প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “মন্ত্রিসভার আরেকদফা র’দবদল হচ্ছে সেপ্টেম্বরে”

“মন্ত্রিসভার আরেকদফা র’দবদল হচ্ছে সেপ্টেম্বরে”

192

*প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কে যাওয়ার আগেই মন্ত্রিসভার একটি রদ’বদল হতে পারে বলে আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই রদ’বদলে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনার ব্যাপারে গু’ঞ্জন রয়েছে। এই র’দবদলে কোনো মন্ত্রী বা’দ পড়বেন কিনা সে ব্যাপারে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে মন্ত্রিসভার র’দবদল একটি রুটিন ওয়ার্ক। এটি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত এখতি’য়ারভূক্ত বিষয়। কাজেই তিনি কখন কোন বিবেচনায় র’দবদল করবেন সেটি তাঁর বিষয়।

*সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা র’দবদলের বিষয়ে ই’ঙ্গিত দিয়েছেন। ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পর থেকেই এ পর্যন্ত মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিজেই পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালো’চনা করেছেন। এর ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

*আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অন্তত দুইজন নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১৪ দলের শরীকদেরকে মন্ত্রিসভা থেকে বা’দ দেওয়ার যে নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ এগোচ্ছিল, সেই নীতি থেকেও দলটি বেরিয়ে আসবে বলেও জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনা প্রবাহের কারণে এখন ১৪ দলের মধ্যে যেন কোনো অস্বস্তি বা অশা’ন্তি তৈরি না হয় সেদিকে সরকার মনোযোগ দিচ্ছে। এই বিবেচনা থেকেই ১৪ দলের শরীকদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।

*একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি আনার জন্য মন্ত্রী পরিবর্তন বা সেই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কয়েকজন মন্ত্রীর পারফরমেন্স অত্যন্ত ভালো হওয়ার কারণে তাদেরকে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা বলেছেন যে, সরকারের আকার অনেক বড় হয়েছে, সরকারের কর্মকা’ণ্ডের ব্যা’প্তি বেড়েছে। কাজেই এই সময়ে মন্ত্রীসভার পরিধি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন। বিশেষ করে দেশে অনুপস্থিত থাকার সময় তিনি বাইরে থেকে সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন।

*এখানে তার মূল্যায়ন হচ্ছে যে, সরকারের কাজে গতিশীলতা আনা প্রয়োজন। সরকারে গতিশীলতা আনতেই মন্ত্রিসভার রদবদলটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একইসঙ্গে দলকে শক্তিশালী করা এবং দলকে গতিশীল করার জন্য তৃণমূলের যেসমস্ত নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চি’ত রয়েছেন, যারা কিছু পাননি তাঁদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে শেষপর্যন্ত মন্ত্রিসভার রদব’দলের অবয়ব কি হবে বা কতটুকু কি পরিবর্তন হবে এ বিষয়টি সম্বন্ধে স্পষ্ট চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি। সরকারের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা বলেছেন যে, মন্ত্রিসভার র’দবদলের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হোমওয়ার্ক করছেন এবং আগস্ট মাস শো’কের মাস, শো’কের মাস পেরোলেই মন্ত্রিসভার আরেকদফা রদবদল হবে।
উল্লেখ্য, ৭ই জানুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় দুদফা ছোট পরিবর্তন হয়েছিল। এবারও মন্ত্রিসভার পরিবর্তন ছোট হবে নাকি সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।