি আল ফাহাদের সঙ্গে প্রেম করে বে’ড়াচ্ছেন। সমুদ্র সৈকতে তাদের দুজনের ছবি প্রকা’শের পর পাপা’রাজ্জিদের চোখ ফাঁ’কি দিতে লোকচ’ক্ষুর অন্ত’রালে থাকার চেষ্টা ছিল ডায়ানার। তবে শেষ র’ক্ষা হয়নি।

১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট পা’পারাজ্জিদের তা’ড়া খে’য়ে পালা’নোর চে’ষ্টা করেন ব্রিটেনের সুন্দরী রাজপুত্রবধূ ডায়ানা ও তার প্রেমিক। ডায়ানা ও দোদি কালো রঙের মার্সিডিজ এস২৮০ গাড়িতে ছিলেন। প্যারিসের রিজ হোটেল থেকে বের হয়ে দ্রু’ত গতিতে গাড়ি ছোটান গাড়ি চালক। গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন হোটেলটির নিরাপত্তা বিভাগের উপ প্রধান হেনরি পল। প্যারিসের পন্ট-ডি-আলমা রোড টানেল পার হওয়ার সময় দু’র্ঘটনা ঘটে। দোদি-ডায়ানাকে বহনকারী মার্সিডিজ গাড়িটি ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে আ’ঘাত করে টানেলের ১৩তম স্তম্ভকে। কংক্রিটের এ স্তম্ভের সঙ্গে ধা’ক্কা খা’ওয়ার পরি’ণামে গাড়িটি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। গাড়িটি দু’মড়ে-মুচ’ড়ে যায়। দুর্ঘ’টনায় প্রা’ণ হারা’ন প্রিন্সেস ডায়ানা, তার বন্ধু দোদি ও গাড়িচালক হেনরি পল।

ডায়ানার মৃ’ত্যুর পরই নানা র’হস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যপ্রমাণ বলছে, সড়ক দুর্ঘট’নায় বন্ধু দোদি আল-ফাহাদসহ তার মৃ’ত্যু হয়েছিল। কিন্তু স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের হাতে আসা কিছু তথ্য বলছে, হত্যা’কাণ্ডের শি’কার হয়েছিলেন আলোচিত এই রাজবধূ। বিবিসি, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ এ ধরনের ই’ঙ্গিত দেয় এমন বেশ কয়েকটি খবর প্রকাশ করে। দোদির বাবা মোহাম্মদ ফায়েদও চে’ষ্টা করেছিলেন ওই দুর্ঘ’টনাটিকে হ’ত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণের।

ফরাসি পুলিশ দা’বি করেছিল, গাড়ি চালক হেনরি পল মা’ত্রাতিরিক্ত ম’দ খে’য়ে গাড়ি চা’লাচ্ছিলেন। তবে সে অভিযোগের বিপক্ষে দাঁ’ড়ায় দোদির পরিবার। এ ছাড়া প্রশ্ন রয়েছে আরও নানা বিষয়ে। যেমন র’হস্যজনকভাবে কখোনই মার্সিডিজ কোম্পানি দুর্ঘট’নায় ক্ষ’তিগ্রস্ত গাড়িটির ধ্বং’সাবশেষ পরী’ক্ষা করেনি। মারাত্ম’কভাবে আ’হত ডায়ানাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে ৭৫ থেকে ৯৫ মিনিট লেগেছে। প্যারিসের ব্যস্ত মু’হূর্তে দুর্ঘট’নাস্থল থেকে এ হাসপাতালে পৌঁ’ছাতে বড়জো’র ১১ মিনিট লাগার কথা। তাছাড়া মৃ’ত্যুর কয়েক মাস আগে বিবিসির প্যানোরমা অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ক’ঠোর সমা’লোচনা করেছিলেন ডায়ানা। তার সঙ্গে এই দুর্ঘ’টনার সম্প’র্ক রয়েছে কিনা এমন সংশ’য় পো’ষণ করেন অনেকে। তবে এ সবই ধার’ণাপ্রসূত আ’শঙ্কা। ডায়ানার মৃ’ত্যু হ’ত্যা নাকি নিছকই দুর্ঘট’না তা আজও রহ’স্যই রয়ে গেছে। ডায়ানার মৃ’ত্যুর পর ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এই র’হস্যের স’মাধান হয়নি।